অনলাইন ডেস্ক: ইরানের সঙ্গে চলমান সংকটের দীর্ঘমেয়াদি সমাধানে যুক্তরাষ্ট্র সামরিক, অর্থনৈতিক ও কূটনৈতিক—সব ধরনের বিকল্প ব্যবহার করবে বলে জানিয়েছেন মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স।
বুধবার ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ভ্যান্স বলেন, ইরান সংকট মোকাবিলায় যুক্তরাষ্ট্র এমন একটি সমাধান চায়, যা মার্কিন জনগণ ও প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জন্য সর্বোত্তম ফল বয়ে আনবে।
ইরানের সঙ্গে আলোচনার জটিলতা তুলে ধরে তিনি বলেন, দেশটির জনগণ ও রাজনৈতিক কাঠামো অত্যন্ত জটিল। ইরানের শাসনব্যবস্থার ভেতরে একদিকে সংঘাতের অবসান চাওয়া ব্যক্তিরা রয়েছেন, অন্যদিকে এমন কট্টরপন্থীরাও আছেন যারা লড়াই চালিয়ে যেতে আগ্রহী।
ভ্যান্স বলেন, এই জটিল পরিস্থিতির মধ্যেও যুক্তরাষ্ট্র একটি কার্যকর পথ খুঁজে বের করার চেষ্টা করছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, প্রক্রিয়াটি কঠিন ও সময়সাপেক্ষ হলেও শেষ পর্যন্ত কাঙ্ক্ষিত সমাধানে পৌঁছানো সম্ভব হবে।
ইরানের পারমাণবিক সক্ষমতা নিয়ে কঠোর অবস্থান জানিয়ে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট বলেন, তেহরানের হাতে কখনোই পারমাণবিক অস্ত্র থাকবে না। একই সঙ্গে তিনি আশা প্রকাশ করেন, সংকটের সমাধান হলে তেলের দাম কমবে এবং তা স্থিতিশীল থাকবে।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সাম্প্রতিক সামরিক উত্তেজনা এবং হরমুজ প্রণালীর নিরাপত্তা নিয়ে বিরোধের প্রেক্ষাপটে ভ্যান্স এসব মন্তব্য করেন।
এর আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছিলেন, প্রাণহানি এড়াতে তিনি সামরিক পদক্ষেপের পরিবর্তে ইরানের সঙ্গে একটি চুক্তিতে পৌঁছাতে বেশি আগ্রহী। তবে কূটনৈতিক প্রচেষ্টা ব্যর্থ হলে শক্তি প্রয়োগের বিকল্পও বিবেচনায় থাকবে বলে সতর্ক করেন তিনি।
গত ১৮ জুন ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে একটি কাঠামোগত চুক্তি স্বাক্ষরিত হওয়ার পর চূড়ান্ত সমঝোতা নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছিল। তবে হরমুজ প্রণালীর নিরাপত্তা, নৌ চলাচলের স্বাধীনতা এবং সংশ্লিষ্ট অন্যান্য বিষয়ে মতপার্থক্যের কারণে আলোচনা অচল হয়ে পড়ে।
পরবর্তী সময়ে মার্কিন হামলার ঘটনায় উত্তেজনা আরও বাড়ে। এর জবাবে তেহরান জর্ডান, বাহরাইন ও কুয়েতে থাকা মার্কিন সামরিক স্থাপনা ও সরঞ্জাম লক্ষ্য করে পাল্টা হামলা চালায়।
রিপোর্টার্স২৪/রাফিদ