| বঙ্গাব্দ
Space For Advertisement
ad728

সিলেটে ট্রিপল মার্ডার: নিহতদের জানাজা সম্পন্ন, মামলা হয়নি

reporter
  • আপডেট টাইম: অগাস্ট ১৪, ২০২৬ ইং | ২১:৫৫:৩০:অপরাহ্ন  |  ২৬৬ বার পঠিত
সিলেটে ট্রিপল মার্ডার: নিহতদের জানাজা সম্পন্ন, মামলা হয়নি

সিলেট প্রতিনিধি: সিলেটে নিজ বাসায় হত্যাকাণ্ডের শিকার ব্যবসায়ী এম এ সাত্তার দম্পতির জানাজা সম্পন্ন হয়েছে। শুক্রবার (১৪ আগস্ট) বাদ আসর নগরের ঐতিহাসিক শাহী ঈদগাহ ময়দানে তাদের জানাজা সম্পন্ন হয়। এতে বিপুলসংখ্যক লোকজন অংশ নেন।

হত্যাকাণ্ডের খবর পেয়ে শুক্রবার (১৪ আগস্ট) যুক্তরাজ্য থেকে সিলেটে এসে জানাজায় অংশ নেন দম্পতির ছেলে আরিফ ইফতেখার। এর আগে বৃহস্পতিবার দেশে ফেরেন দুই মেয়ে।

শুক্রবার বিকেলে দুটি অ্যাম্বুলেন্সে করে তাদের লাশ রায়নগরের বাসা থেকে ঈদগাহ ময়দানে নেওয়া হয়। জানাজা শেষে তাদের লাশ নগরের নয়াসড়ক হযরত মানিকপীর (রহ.) মাজার সংলগ্ন কবরস্থানে দাফন করা হয়। এছাড়া গৃহকর্মী তাহমিনার জানাজা বৃহস্পতিবারই সুনামগঞ্জে গ্রামের বাড়িতে সম্পন্ন হয়।

এদিকে, হত্যার ঘটনায় নিহত দম্পতির ছেলের রাতেই কোতোয়ালি মডেল থানায় মামলা করার কথা রয়েছে।

শুক্রবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় এসএমপির কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খান মোহাম্মদ মাইনুল জাকির বলেন, তিন হত্যার ঘটনায় মামলা দায়ের হয়নি। তবে নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে রাতে মামলা দায়ের করা হতে পারে।

তিনি বলেন, তিন হত্যার ঘটনাটি পুলিশ গভীরভাবে তদন্ত করছে। ঘটনার বিষয়ে ভূমি সংক্রান্তসহ যতগুলো অভিযোগ শোনা যাচ্ছে, সবগুলো তদন্ত করে দেখা হবে। সেইসঙ্গে আটক বাবুল মিয়াকে মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো পর তাকে অধিকতর জিজ্ঞাসাবাদের জন্য রিমান্ড আবেদন করা হবে।

হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত ছুরি উদ্ধারের বিষয়ে ওসি খান মোহাম্মদ মাইনুল জাকির বলেন, আগের দিন জঙ্গল পরিষ্কার করলেও গাছপালার পাতা পরদিন শুকিয়ে যাওয়াতে ব্যবহৃত ছোরা সহজেই উদ্ধার করা হয়। তবে এই ছোরাটি হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত হয়েছে কি না, খতিয়ে দেখতে ফরেনসিক করা হবে। সেইসঙ্গে ঘরে রক্তের ছাপের সঙ্গে অভিযুক্ত বাবুল মিয়ার রক্তের ক্রসম্যাচ করা হবে।

আটক বাবুল কতটুকু জড়িত– এ বিষয়ে তিনি বলেন, সে ওয়্যারড্রব তছনছ করে টাকা নিয়েছে। সেই টাকা দিয়ে বাসা ভাড়া দেওয়ার কথা স্বীকার করেছে। অবশ্য ঘটনার সঙ্গে ভূমিসংক্রান্ত কোনো যোগসূত্র আছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এমনকি যতগুলো ইস্যু উঠে এসেছে, সেগুলো তদন্তের আওতায় নেওয়া হয়েছে।

গত বুধবার (১২ আগস্ট) সকাল ৯টা থেকে সাড়ে ১০টার মধ্যে রায়নগরের মিতালী আবাসিক এলাকার মিতালী ১১১ নম্বর নিকুঞ্জ ভিলা নামক বাসার দোতলায় দুটি কক্ষে তিনজনকে হত্যার ঘটনা ঘটে।

নিহতরা হলেন– এলাকার পরিচিত মুখ সিলেটের বিয়ানীবাজারের আকাখাজানা গ্রামের মৃত আবরু মিয়ার ছেলে সিলেট সিটি কর্পোরেশনের ১৯ নং ওয়ার্ডের মিতালী ১১১, নিকুঞ্জ ভিলার বাসিন্দা এমএ সাত্তার (৮২), তার স্ত্রী সুরাইয়া বেগম (৭২) এবং তাদের বাসার গৃহকর্মী তাহমিনা (১৫)। তাহমিনা নগরের জল্লারপাড় এলাকার বাসিন্দা।

নিহত আব্দুস সাত্তার সিলেট মহানগর আওয়ামী লীগের ১৯ নম্বর ওয়ার্ডের উপদেষ্টা ও সিলেট চেম্বারের পরিচালক ছিলেন। তিনি দীর্ঘদিন ধরে নিজ বাসায় সস্ত্রীক বসবাস করছিলেন। তাদের দেখাশোনা করতেন গৃহকর্মী তাহমিনা। তাদের চার সন্তান যুক্তরাজ্য ও যুক্তরাষ্ট্রে থাকেন।

ওইদিন বিকেলে ট্রিপল মার্ডারের ঘটনায় বাবুল মিয়া (৪০) নামে এক ব্যক্তিকে আটক করে পুলিশ। আটক বাবুল মিয়া নগরের রায়নগর রাজবাড়ি এলাকার মৃত নুর মিয়া ও আনোয়ারা বেগম দম্পতির ছেলে। তার গ্রামের বাড়ি চাঁদপুর জেলায়।

পেশায় কসাই বাবুল মিয়া পুলিশের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানায়, বাসার কাজের মেয়েকে প্রেম নিবেদন করেছিল সে। কুপ্রস্তাবও দিয়েছিল। তার প্রস্তাব ফিরিয়ে দিয়ে অপমান করায় বুধবার সকালে ওই বাসায় গিয়ে গৃহকর্মী তাহমিনাকে খুন করে। তাকে অন্তত ১৩/১৪টি ছুরিকাঘাতের পর গলায়ও ছুরিকাঘাত করে। তার আর্তচিৎকারে বাসার মালিকের স্ত্রী রান্না ঘর থেকে এগিয়ে এলে তাকেও ছুরিকাঘাত করে এবং জবাই করে হত্যা করে। এরপর বৃদ্ধের সঙ্গে ধস্তাধস্তি হলে চোয়াল বরাবর ও কানের পাশে ছুরিকাঘাত করে হত্যা করে। ধস্তাধস্তির সময় নিজেও আঘাতপ্রাপ্ত হয়।

হত্যাকাণ্ডের পর বাসার ওয়্যারড্রব তছনছ করে মেঝেতে দলিলের টুকরো ফেলার বিষয়টি নিয়ে বিভিন্ন মহল সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রশ্ন তুলেছেন। হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হওয়ার পর গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র, দলিলাদি খোয়া গেছে বলেও ধারণা করা হচ্ছে।

রিপোর্টার্স২৪/ধ্রুব

ad728

নিউজটি শেয়ার করুন

ad728
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ রিপোর্টার্স২৪ - সংবাদ রাতদিন সাতদিন | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় ক্রিয়েটিভ জোন ২৪