| বঙ্গাব্দ
Space For Advertisement
ad728

যৌন নিপীড়ন মামলায় ৫০ লাখ ডলার জরিমানা ট্রাম্পের

reporter
  • আপডেট টাইম: জুন ২৯, ২০২৬ ইং | ২৩:৪৩:৩৭:অপরাহ্ন  |  ৩৩০ বার পঠিত
যৌন নিপীড়ন মামলায় ৫০ লাখ ডলার জরিমানা ট্রাম্পের

ইন্টারন্যাশনাল ডেস্ক: যৌন নিপীড়নের দায়ে জুরিবোর্ডের দেওয়া অর্থদণ্ড বাতিলের আবেদন সোমবার (২৯ জুন) খারিজ করে দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্ট। ফলে ম্যাগাজিন সাংবাদিক ই জিন ক্যারলকে ৫০ লাখ ডলার ক্ষতিপূরণ দিতে হচ্ছে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের।

শীর্ষ আদালত এই মামলাটি নতুন করে শুনানির জন্য গ্রহণ করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে। প্রথা অনুযায়ী আদালত তাদের এই সিদ্ধান্তের পেছনে কোনো সুনির্দিষ্ট কারণ ব্যাখ্যা করেননি। এমনকি এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে কোনো বিচারকের দ্বিমতও নথিবদ্ধ করা হয়নি। 

ট্রাম্পের আইনজীবীরা যুক্তি দিয়েছিলেন, ক্যারলের পক্ষে আসা জুরির রায়টি মূলত বিচারক কর্তৃক অনুমোদিত কিছু 'অত্যন্ত উস্কানিমূলক' তথ্যের ওপর ভিত্তি করে দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে অন্য দুই নারীর সাক্ষ্যও অন্তর্ভুক্ত ছিল, যারা কয়েক দশক আগে ট্রাম্পের বিরুদ্ধে একই ধরনের যৌন নিপীড়নের অভিযোগ তুলেছিলেন। ডোনাল্ড ট্রাম্প শুরু থেকেই ওই তিন নারীর সকল অভিযোগই ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দিয়ে আসছেন।

ট্রাম্পের আইনি দল দাবি করেছিল, এই মামলার বিচারিক কার্যক্রম চলাকালে বিচারক লুইস কাপলান কেন্দ্রীয় সাক্ষ্য আইন লঙ্ঘন করেছেন। তাছাড়া, বর্তমান প্রেক্ষাপটে এই আইনি ঝামেলা প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব পালনে বিঘ্ন ঘটাচ্ছে বলেও তারা অভিযোগ করেন। উল্লেখ্য, ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে হোয়াইট হাউসে ফেরার আগে ২০২৩ সালের মে মাসে এই মামলার রায় এসেছিল।

আদালতের নথিতে ট্রাম্পের আইনজীবী জাস্টিন ডি স্মিথ লিখেছেন, "একজন প্রেসিডেন্টের প্রতি এ ধরনের আচরণ কোনোভাবেই বহাল থাকতে দেওয়া যায় না।" মজার বিষয় হলো, ট্রাম্প ইতিমধ্যে স্মিথকে একটি আপিল আদালতের বিচারক হিসেবে মনোনীত করেছেন।

অন্যদিকে, ক্যারলের আইনজীবীরা বিচারপতিদের এই মামলাটি পুনরায় পর্যালোচনা না করার অনুরোধ জানিয়েছিলেন। তারা যুক্তি দেন, অন্য ভুক্তভোগীদের সাক্ষ্য অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক ছিল কারণ তাদের অভিযোগের ধরন ছিল একই। ক্যারলের আইনজীবী রবার্টা কাপলান বলেন, "এই বিষয়টি পুনরায় পর্যালোচনার মোটেও যোগ্য নয়।"

সাবেক টিভি টক শো হোস্ট ও কলামিস্ট ই জিন ক্যারল ২০২৩ সালের বিচারে সাক্ষ্য দিয়েছিলেন, ১৯৯৬ সালে ম্যানহাটনের ট্রাম্প টাওয়ারের ঠিক উল্টোদিকে অবস্থিত একটি বিলাসবহুল বিপণি বিতানের ড্রেসিংরুমে ট্রাম্প তাকে হিংস্রভাবে আক্রমণ করেছিলেন। এছাড়া ২০২২ সালে ক্যারলের অভিযোগ অস্বীকার করার সময় ট্রাম্প তাকে 'মিথ্যাবাদী' বলায় জুরিবোর্ড ট্রাম্পকে মানহানির জন্যও দায়ী করে।

পরবর্তীতে দ্বিতীয় একটি মানহানি মামলায় জুরি ক্যারলকে আরও ৮ কোটি ৩৩ লাখ ডলার প্রদানের নির্দেশ দেয়। ট্রাম্প সেই রায়ের বিরুদ্ধেও আপিল করছেন, যা এখনও সুপ্রিম কোর্টে পৌঁছায়নি।

অতীতের দিকে তাকালে দেখা যায়, ট্রাম্প তার বিরুদ্ধে যাওয়া অনেক বড় বড় রায় সফলভাবে মোকাবিলা করতে পেরেছেন। এর মধ্যে নিউ ইয়র্কের একটি দেওয়ানি জালিয়াতির মামলায় ৫০০ মিলিয়ন ডলারের বেশি জরিমানার রায় আপিল আদালতে বাতিল হওয়ার বিষয়টি উল্লেখযোগ্য। এছাড়া ২০২৪ সালে সুপ্রিম কোর্ট তাকে ফৌজদারি বিচার থেকে অনেকাংশে দায়মুক্তি দিয়েছিল। তবে এবার শীর্ষ আদালতে বড় ধরনের ধাক্কা খেলেন তিনি।

সুপ্রিম কোর্টের এই সিদ্ধান্তটি এমন এক সময়ে এল যখন ট্রাম্পের রাজনৈতিক এজেন্ডার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ আরও বেশ কিছু মামলার রায় ঘোষণার অপেক্ষায় রয়েছে।

রিপোর্টার্স২৪/ধ্রুব

ad728

নিউজটি শেয়ার করুন

ad728
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ রিপোর্টার্স২৪ - সংবাদ রাতদিন সাতদিন | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় ক্রিয়েটিভ জোন ২৪