| বঙ্গাব্দ
Space For Advertisement
ad728

স্পেনকে ন্যাটো থেকে স্থগিতের প্রস্তাব

reporter
  • আপডেট টাইম: এপ্রিল ২৫, ২০২৬ ইং | ১৩:১৫:৪৯:অপরাহ্ন  |  ১১৬৬ বার পঠিত
স্পেনকে ন্যাটো থেকে স্থগিতের প্রস্তাব
ছবির ক্যাপশন: সংগৃহীত

ইন্টারন্যাশনাল ডেস্ক: ইরান যুদ্ধকে ঘিরে মতবিরোধের জেরে ন্যাটো মিত্রদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার বিভিন্ন বিকল্প বিবেচনা করছে যুক্তরাষ্ট্র। পেন্টাগনের একটি অভ্যন্তরীণ ইমেইলে স্পেনকে সাময়িকভাবে ন্যাটো থেকে স্থগিত করা এবং ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান পুনর্বিবেচনার মতো প্রস্তাব তুলে ধরা হয়েছে বলে এক মার্কিন কর্মকর্তা জানিয়েছেন।

মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তর পেন্টগনের শীর্ষ নীতিনির্ধারণী উপদেষ্টা এলব্রিজ কোলবি প্রস্তুত করা ওই নোটে বলা হয়, ইরান যুদ্ধের সময় কিছু ন্যাটো মিত্র যুক্তরাষ্ট্রকে ঘাঁটি ব্যবহার, অবস্থান এবং আকাশসীমা ব্যবহারের অনুমতি (এবিও) দিতে অনীহা দেখিয়েছে। একে তিনি ন্যাটোর “ন্যূনতম প্রত্যাশা” বলে উল্লেখ করেন।

ইমেইলে প্রস্তাব করা হয়, “সমস্যাজনক” দেশগুলোকে ন্যাটোর গুরুত্বপূর্ণ বা মর্যাদাপূর্ণ পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া কিংবা জোটে তাদের ভূমিকা সীমিত করা যেতে পারে। এমনকি স্পেনকে সাময়িকভাবে স্থগিত করার কথাও আলোচনায় এসেছে বলে জানা গেছে।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইতোমধ্যে অভিযোগ করেছেন, ইরানের সঙ্গে সংঘাতে ন্যাটো মিত্ররা যথাযথ সমর্থন দেয়নি। হরমুজ প্রণালী খুলে দিতে নৌবাহিনী না পাঠানো নিয়েও তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করেন। এমনকি তিনি জোট থেকে যুক্তরাষ্ট্রের বেরিয়ে যাওয়ার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেননি।

তবে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা জানিয়েছেন, আলোচিত ইমেইলে যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাটো ত্যাগ বা ইউরোপে সামরিক ঘাঁটি বন্ধ করার প্রস্তাব নেই।পেন্টাগনের প্রেস সচিব কিংসলি উইলসন বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ন্যাটো মিত্রদের জন্য অনেক কিছু করেছে, কিন্তু তারা আমাদের পাশে ছিল না। ভবিষ্যতে মিত্রদের দায়িত্ব পালনে বাধ্য করতে প্রেসিডেন্টকে বাস্তবসম্মত বিকল্প দেওয়া হবে।

অন্যদিকে ন্যাটোর এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, জোটের প্রতিষ্ঠা চুক্তিতে কোনো সদস্য দেশকে স্থগিত করার বিধান নেই।ইরান যুদ্ধকে কেন্দ্র করে ৭৬ বছর পুরোনো এই সামরিক জোটের ভবিষ্যৎ নিয়েও নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। বিশ্লেষকরা বলছেন, ইউরোপীয় দেশগুলোর ওপর আস্থা কমে গেলে ভবিষ্যতে নিরাপত্তা সহযোগিতা দুর্বল হতে পারে।

ইউরোপীয় দেশগুলোর মধ্যে বিশেষ করে স্পেন নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের অসন্তোষ বেশি। দেশটির সরকার ইরানে হামলার জন্য তাদের ঘাঁটি বা আকাশসীমা ব্যবহার করতে দিতে অস্বীকৃতি জানায়। অথচ স্পেনে যুক্তরাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ দুটি সামরিক ঘাঁটি রয়েছে রোটা নৌঘাঁটি এবং মোরন বিমানঘাঁটি।

স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ এ বিষয়ে প্রতিক্রিয়ায় বলেন, “আমরা কোনো ইমেইলের ভিত্তিতে কাজ করি না। আমরা যুক্তরাষ্ট্র সরকারের আনুষ্ঠানিক অবস্থান নিয়েই কাজ করি।”

ইমেইলে আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাব ছিল আর্জেন্টিনার নিকটবর্তী ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘদিনের কূটনৈতিক সমর্থন পুনর্বিবেচনা করা। দ্বীপপুঞ্জটি বর্তমানে যুক্তরাজ্য প্রশাসনের অধীনে থাকলেও আর্জেন্টিনা তা নিজেদের দাবি করে।

আর্জেন্টিনার প্রেসিডেন্ট হাভিয়ের মিলেই বলেছেন, আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করছি মালভিনাস দ্বীপপুঞ্জকে আর্জেন্টিনার অধীনে ফিরিয়ে আনতে। এর অগ্রগতি আগে কখনো এতটা হয়নি।উল্লেখ্য, ১৯৮২ সালে ফকল্যান্ড ইস্যুতে যুক্তরাজ্য ও আর্জেন্টিনার মধ্যে যুদ্ধ হয়েছিল, যেখানে শত শত সেনা নিহত হন।

ইরান যুদ্ধ ঘিরে এই মতবিরোধ ন্যাটোর ঐক্যে ফাটল ধরাতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন বিশ্লেষকরা। যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ বলেছেন, “মিত্র দেশগুলো প্রয়োজনের সময় পাশে না থাকলে সেটিকে প্রকৃত জোট বলা যায় না।”

রিপোর্টার্স২৪/এসসি


ad728

নিউজটি শেয়ার করুন

ad728
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ রিপোর্টার্স২৪ - সংবাদ রাতদিন সাতদিন | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় ক্রিয়েটিভ জোন ২৪