| বঙ্গাব্দ
Space For Advertisement
ad728

রয়টার্স প্রতিবেদন

সীমান্তে যৌথ টহল ও গোয়েন্দা তথ্য বিনিময়ে একমত বাংলাদেশ-ভারত

reporter
  • আপডেট টাইম: জুন ১২, ২০২৬ ইং | ১৫:২২:৫৩:অপরাহ্ন  |  ১৩৪০ বার পঠিত
সীমান্তে যৌথ টহল ও গোয়েন্দা তথ্য বিনিময়ে একমত বাংলাদেশ-ভারত
ছবির ক্যাপশন: সংগৃহীত ছবি রয়টার্স

রিপোর্টার্স২৪ডেস্ক: অবৈধ অভিবাসন ইস্যুকে ঘিরে দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা চলমান থাকলেও সীমান্তে সমন্বিত টহল জোরদার এবং গোয়েন্দা তথ্য বিনিময় বাড়ানোর বিষয়ে একমত হয়েছে বাংলাদেশ ও ভারত। শুক্রবার প্রকাশিত এক যৌথ বিবৃতিতে এ তথ্য জানানো হয়।

২০২৪ সালে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক স্বাভাবিক করার প্রচেষ্টার মধ্যেই ভারত যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ না করে অভিবাসীদের বাংলাদেশে ঠেলে দেওয়ার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ করে আসছে ঢাকা। একই সঙ্গে অবৈধ অভিবাসীদের শনাক্ত ও ফেরত পাঠানোর বৃহত্তর উদ্যোগও চালিয়ে যাচ্ছে নয়াদিল্লি।

নয়াদিল্লিতে চার দিনব্যাপী সীমান্তরক্ষী বাহিনীর শীর্ষ কর্মকর্তাদের বৈঠক শেষে প্রকাশিত যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়, বাংলাদেশের বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) এবং ভারতের বর্ডার সিকিউরিটি ফোর্স (বিএসএফ) আলোচনা ছিল ‘আন্তরিক, ইতিবাচক এবং ভবিষ্যতমুখী’।

নিয়মিত এ বৈঠকে সীমান্ত এলাকায় ‘অবৈধ, অনিচ্ছাকৃত ও জোরপূর্বক অনুপ্রবেশ’ নিয়েও আলোচনা হয়েছে। সাম্প্রতিক মাসগুলোতে বিষয়টি দুই দেশের মধ্যে ক্রমবর্ধমান বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।

বিশ্বের দীর্ঘতম সীমান্তগুলোর একটি বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তের দৈর্ঘ্য ৪ হাজার কিলোমিটারেরও বেশি। ভারতের ক্ষমতাসীন বিজেপি, যারা ত্রিপুরা, পশ্চিমবঙ্গ ও আসামের মতো সীমান্তবর্তী গুরুত্বপূর্ণ রাজ্যগুলো শাসন করে, তারা অবৈধ অভিবাসন মোকাবিলাকে অগ্রাধিকার হিসেবে ঘোষণা করেছে। গত বছর থেকে ‘অবৈধ অনুপ্রবেশকারী’ হিসেবে চিহ্নিত বাংলাভাষী মুসলমানদের বাংলাদেশে পাঠানোর চেষ্টা করছে বলে বিভিন্ন মহলে অভিযোগ রয়েছে।

এ ধরনের কার্যক্রম বন্ধে বাংলাদেশ সরকার ইতোমধ্যে নয়াদিল্লির কাছে এক ডজনেরও বেশি চিঠি পাঠিয়েছে বলে জানিয়েছে ঢাকা।

বিজিবি জানিয়েছে, সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে জোরপূর্বক অনুপ্রবেশের একাধিক চেষ্টা প্রতিহত করা হয়েছে। পাশাপাশি সীমান্ত এলাকায় অতিরিক্ত সদস্য মোতায়েন, গোয়েন্দা তৎপরতা এবং ড্রোন নজরদারিও জোরদার করা হয়েছে।

চলতি সপ্তাহের শুরুতে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম বলেন, যথাযথ প্রক্রিয়া ছাড়া কাউকে বাংলাদেশে ঠেলে দেওয়ার ঘটনা ‘কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়’। তিনি সতর্ক করে বলেন, এমন পদক্ষেপ দুই দেশের সম্পর্ক উন্নয়নের প্রচেষ্টাকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে।

বাংলাদেশ জানিয়েছে, জোরপূর্বক অনুপ্রবেশ ঠেকাতে সীমান্তের বিভিন্ন অংশে টহল বাড়ানো এবং জনসচেতনতামূলক কার্যক্রম শুরু করা হয়েছে। অন্যদিকে ভারত গত মে মাসে জানিয়েছিল, দেশটিতে বৈধ কাগজপত্র ছাড়া বসবাসরত সন্দেহভাজন ২ হাজার ৮৬০ জন বাংলাদেশির নাগরিকত্ব যাচাইয়ের জন্য ঢাকার সহযোগিতা চাওয়া হয়েছে।

যৌথ বিবৃতিতে আরও বলা হয়, বৈঠকে মানবপাচার, সীমান্তে প্রাণহানি, চোরাচালান, অবকাঠামো উন্নয়ন এবং সমন্বিত সীমান্ত ব্যবস্থাপনা পরিকল্পনা (কোঅর্ডিনেটেড বর্ডার ম্যানেজমেন্ট প্ল্যান) বাস্তবায়ন নিয়েও আলোচনা হয়েছে।

বিবৃতিতে বলা হয়, “দুই পক্ষ বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তে শান্তি, স্থিতিশীলতা ও স্বাভাবিক পরিবেশ বজায় রাখার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেছে।” একই সঙ্গে সমন্বিত টহল জোরদার, সতর্কতা বৃদ্ধি, তাৎক্ষণিক তথ্য বিনিময় এবং আন্তঃসীমান্ত অপরাধী চক্রের বিরুদ্ধে যৌথ অভিযান বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

যৌথ বিবৃতি অনুযায়ী, দুই দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর শীর্ষ পর্যায়ের পরবর্তী বৈঠক আগামী নভেম্বর মাসে ঢাকায় অনুষ্ঠিত হবে।

রিপোর্টার্স২৪/এসসি

ad728

নিউজটি শেয়ার করুন

ad728
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ রিপোর্টার্স২৪ - সংবাদ রাতদিন সাতদিন | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় ক্রিয়েটিভ জোন ২৪