স্টাফ রিপোর্টার: রাজধানীর খিলক্ষেত থানা এলাকায় সরকারি দায়িত্ব পালনকালে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের ওপর অতর্কিত হামলা ও কর্তব্যকাজে বাধা দেওয়ার অভিযোগে বিএনপি নেতা মিজানুর রহমান রেনু (৫২)সহ বেশ কয়েকজনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে। খিলক্ষেত থানায় দায়ের করা পুলিশের এই বিশেষ এজাহারে মিজানুর রহমান রেনুকে হামলার মূল নেতৃত্বদানকারী ও অন্যতম প্রধান পলাতক আসামি হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
এই হামলায় ল্যান্স কর্পোরাল মো. ইসরাইল হোসেন এবং কনস্টেবল মাহবুবুল হোসেন তপনসহ বেশ কয়েকজন পুলিশ সদস্য গুরুতর জখম হয়েছেন। ঘটনার পরপরই পুলিশ অভিযান চালিয়ে মো. সাজু (২৯) নামের এক আসামিকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হলেও, বিএনপি নেতা মিজানুর রহমান রেনু ও অন্য অভিযুক্ত বাবলু (৩৮) সহ অজ্ঞাতনামা আরও ৭/৮ জন আসামি বর্তমানে পলাতক রয়েছেন।
এজাহার ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত ১২ অক্টোবর খিলক্ষেতের নিকুঞ্জ-২ এলাকার ১ নং রোডের একটি বাসার সামনে এসআরবি-১, সিপিসি-১ এবং এমসিসি-এর একটি যৌথ দল নিয়মিত টহল ডিউটি করছিল। দুপুর সোয়া ২ টায় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে একটি মাদক মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত ও পলাতক আসামি সিরাজুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করতে অভিযান চালায় পুলিশ।
অভিযান চলাকালীন পুলিশ সদস্যরা যখন স্থানীয় এক ব্যক্তির সামনে আসামিকে জিজ্ঞাসাবাদ করছিলেন, তখন মিজানুর রহমান রেনুর নেতৃত্বে একদল লোক লাঠিসোঁটা ও লোহার রড নিয়ে অতর্কিতে পুলিশের ওপর চড়াও হয়। তারা পুলিশ সদস্যদের কর্তব্যকাজে তীব্র বাধা সৃষ্টি করে এবং "ডাকাত-ডাকাত" বলে চিৎকার করে স্থানীয় সাধারণ জনতাকে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর বিরুদ্ধে উত্তেজিত করার চেষ্টা করে।
হামলাকারীরা ল্যান্স কর্পোরাল মো. ইসরাইল হোসেনকে লক্ষ্য করে এলোপাতাড়ি মারধর করে এবং কনস্টেবল মাহবুবুল হোসেনের মাথায় লোহার রড দিয়ে আঘাত করার চেষ্টা করে। কনস্টেবল মাহবুবুল হাত দিয়ে আঘাত ঠেকাতে গেলে তার ডান হাতের কনুই ভেঙে যায়। পরবর্তীতে অতিরিক্ত পুলিশ ফোর্স দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছালে হামলাকারীরা পালিয়ে যায়।
আহত পুলিশ সদস্যদের উদ্ধার করে তাৎক্ষণিকভাবে কুয়েত-বাংলাদেশ মৈত্রী সরকারি হাসপাতালে পাঠানো হয়। এই ঘটনায় খিলক্ষেত থানায় দণ্ডবিধির (পেনাল কোড) ১৪৩/১৮৬/৩৩২/৩৩৩/৩৫৩/৩০৭ ধারায় সরকারি কাজে বাধা, আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর ওপর হামলা ও হত্যার উদ্দেশ্যে গুরুতর আঘাতের অপরাধে মামলাটি রুজু করা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, প্রধান আসামি মিজানুর রহমান রেনুসহ পলাতক অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে চিরুনি অভিযান চালানো হচ্ছে।
উল্লেখ্য যে মিজানুর রহমান এর বিরুদ্ধে এর আগেও একাদিক মাদক, জমি দখল ও চাদাবাজির অভিযোগ রয়েছে। তার বৈধ কোন ব্যবসা না থাকলেও রাতারাতি তিনি হাজার কোটি টাকার মালিক বনে গেছেন।
রিপোর্টার্স২৪/ধ্রুব