| বঙ্গাব্দ
Space For Advertisement
ad728

নিঝুম দ্বীপের বালিতে ২৫ শতাংশ মূল্যবান ভারী খনিজের সন্ধান

reporter
  • আপডেট টাইম: অগাস্ট ১২, ২০২৬ ইং | ২৩:০৬:১৩:অপরাহ্ন  |  ৬৪৬ বার পঠিত
নিঝুম দ্বীপের বালিতে ২৫ শতাংশ মূল্যবান ভারী খনিজের সন্ধান

স্টাফ রিপোর্টার: মেঘনা নদীর মোহনায় বঙ্গোপসাগরের বুকে জেগে ওঠা নিঝুম দ্বীপের বালিতে উচ্চমাত্রার অর্থনৈতিক ও শিল্পোৎপাদন উপযোগী ভারী খনিজের সন্ধান পেয়েছেন গবেষকরা। 

সাম্প্রতিক এক এক্সআরডি (এক্স-রে ডিফ্র্যাকশন) বিশ্লেষণে দেখা গেছে, এই সৈকতের মোট পলির ২৫ শতাংশই মূল্যবান ভারী খনিজ (টোটাল হেভি মিনারেলস বা টিএইচএম)।

গবেষকদের মতে, সৈকতের এই বিপুল খনিজ সম্পদ দেশের অর্থনীতি ও শিল্প খাতে নতুন সম্ভাবনার দুয়ার খুলে দিতে পারে।

সমৃদ্ধ খনিজ উপাদান

গবেষণাগারে বালির নমুনা পরীক্ষা করে সিলিম্যানাইট, গার্নেট (অ্যালমান্ডিন), জিরকন, রুটাইল, ইলমেনাইট, জেনোটাইম, মোনাজাইট এবং কায়ানাইটের মতো অতি মূল্যবান ভারী খনিজের উপস্থিতি নিশ্চিত করা হয়েছে। এছাড়া খনিজ মিশ্রণে অ্যামফিবোল এবং পাইরক্সিন গ্রুপের অন্যান্য খনিজের উপস্থিতিও পাওয়া গেছে।

গবেষণায় দেখা গেছে, খনিজের চৌম্বকীয় অংশে সবচেয়ে বেশি মাত্রায় রয়েছে ‘এনস্টাটাইট’। এর পাশাপাশি বায়োটাইট, পারগাসাইট, মাসকোভাইট, সোডালাইট, ডায়োপসাইড, ম্যাগনেসাইট, স্পিনেল, ট্রেমোলাইট, অ্যানোরথাইট, ম্যাগনেসিওফেরাইট, টাইটানাইট, পেরিক্লেস, স্পোডুমিন এবং হর্নব্লেন্ডের মতো খনিজ উপাদানও চিহ্নিত করা হয়েছে।

এদিকে বাংলাদেশের নদ-নদীর বালিতে সেমিকন্ডাক্টর শিল্পের প্রয়োজনীয় কাঁচামাল তৈরির সম্ভাবনা যাচাইয়ে প্রথমবারের মতো জরিপ চালানো হয়েছে।

এতে দেখা গেছে দেশের ৮টি প্রধান নদী ব্যবস্থার পাঁচ হাজার ৪৮১ বর্গকিলোমিটার এলাকায় চালানো এ জরিপে সংগ্রহ করা হয়েছে ৬ হাজার ৬০০টির বেশি নমুনা। এর মধ্যে ৮০০টির বেশি নমুনার পেট্রো-মিনারেলজিক্যাল, রাসায়নিক ও ভৌত বিশ্লেষণ করা হয়েছে।

উন্নত প্রযুক্তির ব্যবহার

সৈকতের এই বালিতে হরেক রকমের খনিজ উপাদান একসাথে মিশে থাকায় এবং তাদের কার্যকারিতার মাত্রা কাছাকাছি হওয়ায় সাধারণ পদ্ধতিতে এগুলো আলাদা করা বেশ জটিল ছিল। এই জটিলতা দূর করতে গবেষকরা জাপানের তৈরি অত্যাধুনিক ‘স্মার্টল্যাব এসই (রিগাকু)’ এক্স-রে ডিফ্র্যাক্টোমিটার ব্যবহার করেছেন। 

পরবর্তীতে ডিজিটাল তথ্য বিশ্লেষণ এবং নিখুঁত খনিজ শনাক্তকরণের জন্য ‘এক্স’পার্ট হাই স্কোর প্লাস’ সফটওয়্যারের অটো-ম্যাচিং ডেটা ব্যবহার করে এই খনিজগুলোর সুনির্দিষ্ট তালিকা তৈরি করা হয়।

অর্থনৈতিক সম্ভাবনা

বিশেষজ্ঞদের মতে, জিরকন, রুটাইল এবং ইলমেনাইটের মতো ভারী খনিজগুলো বিশ্বজুড়ে সিরামিক, রং, ওয়েল্ডিং রড এবং মেটালার্জিক্যাল শিল্পে অত্যন্ত মূল্যবান কাঁচামাল হিসেবে ব্যবহৃত হয়। 

নিঝুম দ্বীপ সৈকতে ২৫ শতাংশ ভারী খনিজের এই বিপুল মজুদ বাণিজ্যিক ভিত্তিতে কাজে লাগানো গেলে তা দেশের অভ্যন্তরীণ চাহিদা মিটিয়ে বিদেশেও রফতানি করা সম্ভব। সূত্র: এমডিপিআই

রিপোর্টার্স২৪/ধ্রুব

ad728

নিউজটি শেয়ার করুন

ad728
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ রিপোর্টার্স২৪ - সংবাদ রাতদিন সাতদিন | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় ক্রিয়েটিভ জোন ২৪