আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ভারতের উপকূলীয় গভীর সমুদ্র গ্যাসক্ষেত্র থেকে প্রত্যাশিত উৎপাদন না পাওয়ার অভিযোগে রিলায়েন্স ইন্ডাস্ট্রিজ ও ব্রিটিশ জ্বালানি জায়ান্ট বিপির (BP) কাছে ৩০ বিলিয়ন ডলারের বেশি ক্ষতিপূরণ দাবি করেছে ভারত সরকার। দীর্ঘদিন ধরে চলমান এক সালিশি মামলায় এই দাবি জানানো হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাতে জানিয়েছে রয়টার্স।
ভারতের অন্ধ্রপ্রদেশ উপকূলের কৃষ্ণা-গোদাবরী (কেজি) অববাহিকার ডি-৬ ব্লকের দুটি গভীর সমুদ্র গ্যাসক্ষেত্র—ডি১ ও ডি৩ থেকে গ্যাস উৎপাদনে ব্যর্থতার অভিযোগে রিলায়েন্স ইন্ডাস্ট্রিজ ও তাদের অংশীদার বিপির বিরুদ্ধে ৩০ বিলিয়ন ডলারের বেশি ক্ষতিপূরণ দাবি করেছে ভারত সরকার। বিষয়টি সম্পর্কে অবগত তিনটি সূত্র এ তথ্য জানিয়েছে।
২০১৬ সাল থেকে ভারতে চলমান এই সালিশি শুনানিতে সরকারের দাবি, গ্যাসক্ষেত্র ব্যবস্থাপনায় অব্যবস্থাপনার কারণে বিপুল পরিমাণ গ্যাস মজুত নষ্ট হয়ে গেছে। সাতজন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি জানিয়েছেন, চলতি বছরের ৭ নভেম্বর মামলার চূড়ান্ত শুনানি শেষ হয়েছে। তিন সদস্যের সালিশি ট্রাইব্যুনাল ২০২৬ সালের মাঝামাঝি রায় দিতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে এই রায় ভারতের আদালতে চ্যালেঞ্জ করা যাবে।
রয়টার্স প্রথমবারের মতো এই মামলার বিস্তারিত ও ৩০ বিলিয়ন ডলারের দাবির তথ্য প্রকাশ করেছে।
ডি১ ও ডি৩ ক্ষেত্র ভারতের প্রথম বড় গভীর সমুদ্র গ্যাস প্রকল্প হিসেবে দেশটির জ্বালানি নিরাপত্তা জোরদারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হয়েছিল। কিন্তু পানির অনুপ্রবেশ, রিজার্ভারের চাপ কমে যাওয়া এবং সরকারের সঙ্গে ব্যয় পুনরুদ্ধার সংক্রান্ত বিরোধের কারণে প্রকল্পটি প্রত্যাশা অনুযায়ী ফল দেয়নি।
২০১২ সালে ভারতের তেল মন্ত্রণালয় সংসদে জানায়, শুরুতে রিলায়েন্স ডি১ ও ডি৩ ক্ষেত্র থেকে ১০ দশমিক ৩ ট্রিলিয়ন ঘনফুট (টিসিএফ) গ্যাস উত্তোলনের সম্ভাবনা দেখালেও পরে তা কমিয়ে ৩ দশমিক ১ টিসিএফে নামিয়ে আনা হয়।
সরকারের অভিযোগ, শুরুতে আনুমানিক ১০ ট্রিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস মজুত থাকলেও কোম্পানিগুলো মাত্র ২০ শতাংশ উৎপাদন করেছে। ফলে উৎপাদন ঘাটতির আর্থিক মূল্য সরকারকে পরিশোধ করতে হবে—এমন দাবি তোলা হয়েছে।
তবে সালিশি শুনানিতে রিলায়েন্স ও বিপি এই দাবি প্রত্যাখ্যান করেছে। তারা জানিয়েছে, সরকারের কাছে তাদের কোনো অর্থ পরিশোধের বাধ্যবাধকতা নেই।
২০২০ সালের ফেব্রুয়ারিতে ডি১ ও ডি৩ ক্ষেত্র থেকে উৎপাদন বন্ধের ঘোষণা দিয়ে রিলায়েন্স জানায়, পুরো ব্লক থেকে মোট উৎপাদন হয়েছে প্রায় ৩ টিসিএফ গ্যাস সমপরিমাণ। তবে এর কতটা ডি১ ও ডি৩ ক্ষেত্র থেকে এসেছে, তা স্পষ্ট করা হয়নি।
সরকার আরও অভিযোগ করেছে, পরিকল্পিত ৩১টি কূপের পরিবর্তে মাত্র ১৮টি কূপ ব্যবহার করে “অতিরিক্ত আক্রমণাত্মক” উৎপাদন পদ্ধতি অনুসরণ করা হয়, যা গ্যাস রিজার্ভারের ক্ষতির কারণ হয়েছে।
উল্লেখ্য, ২০০০ সালে ভারতের সরকার রিলায়েন্সকে কেজি-ডি৬ ব্লকটি উৎপাদন বণ্টন চুক্তির (PSC) আওতায় ইজারা দেয়। পরে ২০১১ সালে বিপি ৭ দশমিক ২ বিলিয়ন ডলারে রিলায়েন্সের কাছ থেকে ৩০ শতাংশ অংশীদারিত্ব কিনে নেয়।
রিলায়েন্সের এক মুখপাত্র জানিয়েছেন, সালিশি প্রক্রিয়াটি গোপনীয় হওয়ায় তারা এ বিষয়ে মন্তব্য করবেন না। বিপিও মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে। ভারতের তেল, আইন ও তথ্য মন্ত্রণালয় এবং প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর থেকেও কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
রয়টার্স/রিপোর্টার্স২৪/এসসি