| বঙ্গাব্দ
Space For Advertisement
ad728

বিদ্যালয়ের যাতায়াতের রাস্তা নেই, দুর্ভোগে শিক্ষক-শিক্ষার্থী

reporter
  • আপডেট টাইম: Jul ২৭, ২০২৬ ইং | ২৩:৫৯:৫৭:অপরাহ্ন  |  ৪৫০ বার পঠিত
বিদ্যালয়ের যাতায়াতের রাস্তা নেই,  দুর্ভোগে শিক্ষক-শিক্ষার্থী

টাঙ্গাইল প্রতিনিধি: টাঙ্গাইলের ধনবাড়ী উপজেলার বীরতারা  ইউনিয়নে অবস্থিত ফজলুল হক সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। এ বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী-শিক্ষক, অবকাঠামো সবই আছে। কিন্তু বিদ্যালয়ে যাওয়ার নেই কোনো রাস্তা। জমির আল দিয়ে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয়ে যাতায়াত করতে হয়। আর বৃষ্টিতে যখন জমির আল তলিয়ে যায় তাদের দুর্ভোগেরার সীমা থাকে না। এতে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের প্রতিনিয়ত  ভোগান্তির শিকার হতে হয়।

বিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ২০০৪ সালে বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠিত হলেও সরকারিকরণ হয় ২০১৩ সালে। এখানে শিশু শ্রেণি থেকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত শিক্ষার্থী রয়েছে ৮৩ জন। প্রধান শিক্ষকসহ শিক্ষক রয়েছেন চারজন। জমিদাতা বিদ্যালয়ের জন্য জমি দিলেও পরবর্তী সময়ে এর আশপাশের জমির মালিকেরা তাঁদের জায়গা ছেড়ে না দেয়ায় বিদ্যালয়ে যাতায়াতের নির্দিষ্ট কোনো রাস্তা হয়নি।

সরেজমিনে দেখা যায়, বিদ্যালয়ের চারদিকেই আবাদি জমি। সেখানে ধান চাষাবাদ করা হয়। বিদ্যালয় থেকে প্রায় ১৫ থেকে ২০  গজ পশ্চিমে রাস্তা আছে। সেই রাস্তা থেকে বিদ্যালয়ে যাওয়া-আসার কোনো পথ নেই। বিদ্যালয়ে টিফিনের সময় শিক্ষার্থীরা কাঁদাপানির মধ্য দিয়ে পায়ের সেন্ডেল হাতে নিয়ে কাঁদা মাটি দিয়ে আল ধরে সারিবদ্ধভাবে টিফিন খেতে যায়।    

পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী মাজেদুল ইসলাম জানায়, এভাবে কাদামাটি দিয়ে জমির মাঝ দিয়ে যাতায়াত করতে খুব অসুবিধা হয়। খেতের মধ্যে পড়ে যেতেও হয়। তখন খেতের মালিক রাগ করে। একই শ্রেণির নাসিমা আক্তার  জানায়, ‘শীতে আইলের উপর দিয়ে গেলেও  বর্ষায় স্কুলে যাওয়ার কোন উপায় থাকে না। আশপাশের সব জমিত পানি ওঠে তলিয়ে যায়।

স্থানীয় বাসিন্দা রিপন  মিয়া বলেন, একটি সরকারি বিদ্যালয়ে যেতে রাস্তা থাকবে না, তা কেমন করে হয়। এ বিষয়ে সরকারিভাবেই উদ্যোগ নেওয়ার দাবি জানান তিনি।

শিক্ষিকা পারভীন আক্তার বলেন, বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীসহ সবাইকে আসতে খুব ভোগান্তি পোহাতে হয়। যেকোনো মালামাল নিয়ে আসা কষ্টকর হয়ে পড়ে। রাস্তা না থাকায় এখানে শিক্ষার্থীর সংখ্যা বাড়ছে না; বরং দিন দিন কমে যাচ্ছে।

বিদ্যালয়ে যাতায়াতের কষ্ট ও দুর্ভোগের কথা উল্লেখ করে প্রধান শিক্ষক মোঃ হায়দার আলী বলেন, স্কুলে যাওয়ার রাস্তা না থাকায় কোমলমতি শিক্ষার্থীরা কাদা-পানি মাড়িয়ে চরম দুর্ভোগের শিকার হচ্ছে। প্রতিটি সকাল যেন এই স্কুলের শিক্ষার্থীদের জন্য নতুন এক সংগ্রামের নাম। একদিকে পিঠে ভারী বইয়ের ব্যাগ, চোখে ভবিষ্যতের স্বপ্ন নিয়ে স্কুলে ছুটে চলা কোমলমতি শিক্ষার্থীরা তাদের স্কুলে আসার রাস্তার খুবই প্রয়োজন। আমি স্কুলের রাস্তাটি করে দেয়ার জন্য প্রাথমিক শিক্ষা অফিস ও  ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি। 

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে ধনবাড়ী  উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মোঃ ফরহাদ হোসেন বলেন, রাস্তা করতে প্রধান শিক্ষকের আবেদন পেলে  উদ্যোগ নেওয়া হবে।

রিপোর্টার্স২৪/ধ্রুব

ad728

নিউজটি শেয়ার করুন

ad728
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ রিপোর্টার্স২৪ - সংবাদ রাতদিন সাতদিন | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় ক্রিয়েটিভ জোন ২৪