| বঙ্গাব্দ
Space For Advertisement
ad728

ভারী বৃষ্টিতে ডুবেছে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা, দুর্ভোগে নগরবা

reporter
  • আপডেট টাইম: সেপ্টেম্বর ২০, ২০২৬ ইং | ১৩:৫৭:৪৭:অপরাহ্ন  |  ৪৫৮ বার পঠিত
ভারী বৃষ্টিতে ডুবেছে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা, দুর্ভোগে নগরবা

রিপোর্টার্স২৪ ডেস্ক: টানা ভারি বৃষ্টিতে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় সৃষ্টি হয়েছে তীব্র জলাবদ্ধতা। সড়ক পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় ব্যাহত হচ্ছে যান চলাচল, কোথাও কোথাও তৈরি হয়েছে দীর্ঘ যানজট। পানিতে ডুবে গেছে রাজধানীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ও নিচু এলাকার সড়ক। এতে অফিসগামী মানুষ, শিক্ষার্থী, ব্যবসায়ীসহ সাধারণ নগরবাসীকে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।

রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) ভোরের দিকে শুরু হওয়া টানা বৃষ্টিতে পল্টন, মালিবাগ, মৌচাক, কাকরাইল, নিউমার্কেট, মতিঝিলসহ রাজধানীর বিভিন্ন নিচু এলাকা পানিতে তলিয়ে যায়। কোথাও কোথাও সড়কের ওপর পানি জমে যান চলাচল প্রায় স্থবির হয়ে পড়ে। এর প্রভাবে রাজধানীর বিভিন্ন সড়কে সৃষ্টি হয় দীর্ঘ যানজট।

জলাবদ্ধতার কারণে সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছেন অফিসগামী মানুষ ও পথচারীরা। অনেক সড়কে পানি জমে যাওয়ায় স্বাভাবিকভাবে হাঁটাচলাও কঠিন হয়ে পড়ে। অন্যদিকে পানির মধ্যে দিয়ে চলাচল করতে গিয়ে বিপাকে পড়েছে রিকশা, সিএনজি অটোরিকশা ও ব্যক্তিগত গাড়ি। অনেক যানবাহন পানিতে আটকে গিয়ে বিকল হয়ে পড়ে থাকতে দেখা গেছে।

পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে ভোর থেকেই মাঠে নেমেছে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) ইমার্জেন্সি রেসপন্স টিম ও পরিচ্ছন্নতাকর্মীরা।

মুগদা, খিলগাঁও, সবুজবাগ, গোড়ান, মানিকনগর, তালতলা, মতিঝিল, আরামবাগ, গুলিস্তান, পল্টন কালভার্ট রোড, মালিবাগ, মৌচাক ও কাকরাইলের বিভিন্ন এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, সড়ক পানিতে তলিয়ে রয়েছে। কোথাও কোথাও পানির উচ্চতা এতটাই বেড়েছে যে রিকশা ও অন্যান্য যানবাহনের চাকা প্রায় ডুবে যাচ্ছে। ফুটপাত দিয়েও স্বাভাবিকভাবে চলাচল করা যাচ্ছে না।

জলাবদ্ধ সড়কে চলাচল করতে গিয়ে অনেক সিএনজিচালিত অটোরিকশা ও ব্যক্তিগত গাড়ির ইঞ্জিন বিকল হয়ে যায়। কোথাও কোথাও চালকদের নিজেদের যানবাহন ঠেলে নিয়ে যেতে দেখা গেছে। পানির কারণে যানবাহনের গতি কমে যাওয়ায় অনেক সড়কে যানজটও তীব্র আকার ধারণ করেছে।

এদিকে রিকশা ও ভ্যানচালকেরা বাড়তি ভাড়া দাবি করলেও অনেক সড়কে পানির পরিমাণ বেশি হওয়ায় তারাও স্বাভাবিকভাবে চলাচল করতে পারছেন না। বৃষ্টির কারণে সকাল থেকে রাজধানীর বিভিন্ন সড়কে যানবাহনের সংখ্যাও তুলনামূলক কম দেখা গেছে।

অন্যদিকে জলাবদ্ধতার পানি দোকানপাটে ঢুকে পড়ায় ব্যবসায়ীদের মধ্যেও তৈরি হয়েছে উদ্বেগ। মালামাল নষ্ট হওয়ার আশঙ্কায় অনেক ব্যবসায়ী দ্রুত দোকানের পণ্য ও প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র উঁচু স্থানে সরিয়ে রাখেন।

রামপুরা এলাকার ভুক্তভোগী মহিমা আক্তার বলেন, বৃষ্টির পর রাস্তায় পানি জমে যাওয়ায় সকাল থেকেই চলাচলে ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে। যানবাহনও স্বাভাবিক গতিতে চলতে পারছে না। ফলে অল্প দূরত্বের পথ পাড়ি দিতেও অনেক বেশি সময় লাগছে। হেঁটে যাওয়ারও উপায় নেই, কারণ রাস্তায় অনেক পানি জমে আছে।

মৌচাক এলাকার পথচারী লিটন মাহমুদ বলেন, রাস্তায় পানি জমে থাকায় হেঁটে চলাও কঠিন হয়ে পড়েছে। যানজটের কারণে স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় অনেক বেশি সময় লাগছে। দ্রুত পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা করা প্রয়োজন।

মতিঝিলে সাজেদুর রহমান নামের এক পথচারী বলেন, ভোরে বৃষ্টি হলেও এখনো মতিঝিল এলাকায় জলাবদ্ধতা রয়ে গেছে। কোথাও কোথাও হাঁটুপানিও জমেছে। অফিসপাড়াখ্যাত মতিঝিলে মানুষ স্বাভাবিকভাবে চলাফেরা করতে পারছে না।

সিএনজিচালক এরশাদ আলী বলেন, সকাল থেকে ঢাকার প্রায় সব এলাকাতেই জলাবদ্ধতা দেখা যাচ্ছে। এখন মতিঝিলে এসেও দেখলাম পুরো এলাকা পানিতে ডুবে আছে। বিভিন্ন সড়কে জলাবদ্ধতার কারণে সিএনজির ইঞ্জিন বিকল হয়ে গেছে। চালকদের সেগুলো ঠেলে নিয়ে যেতে দেখেছি।

এদিকে জলাবদ্ধতার কারণে যান চলাচল স্বাভাবিক রাখতে সকাল থেকেই সড়কে দায়িত্ব পালন করছেন ট্রাফিক পুলিশের সদস্যরা। তবে দীর্ঘ সময় ধরে সড়কে পানি জমে থাকায় দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে তাদেরও ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে।

এ বিষয়ে ডিএমপির ট্রাফিক বিভাগের সবুজবাগ জোনের সহকারী পুলিশ কমিশনার (এসি) মামুনুর রশীদ বলেন, বৃষ্টিপাতের পর সকাল থেকেই মালিবাগ, মৌচাক ও কাকরাইল হয়ে খিলগাঁও এলাকার সড়কে সম্পূর্ণ জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। সকাল থেকে রাস্তায় নেমে কষ্ট করে দায়িত্ব পালন করছি, কিন্তু পরিস্থিতির উন্নতি করা যাচ্ছে না। যান চলাচল প্রায় সম্পূর্ণ স্থবির হয়ে রয়েছে। এসব সড়কের এক লেন দিয়েও যান চলাচল করানো যাচ্ছে না।

তিনি আরও বলেন, সিটি করপোরেশনকে বারবার অনুরোধ করা হয়েছে, তারা যেন এসে অন্তত ম্যানহোলের ঢাকনাগুলো খুলে দেয় বা পরিষ্কার করে, যাতে পানি নিষ্কাশন হতে পারে। কিন্তু তারা কোনো ব্যবস্থা নিচ্ছে না। রাস্তা থেকে পানি না সরলে যান চলাচল ব্যবস্থার উন্নতি করা কীভাবে সম্ভব? সকাল থেকে চেষ্টা করছি, কিন্তু বাস্তবে কোনো সুবিধা দিতে পারছি না।

তবে জলাবদ্ধতা নিরসনে ডিএসসিসির পক্ষ থেকে কাজ চলছে বলে জানিয়েছেন সংস্থাটির মুখপাত্র রাসেল রহমান।

তিনি বলেন, রোববার ভোর ৪টা থেকে মুষলধারে বজ্রসহ বৃষ্টিপাতের ফলে ডিএসসিসির আওতাধীন কিছু নিম্নাঞ্চল ও ঢালু সড়কে সাময়িক জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। নগরবাসীর এ সাময়িক ভোগান্তি দ্রুত নিরসনে ভোর থেকেই ডিএসসিসির বর্জ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগের পরিচ্ছন্নতাকর্মী ও ইমার্জেন্সি রেসপন্স টিম মাঠপর্যায়ে সক্রিয়ভাবে কাজ চালিয়ে যাচ্ছে।

রাসেল রহমান জানান, ইমার্জেন্সি রেসপন্স টিম ও পরিচ্ছন্নতাকর্মীরা সরেজমিনে উপস্থিত থেকে ড্রেনেজ লাইনের প্রতিবন্ধকতা দূর করা এবং পানি নিষ্কাশনের কার্যক্রম নিরবচ্ছিন্নভাবে পরিচালনা করছেন। দ্রুত পানি অপসারণ করে যান চলাচল ও পথচারীদের যাতায়াত স্বাভাবিক করতে সর্বাত্মক চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।

তিনি আরও জানান, সকাল থেকেই পরিস্থিতি সরেজমিনে পরিদর্শনে মাঠে রয়েছেন ডিএসসিসির প্রশাসক, প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা, প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তাসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

জলাবদ্ধতার কারণে সৃষ্ট সাময়িক ভোগান্তির জন্য নগরবাসীর কাছে আন্তরিকভাবে দুঃখ প্রকাশ করেছে ডিএসসিসি। একই সঙ্গে দ্রুত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে নগরবাসীর ধৈর্য ও সহযোগিতা কামনা করেছে সংস্থাটি।

নগরবাসীর নিরাপত্তার কথা বিবেচনায় নিয়ে জরুরি সতর্কবার্তাও দিয়েছে ডিএসসিসি। সংস্থাটির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, রাস্তায় যেকোনো উন্মুক্ত বা ছিঁড়ে পড়া বৈদ্যুতিক তার এবং ঝুঁকিপূর্ণ পোল থেকে নিরাপদ দূরত্ব বজায় রাখতে হবে। জলমগ্ন সড়কে ম্যানহোল বা খোলা ড্রেনের গর্ত থাকতে পারে। তাই পথচারী ও চালকদের অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে চলাচলের অনুরোধ করা হয়েছে।

জরুরি প্রয়োজনে বা জলাবদ্ধতাসংক্রান্ত তথ্য জানাতে ডিএসসিসির নিয়ন্ত্রণ কক্ষের ০১৭০৯-৯০০৮৮৮ নম্বরে যোগাযোগ করার আহ্বান জানানো হয়েছে।

এদিকে আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় ঢাকায় ২০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে। রোববার সকাল থেকে ঢাকার আকাশ আংশিক মেঘলা থেকে মেঘাচ্ছন্ন থাকতে পারে। এ সময় বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। একই সঙ্গে দিনের তাপমাত্রা সামান্য কমতে পারে।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, রোববার সকাল ৬টায় ঢাকার তাপমাত্রা ছিল ২৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। একই সময়ে বাতাসের আপেক্ষিক আর্দ্রতা ছিল ৯৭ শতাংশ। গতকাল শনিবার ঢাকায় সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ৩৫ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। আর আজকের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ২৪ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

এ ছাড়া আবহাওয়া অধিদপ্তরের সারা দেশের পূর্বাভাস অনুযায়ী, রোববার সন্ধ্যা ৬টার মধ্যে খুলনা, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় এবং রংপুর, রাজশাহী, ময়মনসিংহ ও ঢাকা বিভাগের দু-এক জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে।

সেই সঙ্গে দেশের কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারী বর্ষণও হতে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।


রিপোর্টার্স২৪/ঝুম

ad728

নিউজটি শেয়ার করুন

ad728
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ রিপোর্টার্স২৪ - সংবাদ রাতদিন সাতদিন | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় ক্রিয়েটিভ জোন ২৪