ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি: ঠাকুরগাঁওয়ের সদর, পীরগঞ্জ ও রাণীশংকৈল উপজেলায় গত শনিবার থেকে রোববারের মধ্যে পানিতে ডুবে দুইজন এবং পৃথক দুর্ঘটনায় আরও দুইজনের মৃত্যু হয়েছে। এসব ঘটনায় সংশ্লিষ্ট থানায় পৃথক অপমৃত্যুর মামলা হয়েছে।
সদর উপজেলার শিবগঞ্জ বাজার এলাকার পারপুগী ঈদগাহ মাঠসংলগ্ন একটি পুকুর থেকে রোববার নূর হাসান (১১) নামে এক শারীরিক প্রতিবন্ধী শিশুর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। সে মধ্য পারপুগী গ্রামের আক্তার আলীর ছেলে এবং স্থানীয় একটি মাদ্রাসার শিক্ষার্থী। সকালে বন্ধুদের সঙ্গে গোসল করতে নেমে নিখোঁজ হওয়ার পর ফায়ার সার্ভিস ও স্থানীয় লোকজন জাল ফেলে তার মরদেহ উদ্ধার করেন।
এদিকে পীরগঞ্জ উপজেলার টাঙ্গন নদীতে গোসল করতে নেমে রিপন হোসেন (১৯) নামে এক তরুণের মৃত্যু হয়েছে। উপজেলার আকাশীল গ্রামের ফয়জুল ইসলামের ছেলে রিপন শনিবার সকালে বন্ধুদের সঙ্গে নদীতে গোসল করতে গিয়ে গভীর পানিতে তলিয়ে যান। খবর পেয়ে রংপুর থেকে ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল উদ্ধার অভিযান চালায়। সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে ঘটনাস্থল থেকে কিছু দূরে তার মরদেহ ভেসে ওঠে।
রাণীশংকৈল উপজেলার ভেদাইল গ্রামের অনিল চন্দ্র ঝডুরাম (৬৫) সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন। শ্রবণপ্রতিবন্ধী এই বৃদ্ধ রোববার সকালে জমিতে গোবর ফেলতে যাওয়ার পথে রাস্তা পার হওয়ার সময় একটি মোটরসাইকেলের ধাক্কায় গুরুতর আহত হন। স্থানীয় চিকিৎসকের কাছে নেওয়ার পর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
অন্যদিকে পীরগঞ্জ উপজেলার মল্লিকপুর গ্রামের শামসুল হক (৬৯) বাইসাইকেল থেকে পড়ে আহত হয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন। শনিবার রাতে বোলাইহাট বাজার থেকে বাড়ি ফেরার পথে কাঁচা রাস্তায় পিছলে পড়ে তিনি আহত হন। প্রথমে পীরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এবং পরে দিনাজপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হলে রোববার বিকেলে তার মৃত্যু হয়।
পুলিশ জানায়, চারটি ঘটনাতেই সংশ্লিষ্ট থানায় অপমৃত্যুর মামলা হয়েছে। স্বজনদের কোনো অভিযোগ না থাকায় আইনি প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
রিপোর্টার্স২৪/রাফিদ