স্টাফ রিপোর্টার: সব জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে বাংলাদেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে ক্ষমতাসীন দল বিএনপির পক্ষ থেকে দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে বেছে নেওয়া হচ্ছে বলে গুঞ্জন ছড়িয়েছে। গণমাধ্যমে এমন খবর চাউর হলেও খোদ মির্জা ফখরুল বলছেন, রাষ্ট্রপতি পদে তাকে মনোনয়ন দেওয়ার বিষয়ে তিনি কিছুই জানেন না।
রোববার (৯ আগস্ট) বিকেলে গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়ে, রাষ্ট্রপতি পদে দলীয় প্রার্থী হিসেবে দলের মহাসচিব এবং বর্তমান স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর প্রায় চূড়ান্ত। আগামী এক-দুই দিন পর বা ১২ আগস্ট এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসতে পারে।
তবে মির্জা ফখরুল নিজেই বলেন, তিনি কিছুই জানেন না।
এর আগে গত ১ আগস্ট দলের স্থায়ী কমিটির বৈঠক শেষে মির্জা ফখরুল জানিয়েছিলেন, রাষ্ট্রপতি প্রার্থী নির্বাচনের দায়িত্ব দলের চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ওপর ন্যস্ত করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী বর্তমানে চট্টগ্রামে অবস্থান করছেন।
তবে মির্জা ফখরুলকে চূড়ান্ত করার খবর গণমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর রোববার সন্ধ্যা ৭টার দিকে তার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বিষয়টি অস্বীকার করেন।
রাষ্ট্রপতি পদে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে কি না, জানতে চাইলে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘এ বিষয়ে আমি কিছু জানি না। ব্যাপারটি আমার নলেজে নেই। দলের পক্ষ থেকেও আমাকে কিছু বলা হয়নি।’
এদিকে, রোববার দুপুরে নির্বাচন কমিশনের রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে দুটি মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছে বিএনপি। দলের পক্ষে মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করেন জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ ও দলের ভাইস চেয়ারম্যান নূরুল ইসলাম মণি এবং দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব ও প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী।
নির্বাচন কমিশনের সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ জানিয়েছেন, ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী আগামী ২০ আগস্ট সংসদ অধিবেশন কক্ষে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। আগ্রহী প্রার্থীরা ১৩ আগস্ট পর্যন্ত মনোনয়নপত্র জমা দিতে পারবেন। ১৬ আগস্ট মনোনয়ন বাছাই এবং ১৮ আগস্ট প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ দিন। সংসদ সদস্যদের গোপন ভোটে এ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এতে রিটার্নিং অফিসারের দায়িত্ব পালন করবেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ এম এম নাসির উদ্দিন।
উল্লেখ্য, গত ২৪ জুলাই সাবেক রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন গুরুতর অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে পদত্যাগ করেন। সংবিধান অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হওয়ার ৯০ দিনের মধ্যে নতুন নির্বাচন সম্পন্ন করার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত সংবিধান অনুযায়ী স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করছেন। আর স্পিকারের দায়িত্ব পালন করছেন ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল।
রিপোর্টার্স২৪/ধ্রুব