ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি: ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলায় এক কিশোরীকে (১৫) গোডাউন ঘরে নিয়ে দলবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে তিন যুবককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গতকাল শনিবার দিবাগত রাতে উপজেলার জগন্নাথপুর ইউনিয়নের কালীতলা বাজার এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় রোববার (১৪ জুন) ভোরে ওই কিশোরীকে উদ্ধার করে ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট ঠাকুরগাঁও জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করেছে পুলিশ। বর্তমানে সে হাসপাতালের গাইনি বিভাগে চিকিৎসাধীন রয়েছে।
পুলিশ ও এজাহার সূত্রে জানা গেছে, প্রায় এক সপ্তাহ আগে মোবাইল ফোনের মাধ্যমে এক আসামির সঙ্গে ওই কিশোরীর পরিচয় হয়। সেই পরিচয়ের সূত্র ধরে গতকাল শনিবার সন্ধ্যায় বেড়ানোর কথা বলে ওই কিশোরীকে ঠাকুরগাঁও শহরে ডেকে নেওয়া হয়। শহরের বিভিন্ন এলাকায় ঘোরাঘুরির একপর্যায়ে রাত ১১টার দিকে কালীতলা বাজার সংলগ্ন একটি গোডাউন ঘরে কিশোরীটিকে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে আটকে রেখে তিন যুবক রাতভর তাকে পর্যায়ক্রমে ধর্ষণ করেন।
গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিরা হলেন, ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার জগন্নাথপুর (বারোপাড়া) এলাকার মো. তামিম (১৯), মো. রনি ইসলাম (২১) ও মো. মাসুদ ইসলাম ওরফে আলী হোসেন (১৯)।
পুলিশ জানায়, রোববার ভোররাত তিনটার দিকে ঠাকুরগাঁও সদর থানা-পুলিশের একটি দল ওই এলাকায় টহলে ছিল। এ সময় কালীতলা বাজার এলাকার একটি গোডাউনের পাশে অভিযুক্তদের গতিবিধি সন্দেহজনক মনে হলে পুলিশ তাঁদের আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করে। জিজ্ঞাসাবাদের একপর্যায়ে তাঁদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ওই গোডাউন ঘর থেকে গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় কিশোরীটিকে উদ্ধার করা হয়।
এ ঘটনায় আজ দুপুরে ভুক্তভোগী কিশোরীর বাবা বাদী হয়ে ঠাকুরগাঁও সদর থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে একটি মামলা দায়ের করেছেন। মামলার এজাহারে তিনি উল্লেখ করেন, মেয়ের চিকিৎসার খোঁজখবর ও হাসপাতাল সংক্রান্ত কাজে ব্যস্ত থাকার কারণে থানায় এসে এজাহার দায়ের করতে কিছুটা বিলম্ব হয়েছে।
ঠাকুরগাঁও সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, পুলিশের নিয়মিত টহল দলের তৎপরতায় আসামিদের হাতেনাতে গ্রেপ্তার এবং ভুক্তভোগীকে দ্রুত উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। গ্রেপ্তারকৃত আসামিদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে এবং ঘটনার বিষয়ে বিস্তারিত তদন্ত চলছে।
রিপোর্টার্স২৪/ মিতু