| বঙ্গাব্দ
Space For Advertisement
ad728

দম্ভ ছেড়ে শি জিনপিংয়ের দরবারে যাচ্ছেন ট্রাম্প

reporter
  • আপডেট টাইম: মে ১৩, ২০২৬ ইং | ০২:৪৪:৫৭:পূর্বাহ্ন  |  ৯৩৭ বার পঠিত
দম্ভ ছেড়ে শি জিনপিংয়ের দরবারে যাচ্ছেন ট্রাম্প

ইন্টারন্যাশনাল ডেস্ক: এক বছর আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প অত্যন্ত দম্ভের সাথে ঘোষণা করেছিলেন, তাঁর আরোপিত আকাশচুম্বী বাণিজ্য শুল্ক চীনকে হাঁটু গেড়ে বসতে বাধ্য করবে। কিন্তু সময় এবং পরিস্থিতি পাল্টে দিয়েছে সেই দৃশ্যপট। আসছে ১৪-১৫ মে বেইজিংয়ে শি জিনপিংয়ের সাথে এক হাই-প্রোফাইল বৈঠকে বসতে যাচ্ছেন ট্রাম্প। তবে বিশ্লেষকরা বলছেন, এবার ট্রাম্পের অবস্থান মোটেও সুবিধাজনক নয়; বরং নিজের রাজনৈতিক পিঠ বাঁচাতে এখন চীনের সাহায্য তাঁর বড় বেশি প্রয়োজন।

গত অক্টোবরে বাণিজ্য যুদ্ধের সাময়িক বিরতির পর এটিই দুই নেতার প্রথম আনুষ্ঠানিক বৈঠক। এক সময় চীনকে 'শায়েস্তা' করার হুঙ্কার দিলেও এখন ট্রাম্পের লক্ষ্য শুধু সয়াবিন, গরুর মাংস এবং বোয়িং বিমানের কিছু চুক্তিতে সীমাবদ্ধ। হংকং বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক আলেজান্দ্রো রেইসের মতে, বর্তমানে চীনের তুলনায় ট্রাম্পেরই চীনকে বেশি প্রয়োজন।

এর পেছনে প্রধানত দুটি কারণ কাজ করছে; এক- ট্রাম্পের আরোপিত অনেক শুল্ক মার্কিন আদালত অবৈধ ঘোষণা করেছে, যা তাঁর অর্থনৈতিক অস্ত্রকে ভোঁতা করে দিয়েছে। দুই- ইরানে ট্রাম্পের শুরু করা যুদ্ধ আমেরিকার ভেতরে অত্যন্ত অজনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে ভোটারদের সন্তুষ্ট করতে এখন বেইজিংয়ের মাধ্যমে তেহরানের সাথে একটি সমঝোতায় পৌঁছাতে মরিয়া ওয়াশিংটন।

বেইজিং সফরে ট্রাম্পকে রাজকীয় অভ্যর্থনা জানানো হবে। গ্রেট হল অব দ্য পিপলে সম্মেলন, টেম্পল অব হ্যাভেন পরিদর্শন এবং রাষ্ট্রীয় ভোজসভার মতো আয়োজন থাকছে। ট্রাম্পের সাথে যাচ্ছেন টেসলার এলন মাস্ক এবং অ্যাপলের টিম কুকের মতো প্রভাবশালী ব্যবসায়ীরা।

তবে, এই আড়ম্বরের নিচে লুকিয়ে আছে কঠিন ভূ-রাজনীতি। বাণিজ্য যুদ্ধ বিরতির মেয়াদ বাড়ানোই এখন ট্রাম্পের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। অন্যদিকে চীনও তাদের অর্থনৈতিক চাপ দেয়ার অস্ত্রগুলো শানিয়ে রেখেছে। বিশেষ করে বিরল খনিজ পদার্থ রপ্তানি নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে তারা পশ্চিমা বিশ্বের উৎপাদন ব্যবস্থাকে কোণঠাঁসা করে রেখেছে।

বৈঠকে শি জিনপিংয়ের প্রধান এজেন্ডা হতে যাচ্ছে তাইওয়ান। চীন চায় তাইওয়ানের স্বাধীনতার প্রশ্নে আমেরিকা যেন কোনো সমর্থন না দেয়। এছাড়া চিপ তৈরির সরঞ্জাম এবং উন্নত প্রযুক্তির ওপর থেকে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা তুলে নেয়ার দাবি জানাবে বেইজিং। বিনিময়ে ট্রাম্প আশা করছেন, চীন যেন ইরানকে ওয়াশিংটনের সাথে একটি চুক্তিতে আসতে রাজি করায়।

বিশ্লেষকরা এই বৈঠককে একটি ‘লোক দেখানো যুদ্ধবিরতি’ হিসেবে দেখছেন। সেন্টার ফর স্ট্র্যাটেজিক অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজের স্কট কেনেডির মতে, এই বৈঠকের ফলাফল সম্ভবত চীনের পক্ষেই বেশি যাবে। ট্রাম্প শুধু এইটুকুই প্রমাণ করতে চাইবেন যে, তিনি বিশ্বে স্থিতিশীলতা বজায় রাখছেন, যা নভেম্বরের নির্বাচনে তাঁকে কিছুটা মাইলেজ দিতে পারে।

এক সময়ের ‘ট্যারিফ ম্যান’ ট্রাম্প এখন অনেকটাই নমনীয়। নিজের রাজনৈতিক অস্তিত্ব রক্ষা এবং ইরান যুদ্ধের গ্লানি থেকে বাঁচতে শি জিনপিংয়ের মধ্যস্থতা এখন তাঁর একমাত্র ভরসা। বেইজিংয়ের এই দুই দিনের বৈঠকই ঠিক করে দেবে আগামী দিনে বিশ্বের দুই পরাশক্তির সম্পর্ক কোন পথে হাঁটবে, শান্তি নাকি একতরফা সমঝোতা?

রিপোর্টার্স২৪/ধ্রুব

ad728

নিউজটি শেয়ার করুন

ad728
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ রিপোর্টার্স২৪ - সংবাদ রাতদিন সাতদিন | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় ক্রিয়েটিভ জোন ২৪