| বঙ্গাব্দ
Space For Advertisement
ad728

বিপৎসীমার কাছাকাছি তিস্তার পানি, উদ্বেগে কৃষকরা

reporter
  • আপডেট টাইম: জুন ২১, ২০২৬ ইং | ০৮:০০:১৩:পূর্বাহ্ন  |  ৫৭৩ বার পঠিত
বিপৎসীমার কাছাকাছি তিস্তার পানি, উদ্বেগে কৃষকরা

কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি: উজানের ঢল ও ভারী বৃষ্টিপাতের প্রভাবে কুড়িগ্রামে তিস্তা নদীর পানি দ্রুত বৃদ্ধি পেয়ে বিপৎসীমার কাছাকাছি পৌঁছেছে। হঠাৎ পানি বৃদ্ধিতে নদী তীরবর্তী চরাঞ্চলের বাদাম, ভুট্টা, মরিচ ও বিভিন্ন সবজিখেত তলিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা দেখা দেওয়ায় দুশ্চিন্তায় পড়েছেন কৃষকরা। পানি আরও বাড়লে স্বল্পমেয়াদি বন্যারও আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার পর্যন্ত তিস্তা নদীর পানি স্বাভাবিক অবস্থায় থাকলেও শনিবার ভোর থেকে তা দ্রুত বাড়তে শুরু করে। দুপুরের মধ্যেই নদীর পানি বিপৎসীমার কাছাকাছি পৌঁছে যায়। এতে তিস্তা তীরবর্তী নিম্নাঞ্চল ও চরাঞ্চলের বাসিন্দাদের মধ্যে উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়ে।

পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) জানিয়েছে, দেশের অভ্যন্তরে এবং ভারতের উজান এলাকায় মাঝারি থেকে ভারী বৃষ্টিপাতের কারণে তিস্তা নদীর পানি আরও বৃদ্ধি পেতে পারে। ফলে তিস্তা অববাহিকার বিভিন্ন এলাকায় স্বল্পমেয়াদি বন্যার আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।

এদিকে পানি বাড়তে শুরু করায় তিস্তা চরের কৃষকরা আগাম ফসল ঘরে তোলার চেষ্টা করছেন। অনেকেই ক্ষেত থেকে বাদাম, মরিচ ও সবজি সংগ্রহে ব্যস্ত সময় পার করছেন, যাতে সম্ভাব্য ক্ষয়ক্ষতি কমানো যায়।

তিস্তা চরের কৃষক আব্দুল কালাম বলেন, শুক্রবার পর্যন্ত নদীতে তেমন পানি ছিল না। শনিবার সকাল থেকে হঠাৎ করেই পানি বাড়তে শুরু করেছে। দ্রুত বাদাম তোলার চেষ্টা করছি, কিন্তু সব ফসল ঘরে তুলতে পারিনি। সময়মতো সতর্কবার্তা না পাওয়ায় প্রায়ই ক্ষতির মুখে পড়তে হয়।

আরেক কৃষক তাইজুল মিয়া বলেন, দুই একর জমিতে মরিচের চাষ করেছি। আরও কয়েক দফা মরিচ তোলার সুযোগ ছিল। কিন্তু আকস্মিক পানি বৃদ্ধির কারণে গাছগুলো ক্ষেত থেকে তুলে বাড়িতে নিয়ে যাচ্ছি। অন্তত গবাদিপশুর খাদ্য কিংবা জ্বালানি হিসেবে ব্যবহার করা যাবে। আগাম সতর্কবার্তা পেলে ক্ষতি অনেকটাই কমানো সম্ভব হতো।

রাজারহাট উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোছা. সাইফুন্নাহার সাথী জানান, তিস্তা চরের অধিকাংশ বাদামক্ষেত ইতোমধ্যে কৃষকরা তুলে নিয়েছেন। তবে কিছু এলাকায় ধানের বীজতলা রয়েছে। সেখানে দুই থেকে তিনদিন পানি স্থায়ী হলে ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে।

পাউবোর নির্বাহী প্রকৌশলী মো. রাকিবুল হাসান বলেন, গত ২৪ ঘণ্টায় দেশের বিভিন্ন অঞ্চল এবং ভারতের মেঘালয়, ত্রিপুরা ও পশ্চিমবঙ্গে মাঝারি থেকে ভারী বৃষ্টিপাত হয়েছে। এর প্রভাবেই তিস্তা নদীর পানি বাড়ছে। পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। পানি আরও বৃদ্ধি পেলে তিস্তা অববাহিকায় স্বল্পমেয়াদি বন্যা দেখা দিতে পারে।

তিস্তার পানি বৃদ্ধির খবরে চরাঞ্চলের মানুষের মধ্যে উদ্বেগ বাড়লেও প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। সম্ভাব্য ক্ষয়ক্ষতি এড়াতে কৃষকদের দ্রুত ফসল সংগ্রহের পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।

রিপোর্টার্স২৪/বাবি

ad728

নিউজটি শেয়ার করুন

ad728
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ রিপোর্টার্স২৪ - সংবাদ রাতদিন সাতদিন | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় ক্রিয়েটিভ জোন ২৪