রিপোর্টার্স২৪ ডেস্ক : বগুড়ায় করতোয়া নদীর ১২৩ কিলোমিটারের মধ্যে ২৮ কিলোমিটার পুনখনন এবং শহর অংশে নদীর ডান তীরে (জেলা প্রশাসকের কার্যালয় থেকে এসপি ব্রীজ পর্যন্ত) ৭৩০ মিটার স্লোপ প্রটেকশন, ওয়াকওয়ে নির্মাণসহ সৌন্দর্যবর্ধন করায় বদলে গেছে নদীর রূপ। প্রাণ ফিরেছে নদীটির। অথচ এই নদীটি প্রায় দু-বছর আগেও ছিল দখল, দূষণ, বিভিন্ন কারনে ভরাট হয়ে সরু খালে রূপে। জনগণের জন্য পুরোপুরি উন্মুক্ত না করা হলেও এখন দর্শনার্থীদের ভীড় বাড়ছে।
বগুড়া পানি উন্নয়ন বোর্ড সুত্রে জানা গেছে, ২০২৩ সালে প্রায় ৪৭ কোটি ১৩ লাখ টাকা ব্যয়ে করতোয়া নদীর ১২৩ কিলোমিটারের মধ্যে ২৮ কিলোমিটার নদী এবং ২৭ কিলোমিটার সুবিল ও অটো খাল পুনঃখনন, বগুড়া জেলা প্রশাসকের কার্যালয় ও তৎসংলগ্ন এলাকায় করতোয়া নদী পুনঃখনন ও ডানতীরে স্লোপ প্রটেকশন কাজ (১ম সংশোধিত) শীর্ষক প্রকল্পটি অনুমোদন পায়। নদীর নাব্যতা ফিরিয়ে আনা, দখল-দুষণ থেকে নদীকে রক্ষা করা, নদী পুনরুজ্জীবিত করা, অগ্নি নির্বাপনে পর্যাপ্ত পানি সরবরাহ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে প্রকল্পটির কাজ শুরু হয়। যা সম্প্রতি শেষ হয়েছে। তবে সৌন্দর্যবর্ধনের কাজ শেষ পর্যায়ে রয়েছে। এখন রংয়ের কাজ বাকি রয়েছে।
পানি উন্নয়ন বোর্ড বগুড়ার উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী মোঃ হুমায়ুন কবির জানান, বগুড়া শহর অংশে ৭৩০ মিটারে পেভিং টাইলস, এস এস রেলিং, আরসিসি ছাতা ও ব্রেঞ্চ, আরসিসি ঢালাই ড্রেন, সোলার লাইট বসানোর কাজ সম্পন্ন হয়েছে। আরসিসি ছাতায় রং করতে হবে। এছাড়া এর আগেই সম্পন্ন হয়েছে স্লোপ প্রটেকশন। এর ফলে এখন প্রতিদিন বিভিন্ন শ্রেণিপেশার মানুষ করতোয়া নদীর তীরে এসে প্রকৃতির সৌন্দর্য খুঁজে পাচ্ছেন।
ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান মেসার্স হুমায়রা ফাহমিদা এর প্রোঃ হুমায়ুন কবির জানান, প্রকল্পটির কাজ শেষ হলেও আগামী দুই বছর যেকোন ধরণের সমস্যা হলে তা সংস্কার বা মেরামত করে দেওয়া হবে। তিনি সিগারেটের প্যাকেট, প্লাস্টিক পলিথিন ও সকল প্রকার ময়লা আবর্জনা নদীর তীরে ও নদীতে না ফেলার জন্য সকলের প্রতি অনুরোধ জানিয়েছেন।
পানি উন্নয়ন বোর্ড বগুড়া বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ নাজমুল হক জানান, নদীর পুনঃখনন কাজ অনেক আগেই শেষ হয়েছে। খুব শিগগির নদী তীরের ওয়াকওয়ে ও সৌন্দর্যবর্ধনের উদ্বোধন করা হবে এবং জনগণের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হবে। তিনি বলেন, বগুড়া শহরের মাটিডালি থেকে বনানী নদীর উভয় পাশে ৩২ কিলোমিটার স্লোপ প্রটেকশন, ওয়াকওয়ে নির্মণসহ সৌন্দর্যবর্ধনের জন্য প্রায় এক হাজার ২৬০ কোটি টাকার একটি প্রকল্প পাঠানো হয়েছে। প্রকল্পটি অনুমোদন পেলে নদীর উভয় তীর দিয়ে মানুষ হাটতে পারবেন। উপভোগ করতে পারবেন সৌন্দর্য।
রিপোর্টার্স২৪/এসএন