| বঙ্গাব্দ
Space For Advertisement
ad728

শালিখায় প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার বিরূদ্ধে দূর্নীতির অভিযোগ

reporter
  • আপডেট টাইম: অগাস্ট ১০, ২০২৬ ইং | ০৬:৩০:৪৯:পূর্বাহ্ন  |  ৩২৩ বার পঠিত
শালিখায় প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার বিরূদ্ধে দূর্নীতির অভিযোগ

মাগুরা প্রতিনিধি: মাগুরার শালিখা উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা হেনায়ারা খানমের বিরূদ্ধে ঘুষ গ্রহন,প্রশাসনিক অনিয়ম, অর্থ আত্মসাৎ,শিক্ষকদের হয়রানি ও সরকারি বিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ উঠেছে। শিক্ষক কর্মচারীদের লিখিত অভিযোগ, সরকারি দপ্তরের চিঠিপত্র এবং প্রশাসনিক নথিপত্রে এ সব অভিযোগ পাওয়া গেছে।  

প্রাপ্ত অভিযোগে বর্ণিত যে চলতি অর্থবছরের শুরুতেই শালিখা উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার ( টিইও) হেনায়ারা খানম গত ১৯ অক্টোবর ২০২৫ তারিখে শালিখায় যোগদান করেন। তিনি যোগদান করেই মেতে ওঠেন অর্থ বানিজ্যে। এরপর তিনি একের পর এক ঘুষ গ্রহন, সরকারি অর্থ আত্মসাৎ , শিক্ষকদের হয়রানি সহ বিভিন্ন অপকর্মে লিপ্ত। শুধু তাইনয়,ভুয়া ভাউচার সাবমিট করে কন্টিজেন্সির ৬৪০০০ হাজার টাকা আত্মসাৎ করেছেন।অফিসে কোনো মালামাল না কিনেই হিসাব রক্ষণ অফিসের মাধ্যমে এই টাকা উত্তোলন করা হয়েছে।বাকি এক লক্ষ টাকাউত্তোলনের জন্য ভুয়া ভাউচার সংগ্রহ করছেন।এদিকে হেনায়ারা খানম ২০২৫ সালে যোগদানের পর থেকে অনলাইনে কোন ভিজিট করেননি।অনলাইন ভিজিটে দূর্নীতির সুযোগ না থাকায় তিনি ম্যানুয়াল ভিজিট দেখিয়ে মাগুরা জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের অনুমোদন নিয়ে আরো ৬৫০০০ টাকার টিএ বিল দাখিল করেছেন বলে হিসাব রক্ষন অফিস সুত্রে জানা গেছে।গত অর্থবছরে ২লক্ষ ৪০ হাজার টাকার টিএ ও অফিস কন্টিজেন্সি ১ লক্ষ ৫০ হাজার টাকার কোন কাজ না করে ভুয়া ভাউচারে টাকা তুলে নেন টিইও হেনায়ারা খানম।সরকারী টাকা আত্মসাৎ করা হেনায়ারা খানমের স্বভাবে পরিনত হয়েছে।কোনো প্রকার অনলাইন ভিজিট ছাড়া স্কুলের প্রধান শিক্ষককে পরিদর্শন খাতাসহ অফিসে ডেকে নিয়ে স্বাক্ষর করার অভিযোগও পাওয়া গেছে। ফলে, স্কুলের শিক্ষার মান তদারকি হচ্ছে না।টিইও হেনায়ারা খানম শুধু বরাদ্দপ্রাপ্ত স্কুলে গিয়ে পারসেন্ট নিয়ে আসেন। শালিখা উপজেলা আইনশৃংখলা মিটিং, সমন্বয় মিটিংয়ের মতো গুরুত্বপূর্ণ সভায়ও তিনি উপস্থিত থাকেন না বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে। সাবেক ইউএনও ও ডিসি হেনায়ারা খানমের বিরুদ্ধে মন্ত্রণালয়ে লিখেও বদলি করাতে পারেনি।তারপর ইউএনও ও ডিসি মহোদয় বদলি হয়ে গেলে হেনায়ারা খানম আনন্দে উক্ত দুইজন কর্মকর্তার বদলিতে অফিসে তার পছন্দের শিক্ষকদের বিরিয়ানি ও কোক পানি খাওয়ান বলে জানা গেছে। শালিখার বিদ্যালয়ের উন্নয়ন কাজের বরাদ্দ থেকে স্কুল প্রতি ২০/৩০ হাজার টাকা নিয়ে চেক প্রদান করেছেন বলে জানা গেছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন প্রধান শিক্ষক টাকা না দেওয়ায় তার চেক দেননি এবং ওই স্কুল এক মাসে হেনায়ারা খানম ৪/৫ বার ভিজিট করেছেন বলে জানা যায়।এদিকে চামচ চুরি, দুধ নিয়ে আসা ও ফল নিয়ে শিক্ষকদের দিয়ে টাকা পরিশোধ করানোর ঘটনায় সারা দেশের লোক জানলেও মাগুরা জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের ডিপিও আমিরুল ইসলাম কোনো পদক্ষেপ নেয়নি।এই সব অপকর্মে হেনায়ারা খানম, আনোয়ারুল কবীর কাজল নামের একজন শিক্ষককে দিয়ে টাকা উঠান বলে একাধিক শিক্ষক অভিযোগ করেন।হেনায়ারা খানম, পুতুল নামের এই টিইও শালিখার প্রাথমিক শিক্ষা শেষ ও ধ্বংস করে দিচ্ছে।আওয়ামী সরকার আমলের নিয়োগপ্রাপ্ত এই দূর্নীতিবাজ শিক্ষা অফিসার হেনায়ারা খানমের অনিয়মে শালিখার শিক্ষক ও শিক্ষা ব্যবস্থা হুমকির মধ্যে ! এই অনিয়মে শালিখাবাসী হতাশ! অফিস সহকারীদের (দপ্তরীদের) বৈশাখী ভাতায় জনপ্রতি ১৫০ টাকা ঘুষ নেওয়ার অভিযোগে ১২ আগস্ট তদন্ত হবে শালিখা উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার হেনায়ারা খানমের বিরুদ্ধে।এই তদন্তে হেনায়ারা খানম নিজেকে নির্দোষ প্রমানের জন্য ৬ আগষ্ট উপজেলার ২৬ জন দপ্তরীকে অফিসে ডেকে এনে জোরপূর্বক সই নিয়েছে সাদা কাগজে।এখনো ১৫ জন দপ্তরী স্বাক্ষর করেনি তাই ৪১ জন অফিস সহকারীর বেতনের চেক ঠেকিয়ে রেখেছেন টিইও হেনায়ারা খানম। ১৫ জন দপ্তরী সাদা কাগজে সই না দেওয়ায় ৯/৮/২৬ বেলা ১২ টায় হেনায়ারা সকল দপ্তরীকে তার অফিসে মিটিংয়ে ডেকেছেন এবং বাকি অফিস সহকারীদেরও ( দপ্তরীদের) সই নিবেন।এ মাসের শুরুতে হেনায়ারা খানম ঢাকা থেকে ফিরে এসে অফিসে ঘোষনা দিয়েছেন মন্ত্রী মহোদয় তাকে নিশ্চয়তা দিয়েছেন শালিখা থেকে হেনায়ারা খানমকে কেউ সরাতে পারবেন না। সাংসদ ও মন্ত্রী মহোদয়ের সাথে সুসম্পর্ক আছে এমন দাবী করে শিক্ষকদের ও দপ্তরীদের সাথে চরম দূর্ব্যবহার করে চলেছেন এই হেনায়ারা খানম।শিক্ষকদেরকে হয়রানী করতে কারো নাম ভাঙ্গানো ভালো চোখে দেখছেন না সাধারন জনগণ।হেনায়ারা খানম আরো ঘোষনা দিয়েছেন শালিখার অভিভাবকরা ১২ আগস্টের তদন্তে তার পক্ষে অফিসে এসে বসে থাকবেন।শালিখার শিক্ষা ব্যবস্থা ধ্বংস করতে জনপ্রতিনিধিদের নাম ব্যবহার করে সরকারী দলের ভাবমুর্তি নষ্ট করছেন হেনায়ারা খানম।

আরও জানাযায়,পিরোজপুর থেকে তিনি এহেন অপকর্মের জন্য সাজাপ্রাপ্ত হন। পরে তিনি শালিখার প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা হিসেবে যোগদান করেন। শালিখায় যোগদানের পরেই আদাজল খেয়ে লেগে যান দূর্নীতিতে। এতে আগামী ১২ আগষ্ট এ কর্মকর্তার সকল অপকর্মের তদন্ত হবে শিক্ষা মন্ত্রনালয় কর্তৃক  । ফলে তার আগেই তিনি শিক্ষক কর্মচারীদের ভয়ভীতি প্রদর্শন করে ও স্কুলে স্কুলে হানা দিয়ে হেনায়ারা খানম শালিখার শিক্ষক ও পিয়নদের মাঝে আতংক সৃষ্টি করে ১২ আগস্টের তদন্ত বাধাগ্রস্থ করছেন।২ লক্ষ টাকা খরচ করে শালিখা এসেছেন টাকা উঠাতে।হেনায়ারা খানমের ঘুষ বানিজ্য অবাধে চলেছে আগের মতোই। প্রতিদিন শিক্ষকদের কাজে সমানে ন্যুনতম ৫০০ টাকা থেকে ঘুষ শুরু হয়।পেনশন ফাইলে ২০/৩০ হাজার টাকা ঘুষ আদায় হয়।অনেক শিক্ষক স্থায়ীকরনের আবেদন দিলেও তিনি নিস্পত্তি বা অগ্রায়ন করেন না। টাকা আগে না দিলে তিনি বলেন বড়বাবুর কাছে ফাইল জমা দিন, পরে দেখবো।একসময় সেসব ফাইল হারিয়ে যাচ্ছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক শিক্ষক চাকরি স্থায়ীকরণ আবেদন দিলেও রিসিভ না করে জমা রাখেন কিন্তু সব ফাইল পড়ে আছে অগ্রয়ন ছাড়াই।শিক্ষকরা বলেন তাদের চাকরি জীবনে এমন দূর্নীতিবাজ অফিসার পাননি।

অনুসন্ধানে বেরিয়ে এসেছে শালিখা শিক্ষা অফিসে প্রতিদিন গড়ে ১২/১৫ হাজার টাকা ঘুষ লেনদেন হয়। এসব কালেকশন আনোয়ারুল ইসলাম কাজলই বেশি সংগ্রহ করে থাকেন। হেনায়ারা খানম প্রকাশ্যেই বলেন, ২/৪ টা সাংবাদিক তার মাজায় গুজা থাকে।এরকম একজন কুখ্যাত ও সাজাপ্রাপ্ত দূর্নীতিবাজ শিক্ষা কর্মকর্তা শালিখার শিক্ষার পরিবেশ ধ্বংস করে চলেছে কিন্তু প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিরা চেয়ে মজা ও তামাশা দেখছে।বিষয়টি নিয়ে সাধারন জনগণের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা যায়।রাজনীতিবিদদের প্রতিশ্রুতী দ্র্নূীতিমুক্ত দেশ গড়ার মুল বাধা হেনায়ারা খানমের ঘুষ বানিজ্যে চুপ কেন শালিখার রাজনৈতিক অভিভাবকরা?শালিখার প্রাথমিক শিক্ষা বিক্রি করে জনগনের সমর্থন আশা করা ভুল!!তাই এখনই সময় জনগনের শত্রু হেনায়ারা খানমের এই ঘুষ বানিজ্য বন্ধ করার।

এছাড়াও নড়াইল জেলায় চাকরি করা শিক্ষা কর্মকর্তা মোঃ সাইফুল্লাহ  বলেন, সবাই হেনায়ারা খানম কে পাগলি বলতো ।তবে জাতে মাতাল তালে ঠিক আছে আর তার চাকরি উপবৃত্তি প্রজেক্ট অফিসার হাইকোর্টে মামলা করে এই উপজেলা শিক্ষা অফিসার পদ পেয়েছে এজন্য অতিরিক্ত লোভ মনে। হেনায়ারা খানম ছিলো (প্রজেক্টের) উপবৃত্তি প্রদান প্রকল্পের  এমও পোস্টে চাকরি করা মহিলা।  বর্তমানে শালিখা উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন এবং ইতিপূর্বে তিনি প্রাথমিক শিক্ষার জন্য উপবৃত্তি প্রদান প্রকল্প-এর নড়াইল জেলা অফিসে মনিটরিং অফিসার হিসেবে যুক্ত ছিলেন। 

এমও পোস্ট প্রজেক্ট একসময় শেষ হয়ে বন্ধ হয়ে যায় তখন এই লোকজন হাইকোর্টে মামলা করে তার ফলে ২৭-২৮ জন এমও পদের লোকজন উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার পদে গেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন উপজেলা শিক্ষা অফিসার জানান, আমরা প্রকৃত এটিও পদে পরীক্ষা দিয়ে চাকরি করে প্রমোশন পেয়ে ইউপিইও পদ পেয়েছি। আর এই এমও প্রজেক্টের পদের লোকজন গুলো নিচু মন-মানসিকতা নেগেটিভ দৃষ্টি ভঙ্গি লোকজন এদের জন্য মান সম্মান আমাদের মতো প্রকৃত অফিসারদের মান সম্মান চলে যাচ্ছে। 

 এ বিষয়ে উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মোসাঃ হেনায়ারা খানম এর সাথে মুঠোফোনে কথা হলে তিনি বলেন,এ বিষয়ে আমার কিছুই জানা নাই। বলে  একজন কর্মচারীকে ফোন ধরিয়ে দেন। 

রিপোর্টার্স২৪/ধ্রুব

ad728

নিউজটি শেয়ার করুন

ad728
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ রিপোর্টার্স২৪ - সংবাদ রাতদিন সাতদিন | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় ক্রিয়েটিভ জোন ২৪