ভাঙ্গা (ফরিদপুর) প্রতিনিধি: প্রধানমন্ত্রীর অগ্রাধিকারভিত্তিক খাল খনন প্রকল্পের বরাদ্দের ১ কোটি ৮০ হাজার টাকা সরকারি কোষাগারে ফেরত পাঠিয়েছেন ফরিদপুরের ভাঙ্গা ও সদরপুর উপজেলার দুই নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও)। তাঁরা হলেন ভাঙ্গা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাহমুদুল হাসান ও সদরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শরীফ শাওন। সরকারি অর্থ ব্যবহারে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার জন্য তাঁদের প্রশংসা করছেন স্থানীয়রা।
সোমবার (২৭ জুলাই) রাতে বিষয়টি নিশ্চিত করেন ভাঙ্গা ও সদরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তারা।
উপজেলা প্রশাসন ও প্রকল্প বাস্তবায়ন (পিআইও) কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের বিশেষ অগ্রাধিকার খাল খনন কর্মসূচির আওতায় গত ৪ ফেব্রুয়ারি ভাঙ্গা উপজেলার ঘারুয়া ইউনিয়নের শরিফাবাদ হালান ফকিরের বাড়ির সংলগ্ন এলাকা থেকে খারদিয়া হয়ে শাহজাহান শেখের বাড়ি পর্যন্ত এবং সেখান থেকে কুমার নদী পর্যন্ত ছয় কিলোমিটার খাল পুনঃখননের কাজ শুরু হয়। একই সঙ্গে মানিকদাহ ইউনিয়নের বলেরবাগ থেকে সোনাখোলা পর্যন্ত আট কিলোমিটার খাল পুনঃখননের কাজও শুরু করা হয়।
ঘারুয়া ও মানিকদাহ ইউনিয়ন পরিষদ সংলগ্ন দুটি মৃত খাল পুনঃখননের জন্য উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার কার্যালয়ের অধীনে ৩ কোটি ৬০ লাখ ৪৭ হাজার ৭৭৫ টাকা সরকারি বরাদ্দ দেওয়া হয়। একইভাবে সদরপুর উপজেলার চারটি খাল পুনঃখননের জন্য বরাদ্দ দেওয়া হয় ২ কোটি ১৮ লাখ ৯৪ হাজার ৮০৪ টাকা।
ঢাকা বিভাগীয় কমিশনার ইসমাইল জবি উল্লাহ ও ফরিদপুর-৪ আসনের সংসদ সদস্য শহিদুল ইসলাম খান বাবুল খাল পুনঃখনন কাজের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন। পরে ফরিদপুরের জেলা প্রশাসক মাজহারুল ইসলাম প্রকল্প এলাকা পরিদর্শন করে বাস্তবায়ন প্রক্রিয়ার প্রশংসা করেন।
দুটি উপজেলায় খালের সিংহভাগ খননকাজ চললেও জুন ও জুলাই মাসে অনাবৃষ্টির কারণে খালগুলো পানিতে তলিয়ে যায়। এতে খননকাজে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হলে কাজ বন্ধ হয়ে যায়।
খননকাজ যথাযথভাবে সম্পন্ন না হওয়ায় বরাদ্দকৃত অর্থের মধ্যে ভাঙ্গা উপজেলা থেকে ৬৪ লাখ ৩৯ হাজার ৯১৬ টাকা সরকারি কোষাগারে ফেরত পাঠান উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাহমুদুল হাসান। একইভাবে সদরপুর উপজেলার চারটি খাল খননের বরাদ্দ থেকে ৩৬ লাখ ৪০ হাজার টাকা সরকারি কোষাগারে ফেরত পাঠান উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শরীফ শাওন।
সরকারি অর্থ ব্যবহারে জবাবদিহিতা ও স্বচ্ছতার এমন উদ্যোগে দুই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা স্থানীয়দের প্রশংসা পেয়েছেন।
ভাঙ্গা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাহমুদুল হাসান জানান, ভাঙ্গায় তিনটি খাল খননের জন্য ৩ কোটি ৬০ লাখ ৪৭ হাজার ৭৭৫ টাকা বরাদ্দের মধ্যে ৬৪ লাখ ৩৯ হাজার ৯১৬ টাকা সরকারি কোষাগারে ফেরত পাঠানো হয়েছে।
ফরিদপুর-৪ আসনের সংসদ সদস্য শহিদুল ইসলাম খান বাবুল বলেন, বিএনপি সরকার স্বচ্ছতা ও জনগণের কাছে জবাবদিহিতার ভিত্তিতে পরিচালিত হওয়ায় দুই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা একটি অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। তিনি তাঁদের ধন্যবাদ জানান।
রিপোর্টার্স২৪/ধ্রুব