| বঙ্গাব্দ
Space For Advertisement
ad728

ঢাকা-দিল্লি কূটনৈতিক সম্পর্কে নতুন টানাপোড়েন

reporter
  • আপডেট টাইম: অগাস্ট ১৮, ২০২৬ ইং | ২০:২৩:২৩:অপরাহ্ন  |  ১০১ বার পঠিত
ঢাকা-দিল্লি কূটনৈতিক সম্পর্কে নতুন টানাপোড়েন

ইন্টারন্যাশনাল ডেস্ক: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সম্ভাব্য ভারত সফরের সঙ্গে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ প্রক্রিয়াকে যুক্ত করার বাংলাদেশের পদক্ষেপে বিস্ময় প্রকাশ করেছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতের সাবেক হাইকমিশনার বীণা সিক্রি। একই সঙ্গে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সাম্প্রতিক সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের একটি পোস্টকে ‘অত্যন্ত রূঢ়’ ও ‘অহংকারী’ বলে মন্তব্য করেছেন তিনি।

ভারতীয় বার্তা সংস্থা এএনআইকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বীণা সিক্রি বলেন, এ ধরনের মন্তব্য কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। তারেক রহমানের দিল্লি সফরের তারিখ চূড়ান্ত করতে দুই দেশের সরকারের মধ্যে এখনো আলোচনা চলছে বলেও জানান তিনি।

সিক্রি বলেন, তারেক রহমানের ভারত সফরকে শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ অনুরোধের সঙ্গে যুক্ত করার চেষ্টা অত্যন্ত বিস্ময়কর। বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রেস নোট বা ফেসবুক পোস্টের ভাষাও তিনি ‘অত্যন্ত রূঢ় ও অহংকারী’ বলে আখ্যায়িত করেন।

ভারতের সাবেক এই কূটনীতিকের দাবি, তারেক রহমানের সফর বাতিলের বিষয়ে বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে ভারতকে কোনো বার্তা দেওয়া হয়নি। বরং সফরের তারিখ নির্ধারণ ও প্রস্তুতি নিয়ে দুই দেশের মধ্যে আনুষ্ঠানিক আলোচনা অব্যাহত রয়েছে।

তিনি বলেন, এ ধরনের মন্তব্য বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ভারত সফরের বিষয়ে আন্তরিকতার ঘাটতিই প্রকাশ করে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, গত ১৭ ফেব্রুয়ারি তারেক রহমান প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেওয়ার পরপরই ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি তাকে পরিবারসহ সুবিধাজনক সময়ে ভারত সফরের আমন্ত্রণ জানান। তবে ছয় মাস পেরিয়ে গেলেও ওই আমন্ত্রণের বিষয়ে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি।

এরপর কয়েক সপ্তাহ আগে বিমসটেকের চেয়ারম্যান হিসেবে ব্রিকস সম্মেলনে যোগ দেওয়ার জন্যও তারেক রহমানকে ভারত সফরের আমন্ত্রণ জানানো হয়। সিক্রির দাবি, দ্বিতীয় আমন্ত্রণেরও কোনো জবাব দেয়নি ঢাকা।

শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ প্রসঙ্গে বীণা সিক্রি বলেন, প্রত্যর্পণ একটি দীর্ঘমেয়াদি আইনি প্রক্রিয়া। এ ধরনের প্রক্রিয়া সম্পন্ন হতে বছরের পর বছর সময় লাগতে পারে। তাই কোনো রাষ্ট্রপ্রধান বা সরকারপ্রধানের দ্বিপাক্ষিক সফরের সঙ্গে প্রত্যর্পণ প্রক্রিয়াকে শর্ত হিসেবে যুক্ত করা অপ্রয়োজনীয় এবং কূটনৈতিকভাবে অনভিপ্রেত।

তিনি প্রশ্ন তোলেন, যদি প্রত্যর্পণ প্রক্রিয়া শেষ না হওয়া পর্যন্ত তারেক রহমান ভারতে যেতে না চান, তাহলে কি তিনি আগামী দুই-তিন বছরও ভারত সফর করবেন না?

এদিকে, শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণের দাবি পুনর্ব্যক্ত করে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট দেওয়ার পরই নতুন করে এ কূটনৈতিক বিতর্কের সূত্রপাত হয়। ২০২৪ সালের আগস্টে ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর থেকে শেখ হাসিনা ভারতে অবস্থান করছেন। বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে তিনি দণ্ডিত হয়েছেন।

গত রোববার বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র শহীদুল করিম জানান, প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর তারেক রহমানের প্রথম দিল্লি সফর নিয়ে দুই দেশের কর্মকর্তারা গত কয়েক সপ্তাহ ধরে যোগাযোগ করছেন। তবে ৫ আগস্ট নয়াদিল্লিতে আয়োজিত একটি অনুষ্ঠানে শেখ হাসিনার প্রকাশ্য উপস্থিতিকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট কূটনৈতিক উত্তেজনার কারণে এখনো সফরের চূড়ান্ত তারিখ নির্ধারণ করা হয়নি।

ঢাকা একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে দণ্ডিত শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ এবং শহীদ শরীফ ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অভিযুক্তদের হস্তান্তরের বিষয়ে ভারতকে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে।

তবে শেখ হাসিনার ওই অনুষ্ঠানের সঙ্গে ভারত সরকারের কোনো সম্পৃক্ততা নেই বলে জানিয়েছে নয়াদিল্লি। ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল বলেন, এটি একটি বেসরকারি সংবাদমাধ্যমের আয়োজন ছিল এবং সেখানে দেওয়া বক্তব্যের দায় ভারত সরকার নেবে না।

দুই দেশের মধ্যে সম্ভাব্য উচ্চপর্যায়ের সফর, শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ এবং সাম্প্রতিক পাল্টাপাল্টি বক্তব্যকে ঘিরে ঢাকা-দিল্লি সম্পর্কের টানাপোড়েন নতুন মাত্রা পেয়েছে।

রিপোর্টার্স২৪/রাফিদ

ad728

নিউজটি শেয়ার করুন

ad728
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ রিপোর্টার্স২৪ - সংবাদ রাতদিন সাতদিন | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় ক্রিয়েটিভ জোন ২৪