স্টাফ রিপোর্টার: জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্যে বাড়ছে টানাপড়েন। স্থানীয় সরকার নির্বাচনে প্রার্থী দেওয়া নিয়ে জামায়াত ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মধ্যে মতবিরোধের পাশাপাশি অন্য শরিক দলগুলোর মধ্যেও অস্বস্তি তৈরি হয়েছে। এতে জোটের ভবিষ্যৎ নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।
ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশন নির্বাচনে জামায়াত নিজেদের প্রার্থী চূড়ান্ত করার পথে এগোলেও এনসিপি চেয়েছিল প্রার্থিতা নিয়ে জোটের মধ্যে সমঝোতা হোক। এ নিয়ে দুই দলের দূরত্ব বাড়ছে বলে জানা গেছে।
এনসিপি নেতা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া ঢাকা উত্তরে এবং নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী দক্ষিণে নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছেন। অন্যদিকে ঢাকা উত্তরে জামায়াতের সেলিম উদ্দিন এবং দক্ষিণে ডাকসুর ভিপি আবু সাদিক কায়েমকে সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে এগিয়ে রাখা হয়েছে।
এদিকে, ১১ দলীয় ঐক্যের লংমার্চ কর্মসূচিতেও এনসিপির শীর্ষ নেতাদের অনুপস্থিতি দূরত্বের আলোচনাকে আরও জোরালো করেছে।
তবে এনসিপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী জানিয়েছেন, সংসদ, সংস্কার ও বিচার ইস্যুতে জামায়াতের সঙ্গে তাদের ঐক্য রয়েছে। তবে জনগণের দাবি-দাওয়া নিয়ে তারা এখন থেকে পৃথকভাবে কর্মসূচি পালন করতে চান। স্থানীয় সরকার নির্বাচনও আলাদাভাবে করবেন।
জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ অবশ্য জোটে কোনো সংকট নেই বলে দাবি করেছেন। তার মতে, স্থানীয় সরকার নির্বাচনে দলগুলো আলাদাভাবে অংশ নিলেও জোট অটুট থাকবে।
তবে জোটের শরিক এবি পার্টির চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু বলেছেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ১১ দলীয় ঐক্য আরও দুর্বল হতে পারে। এমনকি জোটের বর্তমান অবস্থান নিয়েও তারা স্বস্তিতে নেই।
সব মিলিয়ে স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে ঘিরে প্রার্থিতা নিয়ে সমঝোতার অভাব, পারস্পরিক আস্থার সংকট এবং কর্মসূচিতে পৃথক অবস্থান—১১ দলীয় ঐক্যের ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন প্রশ্ন তৈরি করেছে।
রিপোর্টার্স২৪/ধ্রুব