চট্টগ্রাম প্রতিনিধি : হাটহাজারী থানার চাঞ্চল্যকর শিশু হত্যা ও ধর্ষণ মামলার প্রধান আসামি মোঃ ফয়সাল (১৯) কে গ্রেপ্তার করেছে হাটহাজারী থানা পুলিশ।
অতিরিক্ত চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপার (হাটহাজারী অঞ্চল) কাজী মো. তারেক আজিজ গণমাধ্যমকে জানান, গোপন তথ্যের ভিত্তিতে খবর পেয়ে
গত ২০শে মে বুধবার বিকাল সাড়ে ৩টায় এসআই রূপন নাথের নেতৃত্বে হাটহাজারী থানার একটি দল নরসিংদী জেলার রায়পুরা থানাধীন নিলক্ষী ইউনিয়নের টংকপাড়া এলাকা হতে তাকে গ্রেপ্তার করে। পরে আদালতে হাজির করা হলে আসামি ফয়সাল স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন।
তিনি জানান, গত ২৪ মার্চ ১১ বছর বয়সী ওই কন্যাশিশু নিখোঁজ হয়। এর দুই দিন পর ২৬ মার্চ ওই শিশুর বাড়ির পাশের একটি তুলার গুদাম থেকে দুর্গন্ধ বের হলে গন্ধের উৎস খুঁজতে গিয়ে লাশ দেখতে পান স্থানীয় বাসিন্দারা। শিশুটিকে ধর্ষণের পর হত্যা করে লাশ গুদামের ভেতরে ফেলে রাখা হয় বলে পুলিশ নিশ্চিত করে। ওই ভবনের পাশের সিসিটিভি ক্যামেরায় দেখা যায়, অভিযুক্ত ফয়সাল শিশুটিকে নিয়ে গুদামের ভেতর ঢোকেন এবং পরে একা বেরিয়ে যান। এ ঘটনায় ২৬ মার্চ ফয়সালকে আসামি করে হাটহাজারী থানায় মামলা করেন ওই শিশুর মা।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, নিহত শিশুটির বাবা শারীরিক প্রতিবন্ধী এবং মা স্থানীয় একটি কারখানার শ্রমিক। অভিযুক্ত ফয়সাল শিশুটির সঙ্গে একই কলোনিতে বসবাস করতেন। পেশায় দিনমজুর ফয়সালের গ্রামের বাড়ি বরিশালে।
পুলিশ আরো জানায় , প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ধৃত আসামি স্বীকার করেছে, গত ২৬ মার্চ হাটহাজারীর আমান বাজার এলাকার একটি তুলার গুদামে ভিক্টিমকে ভয়ভীতি প্রদর্শন করে ধর্ষণ করা হয়। পরবর্তীতে ভিক্টিম চিৎকার করলে আসামি ও তার সহযোগী মিলে তাকে নৃশংসভাবে হত্যা করে এবং লাশ গুদামের বস্তার নিচে লুকিয়ে রাখে।
ঘটনার পর আসামি বিভিন্ন স্থানে আত্মগোপন করে। তাকে গ্রেপ্তারের লক্ষ্যে হাটহাজারী থানা পুলিশ খাগড়াছড়ির মানিকছড়ি, কুমিল্লাসহ বিভিন্ন এলাকায় একাধিক অভিযান পরিচালনা করে। সর্বশেষ টানা ৭২ ঘণ্টার অভিযানে নরসিংদী থেকে তাকে গ্রেফতার করা সম্ভব হয়।
ধৃত আসামিকে বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করা হলে সে ঘটনার বিষয়ে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান করে। জবানবন্দিতে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে অপর আসামিকে গ্রেপ্তারের লক্ষ্যে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
রিপোর্টার্স/এসএন