নড়াইল জেলা প্রতিনিধি: নড়াইল সদর উপজেলায় এম এম কামরুল আলম ও এম এম রেজাউল আলম নামে দুই ঠিকাদারের বিরুদ্ধে প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগ এনে থানায় অভিযোগ করেছেন নড়াইল শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের উপ-সহকারী প্রকৌশলী মো. জাহিদুল ইসলাম।
গত মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) নড়াইল সদর থানায় এ অভিযোগ দায়ের করেন তিনি। অভিযুক্ত ঠিকাদার এম এম কামরুল আলম ও এম এম রেজাউল আলম নড়াইল পৌরসভার মহিষখোলা গ্রামের বাসিন্দা।
শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তর ও দায়ের করা অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, ‘নির্বাচিত সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়সমূহের উন্নয়ন (৩২৩)’ প্রকল্পের আওতায় নড়াইল সরকারি বালিকা উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ১ থেকে ৫ তলা ভবনের ত্রুটিপূর্ণ সিরামিক ব্রিকসের গাঁথুনি ও দরজার বিল প্রদানকে কেন্দ্র করে মেসার্স মিরণ এন্টারপ্রাইজের প্রতিনিধি এম এম কামরুল আলম উপ-সহকারী প্রকৌশলী মো. জাহিদুল ইসলামকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজসহ প্রাণনাশের হুমকি দেন।
এ ঘটনায় অভিযোগকারী মো. জাহিদুল ইসলাম বলেন, গত মঙ্গলবার বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে এম এম কামরুল আলম আমাকে ওই নির্মাণাধীন ভবনের ত্রুটিপূর্ণ গাঁথুনি ও তাদের ইচ্ছামতো লাগানো দরজার ফ্রেমের বিল করে দিতে বলেন। আমি ত্রুটিপূর্ণ কাজের বিল করতে না চাইলে তিনি আমাকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজসহ প্রাণনাশের হুমকি দেন। পরে বিকেল ৪টা ২০ মিনিটে তার বড় ভাই ইডেন এন্টারপ্রাইজের মালিক এম এম রেজাউল আলম আমাকে ফোনে উক্ত কাজের বিল প্রদানের জন্য হুমকি দিয়ে ফোন কেটে দেন। এমনকি এর আগেও তাদের ভাগ্নে হৃদয় আমার বাসায় গিয়ে আমার গায়ে হাত তুলে আমাকে নানাভাবে লাঞ্ছিত করে। আমি এখন জীবনের নিরাপত্তা নিয়ে চিন্তিত।
এ বিষয়ে মিরণ এন্টারপ্রাইজের প্রতিনিধি এম এম কামরুল আলম বলেন, ঘটনা পুরোপুরি সত্য নয়। থানায় আমাদের সঙ্গে কথা হয়েছে। তারা বলেছে আমরা বসে বিষয়টি মীমাংসা করে নেব। তিনি আরও বলেন, কাজ করতে গিয়ে অফিসের সঙ্গে কমবেশি মনোমালিন্য হয়।
এম এম কামরুল আলমের বড় ভাই ইডেন এন্টারপ্রাইজের মালিক এম এম রেজাউল আলম বলেন, তাকে কোনো হুমকি দেওয়া হয়নি। আমি হুমকি দেওয়ার মতো মানুষ নই। ৬ কোটি টাকার কাজ করছি, আমি শুধু পাওনা বিল চেয়েছি।
নড়াইল সদর থানার এসআই (অভিযোগের তদন্ত কর্মকর্তা) সাগর শিকদার বলেন, আমরা দুই পক্ষকে নিয়ে বসার চেষ্টা করছি। তারা যদি মিটমাট করে নেয়, তাহলে ভালো। না হলে তদন্ত করে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
রিপোর্টার্স২৪/এসএন