রিপোর্টার্স২৪ ডেস্ক: ফরিদপুরে হামের উপসর্গ নিয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আরও দুই শিশুর মৃত্যু হয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় (বৃহস্পতিবার সকাল ৮টা থেকে শুক্রবার সকাল ৮টা পর্যন্ত) ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে তাদের মৃত্যু হয়।
মারা যাওয়া দুই শিশু হলো রাজবাড়ী সদর উপজেলার মাটিপাড়া গ্রামের রেজাউল করিমের ৯ মাস বয়সী ছেলে আয়ান করিম এবং ফরিদপুর শহরের হাড়োকান্দি মহল্লার কামরুল ইসলামের তিন মাস বয়সী ছেলে আব্দুল্লাহ।
ফরিদপুর জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে এখন পর্যন্ত ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মোট ১৬ জন শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে গোপালগঞ্জ ও ফরিদপুর জেলায় সর্বোচ্চ চারজন করে শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এছাড়া মাদারীপুরে তিনজন, রাজবাড়ীতে তিনজন এবং মাগুরা ও যশোরে একজন করে শিশুর মৃত্যু হয়েছে।
স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় ফরিদপুরের বিভিন্ন হাসপাতালে হামের উপসর্গ নিয়ে নতুন করে ৩০ জন রোগী ভর্তি হয়েছে। এর মধ্যে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ১৮ জন এবং ফরিদপুর জেনারেল হাসপাতালে ১২ জন রোগী ভর্তি করা হয়।
বর্তমানে দুই হাসপাতালে মোট ১২৯ জন রোগী চিকিৎসাধীন রয়েছে। এর মধ্যে পুরাতন রোগী ৯৯ জন এবং নতুন ভর্তি ৩০ জন। হাসপাতালভিত্তিক হিসাবে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ৮১ জন এবং জেনারেল হাসপাতালে ৪৮ জন রোগী চিকিৎসা নিচ্ছেন।
একই সময়ে ৩৩ জন রোগী সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছেন। এর মধ্যে মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে ১৬ জন এবং জেনারেল হাসপাতাল থেকে ১৭ জন রোগী বাড়ি ফিরেছেন।
চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ২৯ মে পর্যন্ত ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ১৩০০ জন এবং ফরিদপুর জেনারেল হাসপাতালে ৫৭৬ জনসহ মোট ১৯৯২ জন রোগী হামের উপসর্গ নিয়ে চিকিৎসা নিয়েছে। এদের মধ্যে এখন পর্যন্ত ১৭৩১ জন সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছে।
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, রোগীর সংখ্যা বৃদ্ধি এবং শিশু মৃত্যুর ঘটনা পরিস্থিতিকে উদ্বেগজনক করে তুলছে। সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে টিকাদান কার্যক্রম ও জনসচেতনতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
রিপোর্টার্স২৪/ঝুম