| বঙ্গাব্দ
Space For Advertisement
ad728

পাকিস্তান চীনের সহায়তায় পারমাণবিক অস্ত্রাগার আধুনিকীকরণ করছে, ভারতকে বিবেচনা করছে অস্তিত্বগত হুমকি: মার্কিন গোয়েন্দা রিপোর্ট

reporter
  • আপডেট টাইম: মে ২৫, ২০২৫ ইং | ১৬:০৩:৩৪:অপরাহ্ন  |  ১৮৬১০৩৩ বার পঠিত
পাকিস্তান চীনের সহায়তায় পারমাণবিক অস্ত্রাগার আধুনিকীকরণ করছে, ভারতকে বিবেচনা করছে অস্তিত্বগত হুমকি: মার্কিন গোয়েন্দা রিপোর্ট
ছবির ক্যাপশন: মার্কিন গোয়েন্দা রিপোর্ট

আশিস গুপ্ত, নতুন দিল্লি : 

পাকিস্তান চীনের সামরিক ও অর্থনৈতিক সহায়তায় তার পারমাণবিক অস্ত্রাগার আধুনিকীকরণ করছে এবং ভারতকে একটি অস্তিত্বগত হুমকি হিসেবে বিবেচনা করছে বলে জানিয়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা সংস্থার (ডিফেন্স ইন্টেলিজেন্স এজেন্সি) সম্প্রতি প্রকাশিত ওয়ার্ল্ড থ্রেট অ্যাসেসমেন্ট ২০২৫ রিপোর্টে।রবিবার প্রকাশিত এই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আগামী বছর পাকিস্তানি সামরিক বাহিনীর অগ্রাধিকারের তালিকায় থাকবে সীমান্ত সংঘর্ষের প্রস্তুতি এবং পারমাণবিক অস্ত্র ভান্ডার এর উন্নয়ন ও নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ। 


রিপোর্টে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে, “পাকিস্তান তার পারমাণবিক অস্ত্রাগার আধুনিকীকরণ করছে এবং পারমাণবিক উপকরণ, কমান্ড ও নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থার নিরাপত্তা জোরদার করছে। এছাড়া, দেশটি বিদেশি সরবরাহকারী ও মধ্যস্থতাকারীদের কাছ থেকে গণবিধ্বংসী অস্ত্র (WMD) সম্পর্কিত পণ্য সংগ্রহে তৎপর।”


রিপোর্টে আরও দাবি করা হয়েছে, পাকিস্তান চীনের সহায়তায় WMD প্রযুক্তি ও উপকরণ সংগ্রহ করছে, যা কখনও কখনও হংকং, সিঙ্গাপুর, তুরস্ক ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের মতো তৃতীয় দেশের মাধ্যমে স্থানান্তর হচ্ছে। এই সরবরাহ ব্যবস্থার মাধ্যমে চীন ও পাকিস্তানের মধ্যে প্রতিরক্ষা সহযোগিতার পরিধি আরও সম্প্রসারিত হচ্ছে।


তবে, চীনা নাগরিকদের লক্ষ্য করে পাকিস্তানে একাধিক সন্ত্রাসী হামলার কারণে দুই মিত্র রাষ্ট্রের সম্পর্ক কিছুটা টানাপোড়েনের মধ্যে পড়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।


প্রতিবেদনে উঠে এসেছে পাকিস্তানের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা দৃষ্টিভঙ্গিও, যেখানে ভারতকে একটি অস্তিত্বগত হুমকি হিসেবে দেখা হয় এবং তার প্রচলিত সামরিক শ্রেষ্ঠত্বের মোকাবেলায় পাকিস্তান সীমিত পাল্লার পারমাণবিক অস্ত্র, যুদ্ধক্ষেত্র-নির্ভর সক্ষমতা এবং অন্যান্য প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করছে।


এই প্রেক্ষাপটে রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে, এপ্রিলের শেষ সপ্তাহে জম্মু ও কাশ্মীরে এক সন্ত্রাসী হামলার পর নয়াদিল্লি পাকিস্তানে সন্ত্রাসবাদ-সংশ্লিষ্ট অবকাঠামো লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায়। এর প্রতিক্রিয়ায় ৭ থেকে ১০ মে পর্যন্ত উভয় দেশের সেনাবাহিনী পাল্টাপাল্টি ড্রোন হামলা, লয়টারিং মিউনিশন, ও ভারী কামানের গোলাবর্ষণে জড়িয়ে পড়ে। অবশেষে, ১০ মে উভয় পক্ষ একটি পূর্ণ যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়।


রিপোর্টের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো ভারত-চীন উত্তেজনার প্রেক্ষাপট। যদিও পূর্ব লাদাখের প্রকৃত নিয়ন্ত্রণ রেখা (LAC) বরাবর দুইটি বিতর্কিত পয়েন্ট থেকে সেনা প্রত্যাহারে উভয় পক্ষ সম্মত হয়েছে, তবে সীমান্ত নির্ধারণ বিরোধ এখনও অমীমাংসিত রয়ে গেছে।


এই প্রসঙ্গে রিপোর্টে বলা হয়েছে, চীনা প্রভাব মোকাবেলার লক্ষ্যে ভারত ভারত মহাসাগরীয় অঞ্চলে কৌশলগত প্রতিরক্ষা অংশীদারিত্ব জোরদার করার উদ্যোগ নিয়েছে। এর পাশাপাশি দেশীয় প্রতিরক্ষা শিল্পে বিনিয়োগ ও উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যে "মেক ইন ইন্ডিয়া" প্রকল্পকেও অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। এর মাধ্যমে ভারতীয় সশস্ত্র বাহিনীকে আধুনিকীকরণ, সরবরাহ শৃঙ্খল নির্ভরতা হ্রাস এবং প্রযুক্তিগত স্বনির্ভরতা অর্জনের লক্ষ্যে এগোচ্ছে নয়াদিল্লি।


প্রতিবেদনে ভারতের সাম্প্রতিক সামরিক উন্নয়নের দিকেও আলোকপাত করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে মাঝারি পাল্লার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র অগ্নি-১ প্রাইম, একাধিক স্বাধীনভাবে লক্ষ্যযোগ্য পুনঃপ্রবেশ যান (MIRV) যুক্ত অগ্নি-৫ এবং দ্বিতীয় পারমাণবিক সাবমেরিন কমিশনিং।


সবশেষে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা সংস্থা জানিয়েছে, ২০২৫ সাল পর্যন্ত ভারত রাশিয়ার সঙ্গে তার কৌশলগত সম্পর্ক বজায় রাখবে। যদিও নয়াদিল্লি নতুন রুশ প্রতিরক্ষা প্রযুক্তির সংগ্রহে কিছুটা সংযম দেখাচ্ছে, তবে রুশ খুচরা যন্ত্রাংশের উপর নির্ভরশীলতা এখনো অটুট রয়েছে।


এই গোয়েন্দা মূল্যায়ন দক্ষিণ এশিয়ার ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা ও প্রতিযোগিতামূলক সামরিক আধুনিকীকরণের একটি উদ্বেগজনক চিত্র তুলে ধরেছে, যেখানে পাকিস্তান-চীন ঘনিষ্ঠতা ও ভারতীয় প্রতিরক্ষা কৌশলের পরিণতি গভীরভাবে প্রভাব ফেলতে পারে আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার উপর।


রিপোর্টার্স২৪/ধ্রুব

ad728

নিউজটি শেয়ার করুন

ad728
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ রিপোর্টার্স২৪ - সংবাদ রাতদিন সাতদিন | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় ক্রিয়েটিভ জোন ২৪