| বঙ্গাব্দ
Space For Advertisement
ad728

আরও ৬০ দিন বাড়ছে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধবিরতি

reporter
  • আপডেট টাইম: মে ২৯, ২০২৬ ইং | ১৮:০২:৪২:অপরাহ্ন  |  ৪১০ বার পঠিত
আরও ৬০ দিন বাড়ছে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধবিরতি

ইন্টারন্যাশনাল ডেস্ক: মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘদিনের উত্তেজনার মধ্যে নতুন করে আশার আলো দেখাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের সম্ভাব্য সমঝোতা। যুদ্ধবিরতির মেয়াদ আরও ৬০ দিন বাড়ানো এবং স্থায়ীভাবে সংঘাত নিরসনের লক্ষ্যে দুই দেশ একটি প্রাথমিক সমঝোতা স্মারকে পৌঁছেছে বলে জানিয়েছে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম। তবে চুক্তিটি কার্যকর হতে এখনো মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের চূড়ান্ত অনুমোদন প্রয়োজন।

বৃহস্পতিবার (২৮ মে) প্রকাশিত আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে বলা হয়, কয়েক সপ্তাহ ধরে স্থবির হয়ে থাকা কূটনৈতিক আলোচনায় এটি বড় ধরনের অগ্রগতি হিসেবে দেখা হচ্ছে। বিশেষ করে উপসাগরীয় অঞ্চলে সাম্প্রতিক সংঘর্ষ এবং হরমুজ প্রণালি ঘিরে উত্তেজনার মধ্যে এই সমঝোতা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ব্যাপক গুরুত্ব পাচ্ছে।

মার্কিন সূত্রগুলোর বরাতে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সম্ভাব্য চুক্তির আওতায় হরমুজ প্রণালিতে আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক রাখা এবং ইরানের বন্দরগুলোর ওপর আরোপিত মার্কিন নৌ অবরোধ শিথিল করার বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। বিশ্ব জ্বালানি সরবরাহের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথ ঘিরে দীর্ঘদিন ধরেই দুই দেশের মধ্যে টানাপোড়েন চলছিল।

ইরান বরাবরই দাবি করে আসছে, হরমুজ প্রণালি ইরান ও ওমানের যৌথ জলসীমায় অবস্থিত হওয়ায় এর ব্যবস্থাপনায় তাদের অধিকার রয়েছে। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র শুরু থেকেই ইরানের যেকোনো ধরনের নিয়ন্ত্রণ বা টোল আরোপের বিরোধিতা করে আসছে।

এদিকে মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট ওমানকে সতর্ক করে বলেছেন, হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলে কোনো ধরনের ফি আরোপে সহায়তা করলে দেশটির বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হতে পারে।

বেসেন্ট আরও জানান, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ইরানের জন্য তিনটি প্রধান শর্ত নির্ধারণ করেছেন। সেগুলো হলো— হরমুজ প্রণালি সম্পূর্ণ উন্মুক্ত রাখা, সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুত পরিত্যাগ করা এবং পারমাণবিক কর্মসূচি বন্ধ করা।

অন্যদিকে ইরানের আধা-সরকারি সংবাদ সংস্থা তাসনিম জানিয়েছে, এখনো চুক্তির খসড়া চূড়ান্ত হয়নি। ইরানি সূত্রের দাবি, আনুষ্ঠানিক সমঝোতা সম্পন্ন হলে পাকিস্তানি মধ্যস্থতাকারী ও জনগণকে তা জানানো হবে।

ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ান বৃহস্পতিবার বলেছেন, ইরান পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করতে চায় না। তবে তিনি স্পষ্ট করে বলেন, “আমরা অপমানজনক কূটনীতিতে বিশ্বাস করি না।”

যদিও সম্ভাব্য এই সমঝোতা হরমুজ সংকট প্রশমনে ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে, তবুও ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি, ড্রোন সক্ষমতা, মার্কিন নিষেধাজ্ঞা এবং মধ্যপ্রাচ্যে ইরান-সমর্থিত গোষ্ঠীগুলোর ভূমিকা নিয়ে বিরোধ এখনো কাটেনি।

বিশেষ করে লেবাননে চলমান উত্তেজনাও আলোচনায় বড় ইস্যু হয়ে উঠেছে। সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে ইসরায়েল সেখানে হামলা জোরদার করেছে। পাল্টা জবাবে ইরান-সমর্থিত হিজবুল্লাহও ড্রোন হামলা বাড়িয়েছে বলে আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে।

বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্প প্রশাসন যদি এই চুক্তিতে অনুমোদন দেয় এবং ইরানও আনুষ্ঠানিকভাবে সায় দেয়, তাহলে এটি সাম্প্রতিক ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সংঘাত নিরসনের পথে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক অগ্রগতি হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।


রিপোর্টার্স২৪/ঝুম

ad728

নিউজটি শেয়ার করুন

ad728
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ রিপোর্টার্স২৪ - সংবাদ রাতদিন সাতদিন | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় ক্রিয়েটিভ জোন ২৪