স্পোর্টস ডেস্ক: বিশ্বকাপ ফাইনালের শেষ বাঁশি বাজার পর স্পেনের এরিক গার্সিয়ার গলা টিপে ধরে লাল কার্ড দেখলেন আর্জেন্টিনার লিয়ান্দ্রো পারেদেস।
অতিরিক্ত সময়ের ১০৫তম মিনিটে ফেরান তোরেসের একমাত্র গোলে আর্জেন্টিনাকে ১-০ ব্যবধানে হারিয়ে শিরোপা জিতেছে স্পেন। উল্লেখ্য, আর্জেন্টিনা পুরো অতিরিক্ত সময় ১০ জন নিয়ে খেলেছিল।
নির্ধারিত ৯০ মিনিটের খেলায় আর্জেন্টিনা একটি শটও নিতে পারেনি এবং স্পেনের দাপুটে পারফরম্যান্সের কাছে তারা পুরোপুরি ম্লান ছিল। পাউ কুবারসির ওপর মারাত্মক ফাউল করে এনসো ফার্নান্দেস আগেই মাঠ ছেড়েছিলেন; পারেদেস ছিলেন আজকের ম্যাচে লাল কার্ড দেখা দ্বিতীয় আর্জেন্টাইন।
বিশ্বকাপ ফাইনাল হারার পর ক্ষোভে ফেটে পড়ে গার্সিয়ার ঘাড় ধরে টান মারেন পারেদেস। এসময় আর্জেন্টিনা দলের আরও অনেক খেলোয়াড় অসংলগ্ন ও অখেলোয়াড়সুলভ আচরণ শুরু করেন। বিবিসির ফুটবল বিশ্লেষক জো হার্ট লিওনেল মেসির দলের এমন আচরণকে ‘ঘৃণ্য’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন।
এনসোর লাল কার্ডের মাধ্যমে বিশ্বকাপের ফাইনালে সবচেয়ে বেশি লাল কার্ড দেখার রেকর্ডটি আগেই আর্জেন্টিনার দখলে ছিল। ১৯৯০ সালের ফাইনালেও তাদের দুজন খেলোয়াড় মাঠ ছেড়েছিলেন। তিনটি লাল কার্ডই রেকর্ডের জন্য যথেষ্ট ছিল, কিন্তু পারেদেসের বিদায়ে সেই সংখ্যা এখন চারে গিয়ে ঠেকেছে।
জো হার্ট বলেন, ‘এটি লজ্জাজনক। এই দলটিতে শুধুমাত্র একজনই খেলোয়াড় ছিলেন যার মধ্যে আভিজাত্য ছিল, আর তিনি হলেন লিওনেল মেসি। তিনি নিজে গিয়ে স্পেনের সব খেলোয়াড়ের সাথে করমর্দন করেছেন।’
কোচ লিওনেল স্কালোনি পারেদেসকে থামানোর চেষ্টা করলেও তিনি সেটি উপেক্ষা করে স্পেনের আরেকজন খেলোয়াড়কে ধাক্কা দিয়ে মাটিতে ফেলে দেন।
ফুটবলে আর্জেন্টিনার খেলোয়াড়দের কঠিন চ্যালেঞ্জ এবং ফাউল করে পার পেয়ে যাওয়ার ইতিহাস পুরনো। বিরতির সময় ইয়ান রাইটও বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করেছিলেন। তবে পারেদেসের উগ্র আচরণ ছিল সব সীমার বাইরে। আইটিভি-র বিশ্লেষকরাও তার এবং আর্জেন্টিনা দলের এই হীন কর্মকাণ্ডের তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন।
রিপোর্টার্স২৪/ধ্রুব