| বঙ্গাব্দ
Space For Advertisement
ad728

৪ লাখ ‘বাংলাদেশি’কে পুশব্যাক করেছে ভারত, দাবি বিজেপি নেতার

reporter
  • আপডেট টাইম: অগাস্ট ২৫, ২০২৫ ইং | ১১:৫১:৩৯:পূর্বাহ্ন  |  ১৩৭৪৩৭০ বার পঠিত
৪ লাখ ‘বাংলাদেশি’কে পুশব্যাক করেছে ভারত, দাবি বিজেপি নেতার
ছবির ক্যাপশন: পশ্চিমবঙ্গের বিজেপি সভাপতি ও বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারি । ছবি : সংগৃহীত

কূটনৈতিক রিপোর্টার : ভারতের পশ্চিমবঙ্গের বিজেপি সভাপতি ও বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারি দাবি করেছেন, ‘ চার লাখ বাংলাদেশিকে পুশব্যাক করেছে ভারতের সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফ। এবং বাংলাদেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিজিবি তাদের গ্রহণ করতে বাধ্য হয়েছে।’

সোমবার ভারতের প্রভাবশালী দৈনিক যুগশঙ্খে এ খবর দিয়েছে। পত্রিকাটি জানায়, শুভেন্দু অধিকারী বলেছেন, আমি ভারত সরকার এবং বিএসএফ-কে ধন্যবাদ জানাব। তারা ইতিমধ্যেই  ৪ লাখ বাংলাদেশিকে পুশব্যাক করেছে। পাশাপাশি, বিজিবি বা বাংলাদেশের সীমান্তরক্ষীদেরও ধন্যবাদ দেব, কারণ তারা ওদের নিতে বাধ্য হয়েছে। আমি যতটুকু জানি, বাংলাদেশের স্বরাষ্ট দফতর ও বিজিবির কর্মকর্তারা ভারত সরকারের প্রতিনিধিদের সঙ্গে দেখা করেছেন। বাংলাদেশি প্রতিনিধিদের ভারত সরকার জানিয়েছিল ভিসা থাকলে কাউকে পুশব্যাক করা হবে না। এরপরই  ভারত সরকার বিজিবির হাতে যে তালিকা তুলে দেয়, তারপর তারা ওই অবৈধ অনুপ্রবেশকারীদের ফিরিয়ে নিতে বাধ্য হয়। 

এরপরেই পশ্চিমবঙ্গের  সরকারের দিকে ‘অনুপ্রবেশকারীদের পোষণের’ অভিযোগ তোলেন শুভেন্দু। তিনি বলেন, ‘এই পুশব্যাকগুলি গুজরাট, হরিয়ানা-সহ দক্ষিণের বেশ কয়েকটি রাজ্য থেকে হয়েছে। সবচেয়ে বেশি অবৈধ অনুপ্রবেশকারী গ্রেফতার ও পুশব্যাক হয়েছে মহারাষ্ট্র থেকে। কিন্তু বাংলার সরকার এসবে নেই। তারা ভোটব্যাঙ্কের স্বার্থে কেন্দ্রীয় সরকারকে সহযোগিতা করছে না।’

পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য সরকারের এই ‘অসহযোগিতা’ অবৈধ বাংলাদেশী পুশব্যাকের মধ্য়েই যে সীমাবদ্ধ এমনটা নয়। শুভেন্দুর দাবি, ২০১৬ সাল থেকে রাজ্যের কাছে সীমান্তে কাঁটা তার বসানোর জন্য জমি চাওয়া হয়েছে। কিন্তু তারা তা দিয়ে উঠতে পারেনি। তাঁর কথায়, ‘বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের ৪ হাজার কিলোমিটার সীমান্ত এলাকা রয়েছে। যার মধ্যে ২ হাজার ২০০ কিলোমিটার পরে বাংলার মধ্যে। কিন্তু এর মধ্যে আবার ৫৪০ কিলোমিটার অংশের জন্য রাজ্যের থেকে জমি চেয়েছে  কেন্দ্রীয় সরকার। কিন্তু রাজ্য সরকার দিচ্ছে না। যার জেরে গত এক দশকে বাংলায় প্রচুর বাংলাদেশি মুসলিম অবৈধ ভাবে ঢুকে পড়েছে।’

পশ্চিমবঙ্গের বিজেপি নেতা যখন এই বক্তব্য দিয়েছে তখন বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তের বিভিন্ন ইস্যুতে আলোচনার জন্য বিজিবি-বিএসএফ মহাপরিচালক পর্যায়ের ৫৬তম সীমান্ত সম্মেলন ঢাকায়  আগামীকাল শুরু হচ্ছে।   সোমবার বিকেলে ভারতীয় প্রতিনিধি দল ঢাকায় এসেন।  ঢাকার পিলখানায় বিজিবি সদর দপ্তরে ৪ দিন ব্যাপী এ সম্মেলন ২৮ আগস্ট পর্যন্ত চলবে। বিএসএফ দলের নেতৃত্বে রয়েছে  ডিজি দলজিৎ সিং চৌধুরী। বিজিবির নেতৃত্ব রয়েছে মেজর জেনারেল মহম্মদ অশরাফুজ্জামান সিদ্দিকি।

বিজিবি জানায়, এবারের সম্মেলনে-সীমান্ত হত্যা, পুশ ইন ও অবৈধ অনুপ্রবেশ রোধ। এছাড়া ভারত থেকে মাদক, অস্ত্র-গোলাবারুদ ও অন্যান্য চোরাচালান রোধসহ বিভিন্ন আন্ত:সীমান্ত অপরাধ দমন; আন্তর্জাতিক সীমান্তের ১৫০ গজের মধ্যে বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কর্মকান্ড বাস্তবায়ন এবং অননুমোদিত অবকাঠামো নির্মাণ রোধ; সীমান্ত নদীর তীর সংরক্ষণ এবং সীমান্ত নদীর পানির ন্যায্য হিস্যা আদায়; সমন্বিত সীমান্ত ব্যবস্থাপনা পরিকল্পনা বাস্তবায়নে যৌথ উদ্যোগ গ্রহণ; সাম্প্রতিককালে ভারতীয় মিডিয়ায় বাংলাদেশ বিরোধী অপপ্রচারের ফলে সীমান্তে সৃষ্ট উত্তেজনা প্রশমনে উদ্যোগ গ্রহণ; দুই দেশের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক বিষয়সমূহ এবং সীমান্ত স্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিষয়াদি নিয়ে আলোচনা হবে।

ভারতের আরেকটি গণমাধ্যম হিন্দুস্থান টাইমস সোমবার এক খবরে  জানায়, সম্প্রতি বিভিন্ন রাজ্য থেকে বাংলাদেশি সন্দেহে নাকি বাঙালি পরিযায়ী শ্রমিকদের আটক করা হচ্ছে। বছরের পর বছর ধরে বিভিন্ন কারণে বাংলাদেশ থেকে কয়েক লাখ মানুষ চোরা পথে ভারতে অনুপ্রবেশ করে এখানেই বসবাস করছে। দিল্লি থেকে বেঙ্গালুরুর বিভিন্ন জায়গায় এই সব বাংলাদেশিরা কাজ করে। এরপর বিভিন্ন উপায়ে বাংলাদেশের বাড়িতে টাকাও পাঠায় তারা। অনেকেই ঈদের সময় চোরা পথে বাংলাদেশে গিয়ে কয়েকদিন করে কাটিয়েও আসে। এদের অনেকেই এখানে বিয়ে করেছেন। এই ধরনের অবৈধবাসীদের বাংলাদেশে ‘পুশ ব্যাক’ করছে ভারত।

হিন্দুস্থান টাইমস আরও জানায়, ভারত এবং বাংলাদেশের মধ্যে সম্পর্কের টানাপোড়েনের মধ্যেই সাম্প্রতিক সময়ে একাধিক জায়গায় বিএসএফকে কাঁটাতারের বেড়া দিতে বাধা দিয়েছে বিজিবি। এই নিয়ে বিএসএফ এবং বিজিবির মধ্যে একাধিক জায়গায় সংঘাতের পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল বিগত দিনে। এর জেরে স্থানীয় বাসিন্দাদেরও মধ্যেও উত্তেজনা ছড়িয়েছিল। এই বিষয়টি নিয়ে এর আগেও কথা হয়েছে দুই দেশের মধ্যে পতাকা বৈঠক হয়েছে জায়গায় জায়গায়।

এছাড়া ‘সীমান্ত হত্যা’ নিয়ে বাংলাদেশের অনেক অভিযোগ। যদিও পাচারকারীকে রুখতে ব্যর্থ বিজিবি। এই আবহে বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারী বা পাচারকারীর ওপর বিএসএফ গুলি চালালে তাতেও আপত্তি বাংলাদেশের। এদিকে অনেক জায়গাতেই অভিযোগ উঠেছে, টাকা নিয়ে পাচারকারীদের ভারতে অনুপ্রবেশে সাহায্য করে বিজিবি। এই সবের মাঝেই সম্প্রতি মেঘালয়ে ডাকাতি করতে এসে ধরা পড়েছিল এক বাংলাদেশি পুলিশ। আবার ত্রিপুরায় এক বিজিবি সদস্য ভারতীয় ভূখন্ডে অনুপ্রবেশ করে ধরা পড়েছে।


রিপোর্টার্স২৪/এসএন

ad728

নিউজটি শেয়ার করুন

ad728
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ রিপোর্টার্স২৪ - সংবাদ রাতদিন সাতদিন | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় ক্রিয়েটিভ জোন ২৪