| বঙ্গাব্দ
Space For Advertisement
ad728

যুদ্ধের কারণে ঘণ্টায় প্রায় ৫৫০ কোটি টাকার ক্ষতির মুখে ইউক্রেন

reporter
  • আপডেট টাইম: সেপ্টেম্বর ৩০, ২০২৬ ইং | ২৩:৫৭:০০:অপরাহ্ন  |  ৪৬৯ বার পঠিত
যুদ্ধের কারণে ঘণ্টায় প্রায় ৫৫০ কোটি টাকার ক্ষতির মুখে ইউক্রেন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: রুশ বাহিনীর একের পর এক বিমান ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় বিপর্যস্ত ইউক্রেনের সামগ্রিক অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড। দিনে গড়ে প্রায় ১০ ঘণ্টা পর্যন্ত বাজতে থাকা বিমান হামলার সতর্কসংকেত বা সাইরেনের কারণে সব ধরনের ব্যবসা-বাণিজ্য ও কাজ বন্ধ রাখতে হচ্ছে। এতে প্রতি ঘণ্টায় দেশটির অর্থনীতির ক্ষতি হচ্ছে প্রায় সাড়ে চার কোটি মার্কিন ডলার (৪৫ মিলিয়ন ডলার)। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ানকে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে এই সংকটের চিত্র তুলে ধরেছেন ইউক্রেনের অর্থনীতি ও পরিবেশবিষয়ক মন্ত্রী ওলেকসান্দর ক্রাভচেঙ্কো।

তিনি জানান, সাধারণ মানুষকে সুরক্ষা দিতে বাঙ্কারে পাঠালে কাজকর্ম পুরোপুরি স্থবির হয়ে পড়ে। ইউক্রেনের অর্থনীতি গুঁড়িয়ে দিতেই মস্কো সুনির্দিষ্টভাবে শিল্পাঞ্চল, পণ্যাগার, লজিস্টিকস হাব ও ডেটা সেন্টারগুলোকে লক্ষ্য করে হামলা চালাচ্ছে। বিশেষ করে রাশিয়ার তৈরি নতুন জেটচালিত ড্রোনের দ্রুত বিস্তার ও তা দিয়ে অবকাঠামো ধ্বংসের মাত্রা ইউক্রেন আগে পুরোপুরি আঁচ করতে পারেনি। চলতি বছরেই রুশ হামলায় দেশটির স্থায়ী অবকাঠামো খাতের প্রায় এক হাজার কোটি (১০ বিলিয়ন) ডলার সমমূল্যের ক্ষতি হয়েছে। এর ওপর কৃষ্ণসাগর বন্দর অবরুদ্ধ থাকায় দেশটির রফতানি বাণিজ্যও কার্যত থমকে গেছে।

অর্থনৈতিক এই ক্ষতি কিছুটা সামাল দিতে ইউক্রেন সরকার সতর্কসংকেতের ক্ষেত্রে দ্বি-স্তরবিশিষ্ট একটি নতুন ব্যবস্থা চালু করেছে। এর আওতায় দূরপাল্লার বড় ক্ষেপণাস্ত্র হামলার ক্ষেত্রে জারি করা হয় ‘লাল সতর্কসংকেত’, যেখানে सबको বাধ্যতামূলক বাঙ্কারে আশ্রয় নিতে হয়। অন্যদিকে ড্রোন হামলার আশঙ্কায় জারি থাকে ‘হলুদ সংকেত’, যার সময় অর্ধেক ব্যবসা প্রতিষ্ঠান চালু রাখার সুযোগ পায়। তবে এই হলুদ সংকেতেও ঝুঁকি কম নয়। গত সোমবার এমনই এক হলুদ সতর্কসংকেতের মধ্যে কিয়েভের জাতীয় বিজ্ঞান একাডেমিতে একটি রুশ জেটচালিত ড্রোন আঘাত হানলে ভেতরে কাজ করা দুই কর্মী নিহত হন। স্বাভাবিক জীবন চালু রাখা আর মানুষের জীবন বাঁচানোর কঠিন দোলাচলে এখন ইউক্রেন প্রশাসন। পরিস্থিতি সামলাতে সরকার এখন বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোকেও নিজস্ব অর্থায়নে আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা কেনার সুযোগ দেওয়ার কথা ভাবছে।

সামরিক ক্ষয়ক্ষতির পাশাপাশি বড় ধরনের আর্থিক ঘাটতির মুখে পড়েছে দেশটির বাজেট। চলতি বছর ইউক্রেনের বাজেট ঘাটতির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে প্রায় দুই হাজার কোটি (২০ বিলিয়ন) ডলারে। ইউরোপীয় ইউনিয়নের দীর্ঘমেয়াদি ঋণ প্যাকেজ থাকা সত্ত্বেও ব্যয়বৃদ্ধি ও অভ্যন্তরীণ রাজস্ব ঘাটতির কারণে এই সংকট দেখা দিয়েছে বলে জানান মন্ত্রী। তিনি কোনো ধরনের অব্যবস্থাপনা বা দুর্নীতির অভিযোগ নাকচ করে জানান, যুদ্ধের সামগ্রিক ব্যয় ও আকাশ সুরক্ষার খরচ লাগামহীনভাবে বেড়ে যাওয়ার কারণেই এই ঘাটতি।

যদিও সাম্প্রতিক জনমত জরিপ বলছে, ইউক্রেনের অর্ধেকের বেশি নাগরিকের কাছে বিমান হামলার চেয়েও বড় উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে সরকারের ভেতরের দুর্নীতি। একই সঙ্গে ২০২৭ সালের জন্য ইউক্রেনের প্রয়োজন পড়বে প্রায় ৫ হাজার ২৬০ কোটি ডলার, যার বড় অংশই এখনো অনিশ্চিত। ইউরোপের নানা দেশে ইউক্রেনকে সহায়তা নিয়ে রাজনৈতিক দ্বিধা ও যুদ্ধক্লান্তি বাড়তে থাকায় কিয়েভের জন্য সামনের শীতকালটি ইতিহাসের সবচেয়ে কঠিন এক সময় হতে যাচ্ছে বলে সতর্ক করেছেন ক্রাভচেঙ্কো। সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান

রিপোর্টার্স২৪/ধ্রুব

ad728

নিউজটি শেয়ার করুন

ad728
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ রিপোর্টার্স২৪ - সংবাদ রাতদিন সাতদিন | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় ক্রিয়েটিভ জোন ২৪