| বঙ্গাব্দ
Space For Advertisement
ad728

শেখ হাসিনার মামলার রায়, ট্রাইব্যুনাল ও সুপ্রিম কোর্ট এলাকায় কড়া নিরাপত্তা

reporter
  • আপডেট টাইম: নভেম্বর ১৬, ২০২৫ ইং | ২১:৫২:২১:অপরাহ্ন  |  ১৮৬২৪৩০ বার পঠিত
শেখ হাসিনার মামলার রায়, ট্রাইব্যুনাল ও সুপ্রিম কোর্ট এলাকায় কড়া নিরাপত্তা

রিপোর্টার্স২৪ ডেস্ক : মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল ও সাবেক আইজিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুনের বিরুদ্ধে বহুল আলোচিত রায়কে সামনে রেখে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল ও আশপাশের পুরো এলাকা কঠোর নিরাপত্তার চাদরে ঢেকে ফেলা হয়েছে। সোমবার (১৭ নভেম্বর) ভোর থেকেই সুপ্রিম কোর্ট চত্বর ও সংলগ্ন সড়কজুড়ে ব্যাপক নিরাপত্তা ব্যবস্থা চোখে পড়ে।

মাজার গেট থেকে ট্রাইব্যুনালের প্রবেশপথ পর্যন্ত সেনাবাহিনী, র‍্যাব, পুলিশ ও বিজিবির সদস্যরা টহল ও অবস্থান নিয়েছে। ট্রাইব্যুনালের ভেতরেও বাড়ানো হয়েছে নিরাপত্তার মাত্রা। সকাল থেকেই আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের ব্যস্ত উপস্থিতি পুরো এলাকা জুড়ে এক ধরনের তটস্থ পরিবেশ সৃষ্টি করেছে।

আজ যে রায় ঘোষিত হতে যাচ্ছে, তা বাংলাদেশের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক মহলেও তীব্র আগ্রহের জন্ম দিয়েছে। মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে সাবেক প্রধানমন্ত্রীসহ তিনজনের বিরুদ্ধে ঘোষিত রায়টি ‘ঐতিহাসিক’ হিসেবে বিবেচিত হবে বলে মনে করছেন ট্রাইব্যুনাল-সংশ্লিষ্টরা। এ কারণেই রায়টি সরাসরি সম্প্রচার করা হবে। সংস্কৃতি মন্ত্রণালয় রাজধানীর বিভিন্ন জায়গায় বড় পর্দার ব্যবস্থা করেছে, যাতে সাধারণ জনগণও রায় ঘোষণার প্রতিটি মুহূর্ত প্রত্যক্ষ করতে পারে।

১৩ নভেম্বর আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ রায় ঘোষণার দিন হিসেবে আজকের তারিখ নির্ধারণ করে। চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বে তিন সদস্যের বেঞ্চ—বিচারপতি মো. শফিউল আলম মাহমুদ ও বিচারক মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী—এই মামলার বিচারিক কার্যক্রম সম্পন্ন করেন।

প্রসিকিউশনের পক্ষে চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলামসহ মিজানুল ইসলাম, গাজী এমএইচ তামিম, ফারুক আহাম্মদ প্রমুখ আদালতে যুক্তি উপস্থাপন করেন। গত ২৩ অক্টোবর যুক্তিতর্কের শেষ দিনে অ্যাটর্নি জেনারেল মো. আসাদুজ্জামান বিশ্বের বিভিন্ন দেশে মানবতাবিরোধী অপরাধে অভিযুক্ত নেতাদের বিচারের উদাহরণ তুলে ধরে শেখ হাসিনা ও কামালের সর্বোচ্চ শাস্তির আবেদন করেন। এরপর রাষ্ট্রনিযুক্ত ডিফেন্স আইনজীবী ও স্টেট ডিফেন্সের পাল্টা যুক্তিও শোনে ট্রাইব্যুনাল।

অন্যদিকে মামলার তৃতীয় আসামি সাবেক আইজিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুন রাজসাক্ষী হওয়ায় তার ভাগ্য নিয়ে আলোচনা আরও জোরদার হয়েছে। প্রসিকিউশন তার শাস্তির বিষয়ে ট্রাইব্যুনালের বিবেচনার ওপর বিষয়টি ছেড়ে দিলেও, ডিফেন্স আইনজীবী যায়েদ বিন আমজাদ তার সম্পূর্ণ খালাস দাবি করেন। আজকের রায়েই জানা যাবে তার পরিণতি।

মামলাটিতে মোট ৮৪ জন সাক্ষীর তালিকা থাকলেও ৫৪ জন সাক্ষ্য দেন। চলতি বছরের ৩ আগস্ট সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয়ে ৮ অক্টোবর শেষ হয়। প্রথম সাক্ষী হিসেবে খোকন চন্দ্র বর্মণ ২০২৪ সালের জুলাই–আগস্টে সংঘটিত হত্যাযজ্ঞের বর্ণনা দেন। তদন্ত কর্মকর্তা মো. আলমগীরের জেরার মধ্য দিয়ে সাক্ষ্যপর্ব শেষ হয়। এরপর ২৩ অক্টোবর যুক্তিতর্কের মাধ্যমে বিচারপ্রক্রিয়া চূড়ান্ত ধাপে পৌঁছে।

অভিযোগপত্রের আকারও ছিল বিশাল—আট হাজার ৭৪৭ পৃষ্ঠার এই নথিতে রয়েছে দুটি ভলিউমে বিভক্ত তথ্যসূত্র, জব্দ তালিকা, দালিলিক প্রমাণ এবং শহীদদের তালিকার বিস্তারিত বিবরণ। পাঁচটি গুরুতর অভিযোগ উসকানি, মারণাস্ত্র ব্যবহার, আবু সাঈদ হত্যা, চানখারপুল হত্যাকাণ্ড এবং আশুলিয়ায় লাশ পোড়ানো তিন আসামির বিরুদ্ধে আনা হয়।

সবকিছুর পর আজকের দিনটি নিয়েই অপেক্ষা সবার। ঢাকার রাস্তায় সাধারণ মানুষের আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু এখন একটাই প্রশ্ন—ঐতিহাসিক এই মামলার রায়ে কী হতে যাচ্ছে?


রিপোর্টার্স২৪ / ঝুম

ad728

নিউজটি শেয়ার করুন

ad728
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ রিপোর্টার্স২৪ - সংবাদ রাতদিন সাতদিন | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় ক্রিয়েটিভ জোন ২৪