সিনিয়র রিপোর্টার: বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) আজ (শুক্রবার, ৯ জানুয়ারি) রাতে অনুষ্ঠিত জাতীয় স্থায়ী কমিটির জরুরি বৈঠকে তারেক রহমানকে দলীয় গঠনতন্ত্র অনুযায়ী আনুষ্ঠানিকভাবে চেয়ারম্যান ঘোষণা করেছে। তিনি দীর্ঘদিনের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের দায়িত্ব থেকে পুরোপুরি স্বাধীনভাবে চেয়ারম্যানের দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন।
দলীয় সূত্র জানায়, বৈঠকটি পূর্বনির্ধারিত ছিল না এবং কোনো নির্দিষ্ট এজেন্ডা থাকলেও সর্বসম্মতিক্রমে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এর আগে, ৪ জানুয়ারি সিলেটে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ইঙ্গিত দিয়েছিলেন যে, খুব শিগগিরই তারেক রহমানকে দলের চেয়ারম্যান হিসেবে ঘোষণা করা হবে।
২০১৮ সালে সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া কারাগারে গেলে তারেক রহমানকে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান করা হয়েছিল। খালেদা জিয়ার ৩০ ডিসেম্বর ইন্তেকালের পর চেয়ারপারসনের পদ শূন্য হয়ে যায়। বিএনপির গঠনতন্ত্রের ৭-এর ‘গ’ ধারায় বলা আছে, চেয়ারপারসনের পদ শূন্য হলে সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান চেয়ারম্যানের দায়িত্ব গ্রহণ করবেন।
সতেরো বছরের নির্বাসনের পর ২৫ ডিসেম্বর দেশে ফেরেন তারেক রহমান। দীর্ঘদিনের অনিশ্চয়তা ও উদ্বেগের অবসান ঘটে। তিনি দলের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নেতৃত্ব দেবেন এবং নিজের নির্বাচনী প্রচারণাও করবেন।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করেন, তার দেশে প্রত্যাবর্তন বিএনপির জন্য ‘ধ্বংসস্তূপ থেকে ঘুরে দাঁড়ানোর’ মতো ঘটনা। রাজনৈতিক ক্যারিয়ার শুরু ১৯৮০-এর দশকে স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলন থেকে, ২০০১ সালে নির্বাচনের সময়, ২০০২ সালে সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব হিসেবে ও ২০১৮ সালে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হিসেবে দলের মধ্যে তার রাজনৈতিক প্রভাব দৃশ্যমান।
মামলা ও নির্বাসনের সময়ে নানা সংকট পেরিয়ে বিএনপির নেতৃত্বে তারেক রহমানের প্রত্যাবর্তন দলটির জন্য একটি নতুন অধ্যায়ের সূচনা হিসেবে দেখছেন বিশেষজ্ঞরা। এখন দেখা যাক, তিনি কতটা দক্ষতার সঙ্গে দলকে নির্বাচন ও ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জে নেতৃত্ব দিতে পারবেন।
রিপোর্টার্স২৪/এসসি