কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি: কুড়িগ্রাম শহরের শাপলা চত্বর এলাকায় অবস্থিত একটি হোটেলের খাবার খেয়ে একাধিক ব্যক্তি ও একটি শিশুর অসুস্থ হওয়ার ঘটনা ঘটেছে। ভুক্তভোগীরা অভিযোগ করেছেন, একই হোটেলে খাবার গ্রহণের পর তাদের বমি, পাতলা পায়খানা ও শারীরিকভাবে গুরুতর অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হতে হয়েছে।
ভুক্তভোগীদের একজন জানান, গত ৪ আগস্ট রাত আনুমানিক ৮টার দিকে কুড়িগ্রাম গ্রীন লাইফ ক্লিনিকে এক বন্ধুর রক্তদান শেষে তিনি আরও তিন বন্ধুকে নিয়ে শাপলা মোড়ে অবস্থিত জান্নাত হোটেল এন্ড রেস্টুরেন্টে খাবার খেতে যান। সেখানে তারা চিকেন ও নান রুটি খান। তাদের মধ্যে একজন অল্প পরিমাণ খাবার খেলেও বাকি তিনজন সম্পূর্ণ খাবার গ্রহণ করেন।
তিনি আরও জানান, রাত প্রায় ১২টার দিকে তার বমি শুরু হয়। প্রথমে বিষয়টিকে সাধারণ গ্যাসজনিত সমস্যা মনে করে ওষুধ খেয়ে ঘুমিয়ে পড়েন। তবে রাত ১টার দিকে তার প্রচণ্ড বমি ও পাতলা পায়খানা শুরু হয় এবং একপর্যায়ে তিনি অজ্ঞান হয়ে পড়েন। পরে তাকে দ্রুত হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
হাসপাতালে গিয়ে তিনি দেখতে পান, একই হোটেলে খাবার খাওয়া তার অন্য বন্ধুরাও একই ধরনের উপসর্গ নিয়ে ভর্তি হয়েছেন। তাদেরও বমি ও তীব্র পাতলা পায়খানা শুরু হয় এবং মেসে অবস্থানকালে গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন।
এছাড়া হাসপাতালের আরেকটি বেডে থাকা ৪ থেকে ৫ বছর বয়সী একটি শিশুর মায়ের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, তারাও একই হোটেল থেকে গ্রিল খাওয়ার পর শিশুটি অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে।
ভুক্তভোগীদের দাবি, একই সময়ের কাছাকাছি সময়ে একই হোটেলের খাবার খাওয়ার পর একাধিক ব্যক্তি ও একটি শিশুর অসুস্থ হওয়া একটি গুরুতর খাদ্য নিরাপত্তা ঝুঁকির ইঙ্গিত দেয়।
বর্তমানে ভুক্তভোগীরা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। চিকিৎসায় কিছুটা উন্নতি হলেও তারা এখনও বিভিন্ন শারীরিক সমস্যায় ভুগছেন বলে জানান।
এ বিষয়ে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরে অভিযোগ জানানো হলে তারা তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নিতে অপারগতার কথা জানায়। পরে বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের কাছে বিষয়টি জানানো হলে তারা ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেয়। তবে ঘটনার দুই দিন পেরিয়ে গেলেও এখন পর্যন্ত দৃশ্যমান কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে।
উল্লেখ্য, সংশ্লিষ্ট হোটেলটি কুড়িগ্রাম শহরের শাপলা চত্বর এলাকায়, মৌচাক হোটেলের ডান পাশে অবস্থিত।
ভুক্তভোগীরা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত, খাবারের নমুনা সংগ্রহ, হোটেলের রান্নাঘর ও খাদ্য পরিবেশ পরীক্ষা এবং দোষীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
রিপোর্টার্স২৪/ধ্রুব