নড়িয়া (শরীয়তপুর) প্রতিনিধি : শরীয়তপুরের নড়িয়া উপজেলায় খোলা তালাকনামায় দেনমোহরের তথ্য পরিবর্তন ও ভুয়া তথ্য সংযুক্ত করার অভিযোগ উঠেছে নড়িয়া পৌরসভার কাজী মতিউর রহমানের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী সম্পা আক্তার জেলা রেজিস্ট্রারের কাছে লিখিত অভিযোগ করেছেন।
অভিযোগ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, নড়িয়া উপজেলার কেদারপুর ইউনিয়নের জানু হাওলাদারের মেয়ে সম্পা আক্তারের সঙ্গে নড়িয়া পৌরসভার বিসমিল্লাহ নগর এলাকার ইয়াকুব মুন্সীর ছেলে মো. ইব্রাহিমের গত ১৫ মে ২০২৬ তারিখে স্থানীয় দরবার ও সালিশকারীদের উপস্থিতিতে কাজী অফিসে খোলা তালাকের মাধ্যমে বিবাহ বিচ্ছেদ হয়।
ভুক্তভোগীর দাবি, সালিশের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী তিনি স্বেচ্ছায় দেনমোহরের টাকা মওকুফ করেন এবং সে অনুযায়ী কাবিননামা ও স্ট্যাম্পে বিষয়টি লিপিবদ্ধ করা হয়। তবে গত ১১ জুন ২০২৬ তারিখে কাজী অফিস থেকে তালাকের কাগজ গ্রহণ করার পর তিনি দেখতে পান, সেখানে উল্লেখ করা হয়েছে যে তিনি ৩ লাখ ৫০ হাজার টাকা দেনমোহর বুঝে পেয়েছেন।
সম্পা আক্তার অভিযোগ করে বলেন, “আমার দেনমোহরের টাকা পরিশোধ করা হয়নি। কিন্তু তালাকনামায় আমাকে টাকা বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে। অর্থের বিনিময়ে ছেলের পক্ষের সঙ্গে যোগসাজশ করে কাজী এই জালিয়াতি করেছেন। আমি এর সুষ্ঠু তদন্ত ও আইনগত বিচার চাই।”
এ বিষয়ে শরীয়তপুর জেলা রেজিস্ট্রার হেলেনা পারভীন বলেন, “নড়িয়া পৌরসভার কাজী মতিউর রহমানের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। অভিযোগের বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
অভিযুক্ত কাজী মতিউর রহমান অভিযোগের বিষয়ে বলেন, “এটি আমার ভুল হয়েছে। সালিশকারীদের কথামতো আমি লিখেছি। মেয়েকে আসতে বলেছি, প্রয়োজনীয় সংশোধন করে দেওয়া হবে।”
রিপোর্টার্স/এসএন