আন্তর্জাতিক ডেস্ক: মালয়েশিয়ার রাজধানী কুয়ালালামপুরের জালান ক্লাং লামা এলাকায় বিদেশি অধ্যুষিত একটি স্থানে অভিযান চালিয়ে বাংলাদেশিসহ ৯০ জন অবৈধ অভিবাসীকে আটক করেছে দেশটির ইমিগ্রেশন বিভাগ (জেআইএম)।
সোমবার (১৫ ডিসেম্বর) রাত ৯টা ৪০ মিনিটে পরিচালিত এই অভিযানে ইমিগ্রেশন বিভাগের পুত্রজায়া সদর দপ্তরের এনফোর্সমেন্ট শাখার ৯৯ জন কর্মকর্তা অংশ নেন। জনসাধারণের অভিযোগ ও টানা দুই সপ্তাহের গোয়েন্দা নজরদারির ভিত্তিতে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।
ইমিগ্রেশন বিভাগের মহাপরিচালক দাতুক জাকারিয়া শাবান এক বিবৃতিতে জানান, অভিযানে মোট ১৩১ জনকে তল্লাশি করা হয়। এদের মধ্যে ৮২ জন পুরুষ ও ৩৪ জন নারী বিদেশি নাগরিক এবং ১৫ জন মালয়েশীয় নাগরিক ছিলেন। যাচাই-বাছাই শেষে নাইজেরিয়া, ইয়েমেন, সিরিয়া, সোমালিয়া, গিনি-বিসাউ, সিয়েরা লিওন, লাইবেরিয়া, মালি, ইন্দোনেশিয়া, মিয়ানমার, বাংলাদেশ, ভিয়েতনাম, থাইল্যান্ড, পাকিস্তান, শ্রীলঙ্কা ও ভারতের নাগরিক ২১ থেকে ৩৫ বছর বয়সী ৯০ জনকে বিভিন্ন ইমিগ্রেশন অপরাধে আটক করা হয়।
আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ভিসার মেয়াদোত্তীর্ণ অবস্থায় বসবাস, বৈধ ভ্রমণ নথি না থাকা ও অনুমোদনহীন কার্যক্রমে জড়িত থাকার অভিযোগ পাওয়া গেছে। তাদের বিরুদ্ধে ইমিগ্রেশন আইন ১৯৫৯/৬৩-এর ৬(১)(সি) ও ১৫(১)(সি) ধারা এবং ইমিগ্রেশন বিধিমালা ১৯৬৩-এর ৩৯(বি) ধারায় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। এছাড়া, অভিযানের স্থানটির একটি রেস্তোরাঁর মালিকের বিরুদ্ধে সাক্ষী সমন (ফরম–২৯) জারি করা হয়েছে।
দাতুক জাকারিয়া শাবান জানান, সংশ্লিষ্ট বিদেশিরা মেয়াদোত্তীর্ণ পাস ব্যবহার করে খোলা জায়গা ও খাবারের দোকানে ক্ষুদ্র ব্যবসা পরিচালনা করছিলেন। পাশাপাশি এলাকাটিকে গভীর রাত পর্যন্ত বিনোদনের স্থান হিসেবেও ব্যবহার করা হচ্ছিল।
তিনি আরও বলেন, আটক সব পিএটিআইকে ইমিগ্রেশন আইন ১৯৫৯/৬৩-এর ৫১(৫)(বি) ধারায় গ্রেপ্তার করে তদন্ত ও পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়ার জন্য কুয়ালালামপুর আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর (কেএলআইএ) ইমিগ্রেশন ডিটেনশন ডিপোতে পাঠানো হয়েছে।
ইমিগ্রেশন বিভাগ স্পষ্টভাবে জানিয়েছে, আইন লঙ্ঘনকারী কোনো বিদেশির প্রতি ছাড় দেওয়া হবে না। একই সঙ্গে অবৈধ অভিবাসীদের নিয়োগ বা আশ্রয়দাতাদের বিরুদ্ধেও কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
রিপোর্টার্স২৪/এসসি