রিপোর্টার্স২৪ ডেস্ক:
আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে ফের অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। ভোটের সময় ও পদ্ধতি নিয়ে সরকারের পক্ষ থেকে এখনো কোনো স্পষ্ট ঘোষণা না আসায় সন্দেহ ও মতবিরোধ বাড়ছে। বিশেষ করে বিএনপি এবং তাদের মিত্ররা মনে করছেন, সরকার উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে ধোঁয়াশা তৈরি করছে, যার ফলে নির্বাচন নিয়ে অনিশ্চয়তা আরও ঘনীভূত হচ্ছে।
বগুড়া, রাজশাহী, চট্টগ্রাম, খুলনা ও বরিশাল অঞ্চলের বিএনপি নেতাদের দাবি, লন্ডনে দলের উচ্চপর্যায়ের বৈঠকের পর তিন সপ্তাহ পেরিয়ে গেলেও নির্বাচন কমিশনকে কোনো সময়সূচি বা পরিকল্পনা জানানো হয়নি। এ অবস্থাকে ইঙ্গিতপূর্ণ বলেই মনে করছেন তারা।
প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ এম এম নাসির উদ্দিন জানিয়েছেন, প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে তার বৈঠকে নির্বাচনের সময়সূচি নিয়ে আলোচনা হয়নি। কমিশন ফেব্রুয়ারি থেকে এপ্রিলের মধ্যে ভোট আয়োজনের প্রস্তুতি নিচ্ছে বলেও জানান তিনি। তবে বিএনপি ও গণতন্ত্র মঞ্চের নেতারা একে অস্পষ্ট ও দ্বিধান্বিত অবস্থান হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তাদের আশঙ্কা, সরকার নির্বাচন বিলম্বিত করার কৌশল নিতে পারে।
এদিকে, নির্বাচন পদ্ধতি নিয়েও রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে গভীর মতানৈক্য দেখা দিয়েছে। বিএনপি ও তাদের মিত্ররা সংসদ সদস্য নির্বাচনের ক্ষেত্রে সরাসরি ভোট ব্যবস্থার পক্ষে অবস্থান নিয়েছে। অপরদিকে জামায়াতে ইসলামী, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, খেলাফত মজলিস ও গণঅধিকার পরিষদসহ কয়েকটি ইসলামপন্থি দল আনুপাতিক প্রতিনিধিত্বমূলক (পিআর) ব্যবস্থার দাবি তুলেছে।
এই দাবিকে ঘিরে ইসলামপন্থি দলগুলোর মধ্যে জোটবদ্ধতার প্রচেষ্টা চলছে। জামায়াতের আমির শফিকুর রহমান জানিয়েছেন, বর্তমান নির্বাচনেই পিআর পদ্ধতি চালুর দাবিতে তারা সোচ্চার থাকবেন। ইসলামী আন্দোলনের এক সাম্প্রতিক সমাবেশেও এ দাবি উত্থাপন করা হয়, যেখানে বিএনপি ও পিআর-বিরোধী দলগুলোকে আমন্ত্রণ জানানো হয়নি।
বিএনপি পিআর পদ্ধতির ঘোর বিরোধিতা করে জানিয়েছে, এটি দেশের বাস্তবতায় উপযোগী নয় এবং বাস্তবায়নে সময়সাপেক্ষ। জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সহসভাপতি অধ্যাপক আলী রীয়াজ জানান, সংসদের নিম্নকক্ষে সরাসরি ভোট এবং উচ্চকক্ষে পিআর পদ্ধতির একটি প্রস্তাব রয়েছে। তবে বিএনপি উচ্চকক্ষেও পিআর পদ্ধতি চায় না, বরং নিম্নকক্ষের আসন অনুপাতে প্রতিনিধিত্ব দিতে চায়।
জামায়াতসহ ছোট দলগুলোর মতে, পিআর পদ্ধতি চালু হলে ভোটের মূল্যবোধ বাড়বে এবং অল্প ভোট পেয়েও সংসদে প্রবেশের সুযোগ তৈরি হবে, যা তাদের মত ক্ষুদ্র দলগুলোর জন্য ইতিবাচক।
সরকারের একাধিক উপদেষ্টা জানান, নির্বাচন বিলম্বিত করার কোনো পরিকল্পনা নেই। তবে ভোটের সময়সূচি ও পদ্ধতি নিয়ে এখনো অন্তর্বর্তী সরকারের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক বক্তব্য আসেনি। এতে রাজনৈতিক মহলে সরকারের সমন্বয়হীনতা ও সিদ্ধান্তহীনতা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ভোটের সময় ও পদ্ধতি নিয়ে সরকারের অনির্দিষ্টতা নির্বাচনী পরিবেশকে আরও জটিল করে তুলছে এবং এতে রাজনৈতিক অস্থিরতা বৃদ্ধির আশঙ্কা রয়েছে।