সিনিয়র রিপোর্টার : বিভিন্ন দাবীতে সচিবালয়ে প্রবেশ করে বিক্ষোভ করে শিক্ষার্থীরা। এসময় প্রায় ১০টি গাড়ি ভাঙচুর করে তারা। পরে পুলিশের লাঠিচার্জ করে তাদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়। এর পর সচিবালয়ের সামনে শুরু হয় পুলিশের সঙ্গে শিক্ষার্থীদের ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া। এতে পুলিশ, সেনাবাহিনী ও ছাত্রসহ প্রায় শতাধিক আহত হন।এই ঘটনায় সচিবালয়ে থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, মঙ্গলবার বেলা আড়াইটার দিকে রাজধানীর বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে সচিবালয়ের সামনে এসে জড়ো হন শিক্ষার্থীরা। এসময় শিক্ষা উপদেষ্টা, শিক্ষাসচিবের পদত্যাগ ও এইচএসসি পরীক্ষার সময়সূচি নিয়ে রাত ৩টায় সিদ্ধান্তের ঘটনায় ক্ষুব্ধ হয়ে সচিবালয়ের প্রধান ফটকের সামনে বিক্ষোভ করে শিক্ষার্থীরা। এর জেরে সচিবালয়ের সব প্রবেশপথ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। এতে সচিবালয়ের সামনে সড়ক হয়ে সব ধরনের যান চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা আরও জানায়, বিকেল ৩টা ৪০ মিনিটের সচিবালয়ের ১ নম্বর গেটের সামনে অবস্থান নেওয়া শিক্ষার্থীরা গেট ভেঙ্গে ভেতরে ঢুকে পড়েন। এরপর তারা সচিবালয়ে অবস্থানরত সরকারি গাড়ির কাঁচ ভাঙচুর করেন। এ ধরনের ঘটনার পর আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা অ্যাকশনে যান এবং শিক্ষার্থীদের লাঠিপেটা করে ছত্রভঙ্গ করে দেন। এরপর সচিবালয়ের সামনে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর আবারও শুরু হয় ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া। এ সময় সাউন্ড গ্রেনেড ছোড়ার শব্দ শোনা গেছে। এ ছাড়া কাঁদানে গ্যাসের শেলও ছোড়া হয়েছে।
বিক্ষোভে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীরা বলেন, বিমান বিধ্বস্ত হয়ে মাইলস্টোন কলেজের অনেক শিক্ষার্থী মারা গেছে। এমন দুঃখজনক ঘটনার পরও পরীক্ষা স্থগিত করা হয়নি। হঠাৎ করে রাত ৩টার সময় সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সকালে পরীক্ষা দিতে বের হয়ে জানতে পারি পরীক্ষা স্থগিত হয়েছে। এমন দায়িত্বহীন সিদ্ধান্তের জন্য আমরা শিক্ষা উপদেষ্টা ও সচিবের পদত্যাগ চাই।
এদিকে সচিবালয়ের সামনের গেটে বিক্ষোভ বাড়তে থাকায় আগে থেকেই সেখানে মোতায়েন করা হয় সেনাবাহিনী, পুলিশ ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অন্য সদস্যদের। কিন্তু একপর্যায়ে শিক্ষার্থীদের ধাক্কায় গেট খুলে যায় এবং তারা সচিবালয়ে প্রবেশ করেন।
রিপোর্টার্স২৪/আরএইচ