| বঙ্গাব্দ
Space For Advertisement
ad728

চারটি রাস্তা কেটে ক্যাম্পকে বিচ্ছিন্ন করা হয়েছিলো

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর উদ্বোধনের আগেই হলো এমন ভয়াবহ হামলা

reporter
  • আপডেট টাইম: মে ২৫, ২০২৬ ইং | ১৩:১২:৫৭:অপরাহ্ন  |  ৮৫৩ বার পঠিত
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর উদ্বোধনের আগেই হলো এমন ভয়াবহ হামলা

নিজস্ব প্রতিবেদক : চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের জঙ্গল সলিমপুরের আলীনগর ক্যাম্পটি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাউদ্দিন আহমেদের উদ্বোধনের কথা ছিল। তবে রোববার দিবাগত রাতে সলিমপুরে প্রবেশের প্রধান সড়কসহ চারটি রাস্তা কেটে ফেলেছে সন্ত্রাসীরা। তারা ডাম্প ট্রাক ও স্কেভেটর দিয়ে চারটি সড়ক কেটে এলাকায় প্রবেশের পথে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে। এছাড়া রাত আড়াইটার দিকে আলীনগর ক্যাম্পে হামলা ও ভাঙচুর চালায় সন্ত্রাসীরা। এ সময় তারা দায়িত্বরত র‍্যাব সদস্যদের লক্ষ্য করে গুলি ছুড়েছে বলে জানিয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।

সকাল ১১টার দিকে ঘটনাস্থল থেকে চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপার মাসুদ আলম গণমাধ্যমকে বলেন, “সন্ত্রাসীদের দীর্ঘদিনের সাম্রাজ্য জঙ্গল সলিমপুর। একদিনে এখানে নিয়ন্ত্রণ সম্ভব নয়। তবে সরকারের ধারাবাহিক অভিযানে ছন্নছাড়া হয়ে সন্ত্রাসীরা এসব করছে। আলীনগর স্কুলে স্থাপিত ক্যাম্পই ছিল তাদের টার্গেট। তারা কয়েক রাউন্ড গুলি ছুড়েছে। তবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযানের মুখে সন্ত্রাসীরা পালিয়ে গেছে।”

তিনি আরও বলেন, অভিযানে ডাম্প ট্রাক, ট্রাক ও মোটরসাইকেল জব্দ করা হয়েছে এবং কয়েকজনকে হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। “সন্ত্রাসীরা একটু নাড়াচাড়া দিচ্ছে, তবে কোনো লাভ হবে না। জঙ্গল সলিমপুরকে নিরাপদ ও শান্তিপূর্ণ এলাকায় পরিণত করতে যা যা করার প্রয়োজন, সবই করা হবে।”

তিনি জানান, যোগাযোগ ব্যবস্থার দুর্বলতার কারণে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে অভিযান চালাতে বেগ পেতে হয়। যোগাযোগ ব্যবস্থা উন্নত হলে অভিযান ও এলাকা নিয়ন্ত্রণ সহজ হবে।

র‍্যাব-৭ চট্টগ্রামের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল হাফিজুর রহমান বলেন, ঘটনার পর থেকে জঙ্গল সলিমপুরে অতিরিক্ত বাহিনী, সেনাবাহিনী ও পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। সাঁড়াশি অভিযান চলছে। এ ঘটনায় জড়িত শীর্ষ সন্ত্রাসী ইয়াসিনসহ তার অনুসারীদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

তিনি বলেন, “ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে জঙ্গল সলিমপুরে সন্ত্রাসীরা আত্মগোপনে থাকতে পারছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর গতিবিধি নজরদারিতে রাখতে তারা সোর্স ব্যবহার করছে। তারা দেশীয় অস্ত্র ও একে-৪৭ দিয়ে হামলা করেছে। হামলায় ক্যাম্পটির প্রায় ৭০ শতাংশ ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। ক্যাম্পে প্রায় ৫০ জন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য দায়িত্ব পালন করছিলেন।”

তিনি আরও জানান, বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। দ্রুত যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন করা প্রয়োজন। এতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কার্যক্রম আরও সহজ হবে।

জানা গেছে, গত ৯ মার্চ প্রথমবারের মতো সেনাবাহিনী, র‍্যাব, পুলিশ ও বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) প্রায় ৩ হাজার ২০০ সদস্য যৌথ অভিযান চালিয়ে এলাকাটির নিয়ন্ত্রণ নেয়। এরপর জঙ্গল সলিমপুরের এস এম পাইলট উচ্চবিদ্যালয় ও আলীনগর উচ্চবিদ্যালয়ে র‍্যাব-পুলিশের সমন্বয়ে পৃথক দুটি চৌকি স্থাপন করা হয়।

৯ মার্চের যৌথ অভিযানে ২২ জনকে গ্রেপ্তার করা হলেও ইয়াসিন বাহিনীর প্রধান মো. ইয়াসিন, রোকন বাহিনীর প্রধান রোকন উদ্দিন, মশিউর রহমান, নুরুল হক ভান্ডারি, গাজী সাদেক ও গোলাম গফুরসহ কয়েকজন সন্ত্রাসী এখনো পলাতক রয়েছেন।

র‍্যাব-৭ অধিনায়ক জানান, ক্যাম্পে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা গুরুতর অপরাধ। এ ঘটনায় মামলা করা হবে এবং সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত থাকবে।

রিপোর্টার্স২৪/সাইফ

ad728

নিউজটি শেয়ার করুন

ad728
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ রিপোর্টার্স২৪ - সংবাদ রাতদিন সাতদিন | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় ক্রিয়েটিভ জোন ২৪