| বঙ্গাব্দ
Space For Advertisement
ad728

রুশ হামলায় ইউক্রেনের সবচেয়ে বড় ইস্পাত কারখানা বন্ধ

reporter
  • আপডেট টাইম: সেপ্টেম্বর ২৬, ২০২৬ ইং | ১১:৫৫:২৯:পূর্বাহ্ন  |  ৯৭৭ বার পঠিত
রুশ হামলায় ইউক্রেনের সবচেয়ে বড় ইস্পাত কারখানা বন্ধ

ইন্টারন্যাশনাল ডেস্ক: একের পর এক রুশ বিমান হামলায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির পর ইউক্রেনের সবচেয়ে বড় ইস্পাত কারখানায় উৎপাদন বন্ধ হয়ে গেছে। দেশটির মধ্যাঞ্চলের ক্রিভি রিহ শহরে অবস্থিত কারখানাটি পরিচালনা করে বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম ইস্পাত উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান আর্সেলর মিত্তাল।

শুক্রবার ইউক্রেন সরকারকে দেওয়া এক বার্তায় প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, বর্তমান পরিস্থিতিতে কারখানাটিতে নিরাপদ ও স্থায়ীভাবে উৎপাদন চালিয়ে যাওয়া সম্ভব নয়। গত পাঁচ সপ্তাহে চার দফা রুশ হামলায় কারখানাটির গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলো ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এসব হামলায় পাঁচ শ্রমিক নিহত হয়েছেন।

ইউক্রেনের অর্থনীতিতে ইস্পাত শিল্পের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। একসময় দেশটির মোট রপ্তানির প্রায় ১৫ শতাংশ আসত এই খাত থেকে। তবে রাশিয়ার দীর্ঘস্থায়ী হামলা এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের বিভিন্ন বিধিনিষেধের কারণে কয়েক বছর ধরেই শিল্পটি নানা সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে।

সাম্প্রতিক মাসগুলোতে ইউক্রেনজুড়ে রুশ বিমান হামলার মাত্রা আরও বেড়েছে। ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও জেটচালিত ড্রোন ব্যবহার করে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান, সরবরাহব্যবস্থা, কৃষ্ণসাগরের বন্দর এবং বিভিন্ন বেসামরিক অবকাঠামোতে হামলা চালানো হচ্ছে।

ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি শুক্রবার বলেন, রাশিয়া এখন ইউক্রেনীয়দের দৈনন্দিন জীবনের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত অবকাঠামোকেও হামলার লক্ষ্যবস্তু করছে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, গুদাম, তথ্য সংরক্ষণকেন্দ্র, ইন্টারনেট সেবা প্রতিষ্ঠানসহ বিভিন্ন স্থাপনায় হামলা চালানো হচ্ছে।

জেলেনস্কি বলেন, এসব হামলার ফলে মানুষের যোগাযোগ, পড়াশোনা এবং স্বাভাবিকভাবে কাজ চালিয়ে যাওয়ার সক্ষমতা বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।

এদিকে ইউক্রেনের বাজেট ও প্রতিরক্ষা ব্যয় নিয়ে ইউরোপীয় ইউনিয়ন এবং আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) সঙ্গে আলোচনা চলছে। চলতি বছর প্রতিরক্ষা খাতে অতিরিক্ত ২৭ বিলিয়ন ডলার সহায়তা চেয়েছে কিয়েভ।

জেলেনস্কি জানান, আগামী বছরের শুরুতে ড্রোন সরবরাহ নিশ্চিত করতে অক্টোবর ও নভেম্বরের মধ্যেই নতুন করে ড্রোনের অর্ডার দিতে হবে। এ জন্য ইউক্রেনের নিজস্ব প্রযুক্তিতে তৈরি ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদনে আরও বিনিয়োগ প্রয়োজন বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আলোচনার দিকেও নজর রাখছে ইউক্রেন। জেলেনস্কি ট্রাম্পকে চীনের ওপর বেইজিংয়ের প্রভাব কাজে লাগিয়ে রাশিয়াকে যুদ্ধ বন্ধে চাপ দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।

অন্যদিকে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন বলেছেন, ইউরোপের সঙ্গে কোনো ধরনের সংঘাতের প্রস্তুতি নিচ্ছে না রাশিয়া। ইউরোপের কয়েকটি ন্যাটো সদস্য দেশ রাশিয়ার সম্ভাব্য হামলার বিষয়ে সতর্ক করার পর তিনি এ মন্তব্য করেন।

পুতিনের দাবি, ইউরোপের সঙ্গে উত্তেজনা বাড়ানোর কোনো বাস্তব কারণ রাশিয়ার নেই। তবে ইউক্রেনকে সহায়তা করা ন্যাটোর অবকাঠামোয় রাশিয়া হামলা চালাতে পারে বলে ইউরোপের কয়েকটি দেশের গোয়েন্দা ও নিরাপত্তা সংস্থা সতর্ক করেছে।

এদিকে ফ্রান্স ও জার্মানিতে ইউক্রেনবিরোধী কিংবা ইউক্রেনকে তুলনামূলক কম সমর্থনকারী রাজনৈতিক দলগুলো নির্বাচনে শক্তিশালী হলে ইউক্রেনের প্রতি ইউরোপের সমর্থন কমে যেতে পারে এমন আশঙ্কা নিয়ে আলোচনা চলছে।

তবে ইউরোপের কয়েকজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা বলেছেন, কিছু দেশে ইউক্রেনের প্রতি সমর্থনের মাত্রা কমে গেলেও দেশটির প্রতি ইউরোপীয় সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে।

অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের ১৪ জন সিনেটর প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে আগামী ডিসেম্বরে ফ্লোরিডায় অনুষ্ঠেয় জি-২০ সম্মেলনে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের আমন্ত্রণ প্রত্যাহারের আহ্বান জানিয়েছেন।

ট্রাম্পের কাছে পাঠানো এক চিঠিতে সিনেটররা বলেন, ইউক্রেনে রাশিয়ার চলমান যুদ্ধের মধ্যে পুতিনকে জি-২০ সম্মেলনে অংশ নেওয়ার সুযোগ দেওয়া হলে রুশ সরকারের কর্মকাণ্ডকে স্বাভাবিক বা গ্রহণযোগ্য হিসেবে দেখানোর ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।

সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান


রিপোর্টার্স২৪/ঝুম

ad728

নিউজটি শেয়ার করুন

ad728
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ রিপোর্টার্স২৪ - সংবাদ রাতদিন সাতদিন | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় ক্রিয়েটিভ জোন ২৪