স্টাফ রিপোর্টার: কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার খেওয়ার আলগার চর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পাঁচ শিক্ষক অনুপস্থিত থাকার ঘটনায় এবার উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা ও সংশ্লিষ্ট উপজেলা সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার দায়িত্বে অবহেলার কারণ জানতে চাওয়া হয়েছে।
প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগ থেকে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তাকে বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে। একই সঙ্গে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তাও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের কাছে জবাব চেয়েছেন।
মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) শিক্ষা মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনকে সূত্র হিসেবে উল্লেখ করে গতকাল সোমবার প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগ থেকে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার কাছে চিঠি পাঠানো হয়।
এতে বলা হয়, ১৭ আগস্ট খেওয়ার আলগার চর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের অনুপস্থিতির কারণে শিক্ষার্থীরা শ্রেণিকক্ষের বাইরে আন্দোলন করছে এমন প্রতিবেদন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে।
চিঠিতে বলা হয়, ১৮ আগস্ট থেকে দ্বিতীয় প্রান্তিক মূল্যায়ন শুরু হওয়ার কথা থাকলেও ১৭ আগস্ট বিদ্যালয়ে কোনো শিক্ষক উপস্থিত ছিলেন না। ওই দিন বিদ্যালয়টি তালাবদ্ধ ছিল এবং জাতীয় পতাকাও উত্তোলন করা হয়নি। প্রধান শিক্ষক ও সহকারী শিক্ষকদের এমন দায়িত্ব অবহেলার কারণে প্রাথমিক শিক্ষার গুণগত মান ব্যাহত হচ্ছে বলে উল্লেখ করা হয়।
এ অবস্থায় বিদ্যালয়ের এমন অব্যবস্থাপনার প্রকৃত কারণ তদন্ত করে দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক ও সহকারী শিক্ষকদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তাকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে উপজেলা সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা ও উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার দায়িত্বে অবহেলার কারণ ব্যাখ্যা করে আগামী তিন কার্যদিবসের মধ্যে পরিচালক (পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন) বরাবর জবাব পাঠাতে বলা হয়েছে।
প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের উপপরিচালক (পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন) মো. তৌহিদুল ইসলাম স্বাক্ষরিত চিঠিটি মহাপরিচালকের ব্যক্তিগত সহকারী, উপপরিচালক (প্রাথমিক শিক্ষা), রংপুর বিভাগসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরে পাঠানো হয়েছে।
এর পরিপ্রেক্ষিতে কুড়িগ্রামের জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা স্বপন কুমার ১৮ আগস্ট উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার কাছে পৃথক চিঠি পাঠান। এতে খেওয়ার আলগার চর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের অনুপস্থিতির কারণে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের ঘটনায় তার এবং সংশ্লিষ্ট ক্লাস্টারের উপজেলা সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার দায়িত্বে অবহেলার কারণ ব্যাখ্যা করে দুই কার্যদিবসের মধ্যে জবাব দিতে বলা হয়েছে।
এর আগে ১৭ আগস্ট বিদ্যালয়ের পাঁচ শিক্ষককে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেয় কুড়িগ্রাম সদর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস। নোটিশে বলা হয়, সেদিন বেলা ১২টা ৩১ মিনিটে এক শিক্ষার্থীর অভিভাবক ফোন করে বিদ্যালয়ে কর্মরত পাঁচ শিক্ষকের কেউই উপস্থিত না থাকার বিষয়টি জানান। পরে বেলা ১২টা ৩৪ মিনিটে তিনি হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে বিদ্যালয়ের একটি ভিডিও পাঠান। ভিডিওতে বিদ্যালয়টি তালাবদ্ধ এবং শিক্ষার্থীদের শ্রেণিকক্ষের বাইরে এলোমেলোভাবে ছুটাছুটি করতে দেখা যায়।
নোটিশে আরও বলা হয়, এর আগে ৬ আগস্ট উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা ও তিনজন উপজেলা সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা অভিযোগের ভিত্তিতে বিদ্যালয়টি সরেজমিনে তদন্ত করেছিলেন। কিন্তু ওই তারিখের পর থেকে কোনো শিক্ষক বিদ্যালয়ে উপস্থিত না থেকেও প্রতিদিনের হোয়াটসঅ্যাপ হাজিরায় উপস্থিতি দেখিয়েছেন বলে অভিযোগ পাওয়া যায়।
এ ঘটনায় ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মোছা. ইশরাত জাহান এবং সহকারী শিক্ষক মরিয়ম নীপা, মোছা. জাহানারা বেগম, মো. আতাউর রহমান ও মোছা. আরিফা খাতুনকে তিন কার্যদিবসের মধ্যে সন্তোষজনক জবাব দিতে বলা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে সুপারিশসহ প্রতিবেদন পাঠানো হবে না এ বিষয়ে জবাব দিতে বলা হয়েছে নোটিশে।
রিপোর্টার্স২৪/ধ্রুব