| বঙ্গাব্দ
Space For Advertisement
ad728

শিক্ষকদের অবসরের টাকা পেতে আর অফিসে অফিসে ঘুরতে হবে না: প্রধানমন্ত্রী

reporter
  • আপডেট টাইম: অগাস্ট ১৫, ২০২৬ ইং | ১৪:৫৫:৫১:অপরাহ্ন  |  ১৫১ বার পঠিত
শিক্ষকদের অবসরের টাকা পেতে আর অফিসে অফিসে ঘুরতে হবে না: প্রধানমন্ত্রী

রিপোর্টার্স২৪ ডেস্ক: বেসরকারি শিক্ষকদের অবসর ও কল্যাণ সুবিধার অর্থ পেতে এখন থেকে আর অফিসে অফিসে ঘুরতে হবে না বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। একই সঙ্গে এ অর্থ পেতে কোনো ধরনের ভোগান্তি বা মধ্যস্বত্বভোগীর দ্বারস্থ হওয়ার প্রয়োজন হবে না বলেও জানিয়েছেন তিনি।

শনিবার (১৫ আগস্ট) রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে বেসরকারি শিক্ষক-কর্মচারীদের অবসর ও কল্যাণ সুবিধার অর্থ প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী।

অনুষ্ঠানে শিক্ষকদের দীর্ঘদিনের ভোগান্তির কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, অবসরের টাকা পেতে শিক্ষকদের আর এক অফিস থেকে আরেক অফিসে ঘুরতে হবে না। অর্থ পেতে কোনো ধরনের হয়রানি থাকবে না এবং মধ্যস্বত্বভোগীদের দ্বারস্থ হওয়ারও প্রয়োজন হবে না।

তারেক রহমান বলেন, শিক্ষকদের অবসরের টাকা পেতে আর অফিসে অফিসে ঘুরতে হবে না। কোনো ভোগান্তি থাকবে না। মধ্যস্বত্বভোগীর দ্বারস্থ হতে হবে না।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, শিক্ষকদের অবসর ও কল্যাণ সুবিধার অর্থ পেতে অতীতে কী ধরনের সমস্যার মুখোমুখি হতে হয়েছে, তার একটি চিত্র ভিডিওতে দেখা গেছে। একসময় শিক্ষকদের নিজেদের প্রাপ্য ভাতার টাকা পেতেও ঘুষ দিতে হতো বলে মন্তব্য করেন তিনি।

তিনি বলেন, আজ যেভাবে সহজে শিক্ষকদের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে টাকা পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে, অতীতে বিষয়টি এতটা সহজ ছিল না। দীর্ঘদিন ধরে জমে থাকা জটিলতার কারণে অবসর ও কল্যাণ সুবিধার অর্থ পেতে শিক্ষকদের নানা ধরনের হয়রানির শিকার হতে হয়েছে।

তারেক রহমান অভিযোগ করেন, বিগত আওয়ামী লীগ সরকার লুটপাটের মাধ্যমে শিক্ষকদের অবসর ও কল্যাণ সুবিধা ব্যবস্থার দুটি বোর্ডকে কার্যত পঙ্গু করে রেখে গেছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, শিক্ষকদের অবসর ভাতার ফান্ডে বর্তমানে পর্যাপ্ত অর্থ নেই। এ কারণে বিশেষ ব্যবস্থার মাধ্যমে শিক্ষকদের পাওনা অর্থ পরিশোধ করা হচ্ছে।

তিনি বলেন, প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী শিক্ষকতা থেকে অবসর নিলেও একজন শিক্ষক সমাজ ও দেশের কাছে তার ভূমিকার কারণে সবসময়ই শিক্ষক হিসেবে বিবেচিত হন। শিক্ষকদের এই অবস্থান ও মর্যাদা সর্বজনগ্রাহ্য বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের ভবিষ্যৎ প্রজন্ম গড়ে তোলার ক্ষেত্রে শিক্ষকদের অবদান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাই তাদের ন্যায্য পাওনা পেতে দীর্ঘদিন অপেক্ষা করতে হবে কিংবা দপ্তরে দপ্তরে ঘুরতে হবে এমন পরিস্থিতি গ্রহণযোগ্য নয়।

অনুষ্ঠানে শিক্ষকদের অবসর ও কল্যাণ ভাতার অর্থ বিতরণ কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এর মধ্য দিয়ে বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-কর্মচারীদের অবসর ও কল্যাণ ট্রাস্টের অর্থ বিতরণ শুরু হয়।

জানা গেছে, বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-কর্মচারীদের কল্যাণ ট্রাস্টের সুবিধাপ্রাপ্ত আবেদনগুলো যাচাই-বাছাই শেষে iBAS++-এর মাধ্যমে অর্থ প্রদানের জন্য প্রস্তুত করা হয়েছে।

শিক্ষক-কর্মচারীদের অবসর ও কল্যাণ সুবিধার অর্থ পরিশোধে সরকার এককালীন ২ হাজার ৩৫ কোটি ৮৬ লাখ টাকা বরাদ্দ করেছে। দীর্ঘ চার বছর ধরে জমে থাকা শিক্ষকদের বকেয়া পরিশোধের জট কাটাতে দেশের ৬৪ জেলায় একযোগে সংশ্লিষ্ট শিক্ষকদের নিজ নিজ ব্যাংক অ্যাকাউন্টে এই অর্থ পাঠানো হচ্ছে।

এর আগে গত ৬ আগস্ট প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে ১ লাখ ১৯ হাজার শিক্ষক-কর্মচারীকে অবসর ও কল্যাণ ট্রাস্টের অর্থ দেওয়ার বিষয়ে সম্মতি দেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

সরকারের এই উদ্যোগের ফলে দীর্ঘদিন ধরে অবসর ও কল্যাণ সুবিধার অর্থের অপেক্ষায় থাকা বিপুলসংখ্যক শিক্ষক-কর্মচারীর পাওনা পরিশোধের পথ খুলেছে। সরাসরি ব্যাংক অ্যাকাউন্টে অর্থ পাঠানোর ব্যবস্থা থাকায় অর্থ পেতে আগের মতো দাপ্তরিক জটিলতা ও হয়রানি কমবে বলে আশা করা হচ্ছে।

রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দীন আহমদ, শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহসানুল হক মিলন, প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা বিষয়ক উপদেষ্টা ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন এবং শিক্ষা সচিব আব্দুল খালেকসহ সরকারের সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তারা।

অনুষ্ঠানে শিক্ষক-কর্মচারীদের দীর্ঘদিনের পাওনা পরিশোধের পাশাপাশি ভবিষ্যতে অবসর ও কল্যাণ সুবিধা পাওয়ার প্রক্রিয়াকে আরও সহজ, স্বচ্ছ ও হয়রানিমুক্ত করার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।


রিপোর্টার্স২৪/ঝুম

ad728

নিউজটি শেয়ার করুন

ad728
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ রিপোর্টার্স২৪ - সংবাদ রাতদিন সাতদিন | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় ক্রিয়েটিভ জোন ২৪