রিপোর্টার্স২৪ ডেস্ক: ঈদুল আজহা উপলক্ষে দেশের বিভিন্ন রুটে বাসে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতি দাবি করেছে, নির্ধারিত ভাড়ার বাইরে বিপুল পরিমাণ টাকা অতিরিক্ত আদায় করা হয়েছে, যা যাত্রীদের ওপর বড় ধরনের আর্থিক চাপ তৈরি করেছে।
বুধবার (২৭ মে) গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে সংগঠনটির মহাসচিব মোজাম্মেল হক চৌধুরী এ তথ্য জানান।
সংগঠনটির পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, ঈদযাত্রায় অতিরিক্ত ভাড়া না নেওয়ার ঘোষণা থাকলেও বাস্তবে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন রুটে সেই নির্দেশনা মানা হয়নি। ফলে সিটি সার্ভিস ও দূরপাল্লার বাসে ভাড়া নৈরাজ্য দেখা গেছে।
যাত্রী কল্যাণ সমিতি জানায়, দেশের প্রায় সাড়ে আটশ রুটের মধ্যে ২৬টি রুট পর্যবেক্ষণ করে দেখা গেছে, এসব রুটে প্রায় ২ লাখ ৩৪ হাজার যাত্রীর কাছ থেকে মোট প্রায় ৫ কোটি ৬১ লাখ ৯৩ হাজার টাকা অতিরিক্ত আদায় করা হয়েছে।
সংগঠনটির দাবি অনুযায়ী, ঢাকা-খুলনা রুটে ৫৪১ টাকার ভাড়া আদায় করা হয়েছে ১ হাজার টাকা পর্যন্ত, ঢাকা-বরিশাল রুটে ৫৯২ টাকার ভাড়া নেওয়া হয়েছে ৮৫০ টাকা পর্যন্ত। একইভাবে ঢাকা-পটুয়াখালী রুটে ৫৭০ টাকার ভাড়া ১ হাজার টাকা, ঢাকা-শরীয়তপুর রুটে ২৩৩ টাকার ভাড়া ৫০০ টাকা পর্যন্ত আদায়ের অভিযোগ পাওয়া গেছে।
এছাড়া চট্টগ্রাম-বরগুনা, ঢাকা-মাদারীপুরসহ একাধিক রুটে দ্বিগুণ বা তার কাছাকাছি ভাড়া আদায়ের অভিযোগ করেছে সংগঠনটি।
পর্যবেক্ষণে আরও বলা হয়, অনেক বাসে আসনসংখ্যা কম দেখিয়ে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করা হচ্ছে। কিছু ক্ষেত্রে স্বল্প দূরত্বের যাত্রীদের কাছ থেকেও দীর্ঘ রুটের ভাড়া নেওয়া হচ্ছে।
যাত্রী কল্যাণ সমিতি মনে করছে, এ ধরনের অনিয়মের ফলে সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ বাড়ছে এবং পরিবহন খাতে অস্থিরতা তৈরি হচ্ছে। পাশাপাশি নিম্নআয়ের মানুষ বাধ্য হয়ে ঝুঁকিপূর্ণ পরিবহনে যাতায়াত করছেন বলেও অভিযোগ করা হয়েছে।
সংগঠনটি পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে গণপরিবহনে ডিজিটাল ভাড়া আদায় ব্যবস্থা চালু, নগদ লেনদেন সীমিত করা, চালকদের বেতন ও ঈদ বোনাস নিশ্চিত করা এবং মহাসড়কে সিসিটিভি নজরদারি বাড়ানোর সুপারিশ করেছে।
রিপোর্টার্স২৪/ঝুম