| বঙ্গাব্দ
Space For Advertisement
ad728

তাইওয়ান ঘিরে যুদ্ধ মহড়া: উত্তর ও দক্ষিণে রকেট ছুড়ল চীন

reporter
  • আপডেট টাইম: ডিসেম্বর ৩০, ২০২৫ ইং | ০৭:৩৪:৩৮:পূর্বাহ্ন  |  ১৭৭৭১৫৯ বার পঠিত
তাইওয়ান ঘিরে যুদ্ধ মহড়া: উত্তর ও দক্ষিণে রকেট ছুড়ল চীন
ছবির ক্যাপশন: সংগৃহীত ছবি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: তাইওয়ানকে ঘিরে অবরোধের মহড়া হিসেবে উত্তর ও দক্ষিণ উপকূলসংলগ্ন সমুদ্রে রকেট নিক্ষেপ করেছে চীন। দ্বিতীয় দিনের মতো চলমান এই যুদ্ধ মহড়ায় নৌ, বিমান ও স্থলবাহিনীর সমন্বিত শক্তি প্রদর্শন করছে বেইজিং, যা এখন পর্যন্ত তাইওয়ানকে ঘিরে সবচেয়ে বিস্তৃত সামরিক অনুশীলন বলে জানিয়েছে বিশ্লেষকরা।

চীন মঙ্গলবার তাইওয়ানের উত্তর ও দক্ষিণ উপকূলসংলগ্ন সমুদ্র এলাকায় রকেট নিক্ষেপ করেছে। একই সঙ্গে নতুন অ্যামফিবিয়াস অ্যাসল্ট জাহাজ, বোমারু বিমান ও ডেস্ট্রয়ার মোতায়েন করা হয়েছে। তাইওয়ান অবরোধের প্রস্তুতির অংশ হিসেবে এটিকে সবচেয়ে বড় যুদ্ধ মহড়া হিসেবে দেখা হচ্ছে।

চীনের পিপলস লিবারেশন আর্মির (পিএলএ) ইস্টার্ন থিয়েটার কমান্ড জানিয়েছে, পাঁচটি এলাকায় সকাল থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত (স্থানীয় সময়) লাইভ-ফায়ার ড্রিল চলবে, যার প্রভাব পড়বে আকাশ ও সমুদ্রপথে। একই সঙ্গে তারা একটি ভিডিও প্রকাশ করেছে, যেখানে সমুদ্রের দিকে রকেট নিক্ষেপ করতে দেখা যায় উন্নতমানের পিসিএইচ-১৯১ মোবাইল রকেট লঞ্চারকে।

চীনা সামরিক বাহিনী জানায়, নৌ ও বিমান বাহিনী তাইওয়ানের উত্তর ও দক্ষিণে সামুদ্রিক ও আকাশপথের লক্ষ্যবস্তুতে আঘাতের মহড়া, পাশাপাশি সাবমেরিনবিরোধী অভিযানও অনুশীলন করেছে।

‘জাস্টিস মিশন ২০২৫’ নামের এই মহড়া শুরু হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের তাইওয়ানের জন্য ১১ দশমিক ১ বিলিয়ন ডলারের অস্ত্র সহায়তা ঘোষণার ১১ দিনের মাথায়। ২০২২ সালে তৎকালীন মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদের স্পিকার ন্যান্সি পেলোসির তাইওয়ান সফরের পর এটি চীনের ষষ্ঠ বড় যুদ্ধ মহড়া।

তাইওয়ানের এক জ্যেষ্ঠ নিরাপত্তা কর্মকর্তা রয়টার্সকে জানান, এবারও চীন তাইওয়ানের ওপর দিয়ে ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়ে কি না—তা সতর্কভাবে পর্যবেক্ষণ করছে তাইপে। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সরবরাহ করা হিমার্স (HIMARS) রকেট সিস্টেমের মতো স্থলভিত্তিক অস্ত্রব্যবস্থাকে লক্ষ্য করেই এই মহড়া হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

তাইওয়ানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানায়, মঙ্গলবার সকালে উত্তরের আকাশ ও সমুদ্র এলাকায় চীনের লাইভ-ফায়ার ড্রিল হয়েছে এবং কিছু ধ্বংসাবশেষ তাদের ২৪ নটিক্যাল মাইল বিস্তৃত সংলগ্ন জলসীমায় পড়েছে।

এদিকে তাইওয়ানের প্রেসিডেন্ট লাই চিং-তে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে এক পোস্টে বলেন, সামনের সারির সেনারা দ্বীপ রক্ষায় প্রস্তুত থাকলেও তাইওয়ান পরিস্থিতি উত্তপ্ত করতে চায় না।

তাইওয়ান প্রণালীর মধ্য দিয়ে প্রতিবছর প্রায় ২ দশমিক ৪৫ ট্রিলিয়ন ডলারের বাণিজ্য পরিবহন হয়। বিশ্লেষকদের মতে, চীনের সম্ভাব্য অবরোধ এই অঞ্চলকে ভয়াবহভাবে অস্থিতিশীল করে তুলতে পারে।

তাইওয়ানের সিভিল অ্যাভিয়েশন অথরিটি জানিয়েছে, অভ্যন্তরীণ কিছু রুট ব্যাহত হলেও আন্তর্জাতিক ফ্লাইট বাতিল হয়নি। তবে চীনের কাছাকাছি দ্বীপ কিনমেন ও মাতসুর সঙ্গে যোগাযোগ বন্ধ রয়েছে।

চীনের ১৪টি কোস্টগার্ড জাহাজ এখনও তাইওয়ানের সংলগ্ন জলসীমায় অবস্থান করছে। পাল্টা অবস্থানে রয়েছে তাইওয়ানের কোস্টগার্ডও।

চীনা গণমাধ্যম জানিয়েছে, এই মহড়ায় প্রথমবারের মতো টাইপ-০৭৫ অ্যামফিবিয়াস অ্যাসল্ট শিপ মোতায়েন করা হয়েছে, যা একসঙ্গে হেলিকপ্টার, ল্যান্ডিং ক্রাফট ও সাঁজোয়া যান নামাতে সক্ষম।

এর আগে এক খসড়া পেন্টাগন প্রতিবেদনে বলা হয়, চীন ২০২৭ সালের মধ্যে তাইওয়ান দখলে যুদ্ধ জয়ের সক্ষমতা অর্জনের লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে। যদিও সামরিক বাহিনীতে দুর্নীতিবিরোধী অভিযানের কারণে সেই প্রস্তুতি নিয়ে প্রশ্নও উঠেছে। -রয়টার্স

রিপোর্টার্স২৪/এসসি

ad728

নিউজটি শেয়ার করুন

ad728
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ রিপোর্টার্স২৪ - সংবাদ রাতদিন সাতদিন | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় ক্রিয়েটিভ জোন ২৪