ইসরায়েলের বিরুদ্ধে ইরানিদের বিজয় হয়েছে দাবি করে দেশটির সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ খামেনি বলেন, মিথ্যাবাদী জায়নবাদী শাসনের বিরুদ্ধে বিজয়ের জন্য আমি অভিনন্দন জানাই। আজ (২৬ জুন) বৃহস্পতিবার তার তৃতীয় ভিডিও বার্তায় আয়াতুল্লাহ খামেনি বলেন, 'এত হম্বিতম্বি ও অহংকার সত্ত্বেও ইরানের আঘাতে ইসরায়েলের শাসনব্যবস্থা প্রায় ধ্বংস ও চূর্ণবিচূর্ণ হয়ে গিয়েছে।'
ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতোল্লাহ আলী খামেনি বলেছেন, তেহরান কারও ক্ষতি করেনি এবং "কোনও পরিস্থিতিতেই কারও আগ্রাসন" মেনে নেবে না। সোমবার রাতে সামাজিক মাধ্যম এক্স-এ দেয়া এক পোস্টে একথা বলেছেন তিনি।
লেবাননের ইসলামপন্থী রাজনৈতিক দল ও সশস্ত্র সংগঠন হিজবুল্লাহ’র মহাসচিব শেখ নাইম কাসেম বলেছেন, ‘ইসরায়েলি শাসনব্যবস্থা এবং মার্কিন আগ্রাসনের বিরুদ্ধে ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরান বিজয়ী হবে।’
ইরানের বিরুদ্ধে সাম্প্রতিক মার্কিন পদক্ষেপের প্রতিক্রিয়ায় ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর প্রধান মেজর জেনারেল আবদুর রহিম মুসাভি বলেছেন, ইরানের পারমাণবিক স্থাপনাগুলির ওপর মার্কিন হামলার ‘আনুপাতিক জবাব’ দেওয়া হবে।
সিরিয়ায় অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে মর্টার হামলা চালানো হয়েছে। ইরানের সংবাদ সংস্থা মেহের নিউজের এক খবরে বলা হয়েছে সোমবার (২৩ জুন) সিরিয়ায় একটি মার্কিন ঘাঁটিতে মর্টার হামলার খবর পাওয়া গেছে।
সোমবার ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি তার পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচিকে মস্কোতে পাঠিয়েছেন। তিনি রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের কাছে একটি চিঠি পৌঁছে দিয়ে, ১৯৭৯ সালের বিপ্লবের পর ইসলামিক রিপাবলিকের বিরুদ্ধে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক সামরিক পদক্ষেপের পর আরও সহায়তা চেয়েছেন।
বিবিসির খবরে বলা হয়, এক্স-এ (সাবেক টুইটার) দেওয়া এক পোস্টে এই আহ্বান জানান খামেনি। তিনি জনগণের উদ্দেশে বলেছেন, ‘শত্রু যদি বুঝতে পারে আপনি তাদের ভয় পাচ্ছেন, তাহলে তারা আপনাকে ছাড়বে না।’ তিনি আরও বলেন, ‘আপনারা এখন পর্যন্ত যেভাবে আচরণ করেছেন, তা অব্যাহত রাখুন; সেই আচরণই আরও দৃঢ়তার সঙ্গে চালিয়ে যান।’
ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কথামতো ইরান কারও কাছে আত্মসমর্পণ করবে না। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র যদি ইসরায়েলকে সাহায্য করে, তাহলে তারা ‘অপূরণীয় ক্ষতির মুখে’ পড়বে।
খামেনি বলেন, ইরান যখন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে তার পারমাণবিক কর্মসূচির নিয়ে আলোচনা করছিল, এমন সময়ে ইসরায়েল প্রথম বিমান হামলা করে। অথচ তখন তেহরানের পক্ষ থেকে কোনো ধরনের সামরিক উত্তেজনা বা হুমকি ছিল না। এ সময় ইরান শান্তির পথেই ছিল।
আল–জাজিরার খবরে হয়েছে, মঙ্গলবার প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ট্রুথ সোশ্যালে ইরানকে ঘিরে কয়েকটি পোস্ট করেছেন। এর একটিতে ট্রাম্প দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্র জানে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি ঠিক কোথায় লুকিয়ে আছেন।
ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু বলেছেন, ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনিকে হত্যা করা হলে সংঘাত বাড়বে না, বরং শেষ হবে।
ইসরায়েলের পরবর্তী টার্গেট কি ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিকে হত্যা? এমন প্রশ্নের উত্তরে ইসরায়েলি সামরিক মুখপাত্র এফি ডিফ্রিন বলেন, “আমি নির্দিষ্ট করে বলব না।”