| বঙ্গাব্দ
Space For Advertisement
ad728

১৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে শালুক, ফিরছে শৈশবের স্মৃতি

reporter
  • আপডেট টাইম: অক্টোবর ১৫, ২০২৬ ইং | ১৬:১৭:০৮:অপরাহ্ন  |  ৭৭৮ বার পঠিত
১৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে শালুক, ফিরছে শৈশবের স্মৃতি

ফরিদপুর প্রতিনিধি: শরতের নীল আকাশ, সাদা মেঘের ভেলা আর জলাশয়ের সবুজ পাতার ফাঁকে উঁকি দেওয়া শালুক—প্রকৃতির চিরচেনা এই দৃশ্য ও স্বাদ ফিরিয়ে আনছে গ্রামবাংলার হারিয়ে যাওয়া শৈশবের স্মৃতি। একসময় গ্রামের খাল-বিল, পুকুর ও ডোবা থেকে সহজেই সংগ্রহ করা যেত এই দেশজ জলজ ফল। সময়ের পরিবর্তনে সেই শালুক এখন জায়গা করে নিয়েছে হাটবাজারের বিক্রির ঝুড়িতে। ফরিদপুরের বোয়ালমারীতে বর্তমানে প্রতি কেজি শালুক বিক্রি হচ্ছে ১৫০ টাকা দরে।

ফরিদপুরের বোয়ালমারী, আলফাডাঙ্গা, মধুখালী, সালথা ও নগরকান্দাসহ বিভিন্ন এলাকার হাটবাজারে দেখা মিলছে মৌসুমি এই জলজ ফলের। শালুক কিনতে বাজারে ভিড় করছেন বিভিন্ন বয়সী মানুষ। কারও কাছে এটি প্রিয় খাবার, আবার কারও কাছে শালুকের স্বাদ মানেই ফেলে আসা শৈশবের স্মৃতিতে ফিরে যাওয়া।

বোয়ালমারী সোনালী ব্যাংকের সামনে শালুক বিক্রি করছিলেন রহমত শেখ। তাঁর ঝুড়িতে সাজানো শালুক দেখে পথচারীদের অনেকেই থমকে দাঁড়াচ্ছেন। কেউ কিনছেন নিজের জন্য, কেউবা পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে ভাগ করে নিতে চাইছেন শৈশবের চেনা স্বাদ।

বিক্রেতা রহমত শেখ জানান, শালুকের মৌসুমে ক্রেতাদের আগ্রহ থাকে। তবে জলাশয় থেকে শালুক সংগ্রহ করতে যথেষ্ট সময় ও পরিশ্রম করতে হয়। বর্তমানে তিনি প্রতি কেজি শালুক ১৫০ টাকা দরে বিক্রি করছেন।

শালুক কিনতে আসা বাবুল শেখ বলেন, “শালুক দেখলেই ছোটবেলার কথা মনে পড়ে যায়। আগে গ্রামে খাল-বিল থেকে শালুক সংগ্রহ করতে দেখেছি। এখন বাজার থেকে কিনে খেতে হয়। দাম কিছুটা বেশি হলেও পুরোনো দিনের স্বাদ ফিরে পেতে শালুক কিনতে ইচ্ছে করে।”

শালুকের সঙ্গে গ্রামবাংলার ঐতিহ্য ও শৈশবের স্মৃতির সম্পর্ক তুলে ধরেন বোয়ালমারী উপজেলার ময়না সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের অবসরপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক কালিপদ চক্রবর্ত্তী।

তিনি বলেন, “শালুক আমাদের গ্রামবাংলার প্রকৃতির এক অনন্য উপহার। একসময় বর্ষার জল আর গ্রামের জলাশয় ঘিরেই ছিল আমাদের শৈশবের অনেক আনন্দ। শালুকের সঙ্গে জড়িয়ে আছে সেই দিনগুলোর স্মৃতি, মাটির গন্ধ আর গ্রামীণ জীবনের সরলতা। আজ বাজারে টাকা দিয়ে শালুক কিনতে হলেও এর স্বাদ আমাদের শিকড়ের কথা মনে করিয়ে দেয়। নতুন প্রজন্মের কাছে শালুকের মতো দেশজ উপাদানের পরিচয় তুলে ধরা জরুরি। কারণ, এগুলোর মধ্যেই লুকিয়ে আছে আমাদের ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির অনেক গল্প।”

একসময় প্রকৃতি থেকে সহজেই পাওয়া গেলেও এখন শালুক সংগ্রহ ও বিক্রির সঙ্গে যুক্ত হয়েছে শ্রম ও অর্থের হিসাব। জলাশয়ের প্রাপ্যতা, সংগ্রহের পরিশ্রম এবং মৌসুমি সরবরাহের ওপর নির্ভর করে এর দাম ওঠানামা করতে পারে। তবু শালুকের প্রতি মানুষের আগ্রহ বলে দিচ্ছে, গ্রামীণ জীবনের সঙ্গে মিশে থাকা দেশজ খাবারের আবেদন এখনো ফুরিয়ে যায়নি।

শরতের বাজারে শালুকের উপস্থিতি তাই শুধু কেনাবেচার গল্প নয়; এটি গ্রামবাংলার প্রকৃতি, ঐতিহ্য ও স্মৃতিরও প্রতিচ্ছবি। জলাশয়ের সবুজ পাতার আড়াল থেকে বাজারের ঝুড়িতে উঠে আসা শালুক মনে করিয়ে দেয়—সময় বদলায়, জীবন বদলায়, কিন্তু শৈশবের সঙ্গে জড়িয়ে থাকা চেনা স্বাদ ও মাটির গন্ধ মানুষের হৃদয়ে থেকে যায় আজীবন।

রিপোর্টার্স২৪/রাফিদ

ad728

নিউজটি শেয়ার করুন

ad728
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ রিপোর্টার্স২৪ - সংবাদ রাতদিন সাতদিন | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় ক্রিয়েটিভ জোন ২৪