রিপোর্টার্স ডেস্ক: পদোন্নতির দাবিতে অ্যাকাডেমিক শাটডাউন কর্মসূচির পর এবার উপাচার্য অধ্যাপক ড. তৌফিক আলমকে অযোগ্য আখ্যা দিয়ে তার বিরুদ্ধে অসহযোগ আন্দোলনের ডাক দিয়েছেন বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের (ববি) আন্দোলনরত পদোন্নতি প্রত্যাশী শিক্ষকরা।
মঙ্গলবার (২৮এপ্রিল) দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবন-১-এর নিচতলায় আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ ঘোষণা দেওয়া হয়।
এর আগে, পদোন্নতির দাবিতে গত ১৯ এপ্রিল সন্ধ্যায় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের কার্যালয়ের সামনে আমরণ অনশন শুরু করেন মৃত্তিকা, পানি ও পরিবেশবিজ্ঞান বিভাগের চেয়ারম্যান সহযোগী অধ্যাপক ড. মো. জামাল উদ্দিন।
পরদিন ২০ এপ্রিল অনশনরত শিক্ষকের প্রতি সংহতি জানিয়ে ১০২ জন শিক্ষক স্বাক্ষরিত এক বিবৃতিতে ২১ এপ্রিল কর্মবিরতি এবং ২২ এপ্রিল থেকে পূর্ণাঙ্গ অ্যাকাডেমিক শাটডাউনের ঘোষণা দেওয়া হয়। টানা এই কর্মসূচির ফলে ২২ এপ্রিল থেকে ২৮ এপ্রিল পর্যন্ত বিভিন্ন বিভাগের সেমিস্টার ফাইনাল পরীক্ষাসহ সব ধরনের অ্যাকাডেমিক কার্যক্রম বন্ধ থাকে।
সংবাদ সম্মেলনে আন্দোলনরত শিক্ষকরা অভিযোগ করে বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের বিদ্যমান পদোন্নতি নীতিমালা অনুযায়ী অনেক শিক্ষক ২০২৪ সালের মাঝামাঝি সময় থেকেই বিভিন্ন পদে পদোন্নতির যোগ্যতা অর্জন করেন। তবে তৎকালীন উপাচার্য এ বিষয়ে কোনো কার্যকর উদ্যোগ নেননি। পরবর্তীতে ২০২৫ সালের ১৩ মে নতুন উপাচার্য ড. তৌফিক আলম দায়িত্ব গ্রহণের পর শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা আপগ্রেডেশনের জন্য আবেদন করলেও নানা টালবাহানায় সেগুলো নিষ্পত্তি করা হয়নি।
তারা আরও জানান, নীতিমালা অনুযায়ী আবেদন জমার ৪৫ দিনের মধ্যে আপগ্রেডেশন বোর্ডের সভা হওয়ার কথা থাকলেও তা হয়নি। অবশেষে ২০২৫ সালের অক্টোবর মাসে প্রথমবারের মতো সহযোগী অধ্যাপক থেকে অধ্যাপক পদে উন্নীতকরণের লক্ষ্যে আপগ্রেডেশন বোর্ডের সভা অনুষ্ঠিত হয়।
প্রচলিত নিয়মে আপগ্রেডেশন বোর্ডের সুপারিশ সিন্ডিকেট সভায় উপস্থাপন ও অনুমোদনের মাধ্যমে কার্যকর হওয়ার কথা। কিন্তু উপাচার্য ওই সুপারিশ সিন্ডিকেটে উপস্থাপন না করে বিভিন্নভাবে বিলম্বিত করছেন।
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. তৌফিক আলম বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের নীতিমালা অনুসরণ করে আমি পদোন্নতির প্রক্রিয়া এগিয়ে নিয়েছিলাম। তবে পরবর্তীতে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি) থেকে একটি চিঠি আসে, যেখানে অভিন্ন নীতিমালা অনুসরণ ছাড়া পদোন্নতি না দেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়। এ কারণে প্রক্রিয়াটি স্থগিত করতে হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, শিক্ষকদের পক্ষ থেকে ইউজিসির সঙ্গে আলোচনার একটি প্রস্তাব এলেও পরে তারা সরে যান। তবে এখনো আলোচনার উদ্যোগ নেওয়া হলে প্রশাসন তা আয়োজন করতে প্রস্তুত রয়েছে।
রিপোর্টার্স২৪/মিতু