| বঙ্গাব্দ
Space For Advertisement
ad728

সন্দেহ হলে ভারতীয় নাগরিকত্ব সত্ত্বেও বাংলাদেশে পুশব্যাক: আসামের মুখ্যমন্ত্রী

reporter
  • আপডেট টাইম: জুন ১২, ২০২৫ ইং | ১৬:৫৫:৩০:অপরাহ্ন  |  ১৫৬৬৯৬১ বার পঠিত
সন্দেহ হলে ভারতীয় নাগরিকত্ব সত্ত্বেও বাংলাদেশে পুশব্যাক: আসামের মুখ্যমন্ত্রী
ছবির ক্যাপশন: আসাম থেকে পুশইন করা একদল ভারতীয় নাগরিক ও মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা। ছবি সংগৃহিত।

সিনিয়র রিপোর্টার : ভারতের আসামের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা বলেছেন- এনআরসিতে ( ন্যাশনাল রেজিস্টার অব সিটিজেন) নাম থাকলেও সন্দেহ হলেই বাংলাদেশে পুশব্যাক করা হবে। তিনি বলেন, নাগরিকপঞ্জিতে নাম রয়েছে, এমন কাউকেও বিদেশি বলে সন্দেহ হলেই পুশব্যাক করার নীতি বা ট্র্যাটেজি নিয়েছে বিজেপি সরকার।

বৃহস্পতিবার উত্তর-পূর্ব ভারতের প্রভাবশালী দৈনিক যুগশঙ্খের রিপোর্টে এটা জানানো হয়।

রিপোর্টে বলা হয়েছে, নবায়িত নাগরিকপঞ্জির (এনআরসি) ওপর বিন্দুমাত্র আস্থা নেই মুখ্যমন্ত্রী। কারণ, কৌশলে তাতে অনেক লোকের নাম ঢোকানো হয়েছে বলে মনে করেন তিনি। এ জন্য সন্দেহ হলেই পুশব্যাক করার পক্ষ তিনি।

সংবাদপত্রের রিপোর্ট মতে, বুধবার আসামের দরং জেলায় এক অনুষ্ঠানে বিদেশি বহিস্কার নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘নাগরিকপঞ্জিতে নাম থাকুন কিংবা না থাকুক কাউকে বিদেশি বলে বোঝা গেলেই পুশব্যাক করা হবে।

যুগশঙ্খ জানায়, পুশব্যাক প্রক্রিয়ায় সরকার দৃঢ়তার সঙ্গে এগোচ্ছে বোঝাতে তথ্যও পেশ করেন তিনি। মুখ্যমন্ত্রী জানান, মঙ্গলবার (১০ জুন) রাতে ১৯ জনকে পুশব্যাক করা হয়েছে। বুধবার (১১ জুন) রাতে আরও ৯ জনকে পুশব্যাক করা হবে। তিনি বলেন, লক্ষ লক্ষ লোককে পুশব্যাক করা সম্ভব নয়। তবে যতদূর পারি পুশব্যাক করা হবে। কিন্তু আসামে নাগরিকপঞ্জির শুদ্ধতা নষ্ট করার দায় মুখ্যমন্ত্রী চাপাচ্ছেন প্রাক্তন এক আইএএস অফিসারের ওপর। গত ক'দিন ধরে এই অভিযোগ করে যাচ্ছেন তিনি। 

এদিকে অসমীয়া ভাষার দৈনিক ‘অসমীয়া প্রতিদিন’ এক খবরে বলা হয়, পুশব্যাক নিয়ে আসামের মুখ্যমন্ত্রীর এই বক্তব্যের প্রতিবাদ জানিয়েছে কংগ্রের সিনিয়র নেতা ও সাংসদ রকিবুল হুসেন।

তিনি বলেন, "মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা বিদেশী নির্বাসন আইন এবং ভারতীয় নাগরিকত্ব আইন একত্রিত করে সাধারণ মানুষকে ভয় দেখানোর চেষ্টা করছেন। আমরা মুখ্যমন্ত্রীর এই ধরনের প্রচেষ্টার নিন্দা জানাই কারণ এটি ভারতের সংবিধানের পরিপন্থী। 

বৃহস্পতিবার গুয়াহাটিতে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।

পত্রিকাটি জানায়, রাকিবুল বলেন, ‘‘ ভারতের সব মানুষ চায় আসাম চুক্তি অনুযায়ী ২৫শে মার্চ, ১৯৭১ সালের পরে যেসব বিদেশি নাগরিক আসামে এসেছেন তারা চলে যাবেন। কংগ্রেস দল বারবার এটাই বলে আসছে। তাই, আসাম চুক্তি স্বাক্ষর করে এই সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করা হয়েছিল। দীর্ঘদিন ধরে, আসাম চুক্তি বাস্তবায়ন এবং বিদেশী সমস্যা সমাধানের জন্য এনআরসি নিয়ে আলোচনা চলছিল।"

তিনি বলেন, এনআরসিতে যাচাইকরণ এবং শুনানি হয়েছে। শুনানির পর বংশতালিকা দেখে। বংশতালিকা অনুসারে, বিভাগীয় যাচাইকরণ পরিচালিত হয়েছে। এই পুরো প্রক্রিয়ার পরে, সুপ্রিম কোর্ট পর্যবেক্ষণ করেছে। এই পর্যবেক্ষণের পরে, ৩১শে আগস্ট এনআরসি তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে। এনআরসি প্রকাশিত হওয়ার পর এই মুখ্যমন্ত্রীই মিস্টি বিতরণ করেছেন। অথচ এখন এসে তিনি সেই এনআরসির বিরোধীতা করছেন।

তিনি আরও বলেন, তারপর ভারত সরকারের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ঘোষণা করে যে এনআরসিতে অন্তর্ভুক্ত ব্যক্তিরা নাগরিকত্বের সমস্ত সুবিধা পাবেন এবং যারা বাদ পড়েছেন তারাও নাগরিকত্বের সমস্ত সুবিধা পাবেন যতক্ষণ না তারা আইনত নাগরিক কিনা তা চূড়ান্ত হয়। 

বিষয়টি জাতিসংঘেও উত্থাপন করা হয়েছিল এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছিল যে আসামে এনআরসি প্রক্রিয়া ভারতীয় আইন মেনে এবং ভারতের ঐতিহ্যবাহী গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ বজায় রেখে বাস্তবায়িত হবে। এটি সম্পূর্ণরূপে কেন্দ্রীয় সরকারের একটি আইন। তা সত্ত্বেও, মুখ্যমন্ত্রী যে অপ্রাসঙ্গিক কথা বলছেন তা ইঙ্গিত দেয় যে কেন্দ্রীয় সরকারের সাথে তার মতবিরোধ রয়েছে।”

পত্রিকাটির খবরে জানাযায়, রকিবুল হুসাইন বলেছেন, আজকে যে সম্প্রদায়ের মানুষ তাকে ঘৃণা করে তাদেরকে সন্দেহভাজন হিসেবে তিনি পুশব্যাক করছেন।

ad728

নিউজটি শেয়ার করুন

ad728
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ রিপোর্টার্স২৪ - সংবাদ রাতদিন সাতদিন | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় ক্রিয়েটিভ জোন ২৪