ইন্টারন্যাশনাল ডেস্ক: ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ এবং ভোটার তালিকা সংশোধনের ‘স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন’ (এসআইআর) বাতিলের দাবিতে চলা তুমুল আন্দোলনের মুখে প্রথমবার মুখ খুললেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী ও বিরোধী জোটকে উদ্দেশ্য করে তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন, দেশের জনগণ এখনও প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও এনডিএ জোটের পাশেই রয়েছে এবং ২০২৯ সালের সাধারণ নির্বাচনে বিরোধীদের টানা চতুর্থবারের মতো শোচনীয় পরাজয়ের মুখোমুখি হতে হবে।
মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) দেওয়া এক বিবৃতিতে ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বিরোধীদের এই নেতিবাচক রাজনীতি জনগণের কাছে কোনো আবেদন তৈরি করতে পারছে না। বরং বিভিন্ন রাজ্যের সাম্প্রতিক উপনির্বাচন ও স্থানীয় সরকারের নির্বাচনে কংগ্রেসের ব্যর্থতার খতিয়ান তুলে ধরে রাহুল গান্ধীকে আত্মবিশ্লেষণের পরামর্শ দেন তিনি।
অমিত শাহ বলেন, আপনি যখন থেকে কংগ্রেসের মূল নেতা, সভাপতি এবং পরবর্তীতে বিরোধী দলনেতা হয়েছেন, তখন থেকেই কংগ্রেস ধারাবাহিকভাবে নির্বাচনে হারছে। সাজানো মিডিয়া ইভেন্ট আর মিথ্যার বিস্তার ঘটিয়ে দেশের মানুষের আস্থা অর্জন করা যায় না। আমি রাহুল গান্ধীকে সরাসরি প্রশ্ন করতে চাই— এই সব পরাজয়ও কি এসআইআরের ফল? এসআইআর প্রক্রিয়া তো ২০২৪ সালের নির্বাচনের পরেই চালু হয়েছে।
রাহুল গান্ধীর সমালোচনা করে তিনি অভিযোগ করেন, ভোটার তালিকায় অনুপ্রবেশকারীদের অন্তর্ভুক্ত করার রাজনৈতিক উদ্দেশ্য জনগণের কাছে প্রকাশ পেয়ে গেছে। ২০২৯ সালের সাধারণ নির্বাচনে এনডিএ বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে পুনরায় ক্ষমতায় আসবে দাবি করে তিনি বিরোধীদের সেই পরাজয়ের প্রস্তুতি নেওয়ার আহ্বান জানান।
এদিকে, সোমবার ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি) এবং বিরোধী ‘ইন্ডিয়া’ (INDIA) জোটের ডাকা আন্দোলনের তীব্রতা দিল্লির সুপ্রিম কোর্ট চত্বর ছাড়িয়ে রাজপথে ছড়িয়ে পড়ে। ব্যাপক নিরাপত্তা ও ব্যারিকেড উপেক্ষা করে মধ্য দিল্লির কনট প্লেসে ‘গণতন্ত্রের জন্য পদযাত্রা’র মাধ্যমে বড় ধরনের শক্তি প্রদর্শন করেন বিরোধী নেতারা।
উক্ত পদযাত্রায় অংশ নেন ভারতের লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী, কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গে, সমাজবাদী পার্টির প্রধান অখিলেশ যাদব, আরজেডির তেজস্বী যাদব, এনসিপির সুপ্রিয়া সুলে, সিপিআইয়ের ডি রাজা এবং সিপিআইএম নেতা এম এ বেবিসহ শীর্ষ বিরোধী নেতৃত্ব। এর পাশাপাশি মঙ্গলবার রাহুল গান্ধীর বাসভবনে আয়োজিত এক চা-চক্রে বিরোধী নেতারা মিলিত হয়ে ‘ভোট চুরির’ বিরুদ্ধে চলমান আন্দোলনকে শেষ পর্যন্ত এগিয়ে নেওয়ার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন। ঠিক সেই প্রেক্ষাপটেই দেশটির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের এই আক্রমণাত্মক প্রতিক্রিয়া রাজনৈতিক অঙ্গনে বাড়তি উত্তাপ ছড়িয়েছে।
রিপোর্টার্স২৪/ধ্রুব