| বঙ্গাব্দ
Space For Advertisement
ad728

পানির নিচের ড্রোন বানাবে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য ও অস্ট্রেলিয়া

reporter
  • আপডেট টাইম: মে ৩১, ২০২৬ ইং | ১৯:৫৩:৩৯:অপরাহ্ন  |  ১০০৪ বার পঠিত
পানির নিচের ড্রোন বানাবে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য ও অস্ট্রেলিয়া

ইন্টারন্যাশনাল ডেস্ক: সমুদ্রগর্ভের ক্যাবল ও গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো সুরক্ষায় নতুন প্রজন্মের আন্ডারওয়াটার ড্রোন প্রযুক্তি আনার ঘোষণা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য ও অস্ট্রেলিয়া। আকুস (AUKUS) সামরিক জোটের আওতায় পরিচালিত এই প্রকল্পের মাধ্যমে সমুদ্রের নিচে নজরদারি, প্রতিরক্ষা ও হামলাসহ বিভিন্ন সক্ষমতা গড়ে তোলা হবে।

সিঙ্গাপুরে অনুষ্ঠিত শাংরি-লা ডায়ালগ নিরাপত্তা সম্মেলনের ফাঁকে তিন দেশের প্রতিরক্ষামন্ত্রীরা এ ঘোষণা দেন। তাদের আশা, মানববিহীন পানির নিচের যান বা ইউইউভি (UUV) প্রযুক্তি আগামী বছরের মধ্যেই প্রস্তুত হবে।

প্রকল্পের মোট ব্যয়ের পরিমাণ প্রকাশ না করা হলেও যুক্তরাজ্যের প্রতিরক্ষামন্ত্রী জন হিলি জানিয়েছেন, তার দেশ এ খাতে ১৫০ মিলিয়ন পাউন্ড (প্রায় ২০১ মিলিয়ন ডলার) বিনিয়োগ করবে।

সমালোচকদের অভিযোগ, ২০২১ সালে ঘোষিত আকুস জোটের বিভিন্ন প্রকল্পের অগ্রগতি প্রত্যাশার তুলনায় ধীর। সেই সমালোচনার জবাবে হিলি বলেন, ‘আকুসে আমরা দীর্ঘদিন ধরে বেশি কথা বলেছি এবং কম সরবরাহ করেছি। আমাদের তিন সরকারের অধীনে এখন তা পরিবর্তিত হয়েছে।’

আকুস চুক্তির আওতায় তিন দেশ পারমাণবিক সাবমেরিন উন্নয়ন ও উন্নত সামরিক প্রযুক্তি বিনিময়ের বিষয়ে একমত হয়। ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে চীনের ক্রমবর্ধমান সামরিক উপস্থিতির প্রেক্ষাপটে এই জোটকে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখা হয়।

নতুন ইউইউভি প্রকল্পটি আকুসের ‘পিলার টু’ কর্মসূচির প্রথম বড় উদ্যোগ। এ কর্মসূচির আওতায় হাইপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্র, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), সমুদ্রগর্ভের রোবোটিক্সসহ বিভিন্ন উন্নত প্রযুক্তি নিয়ে যৌথভাবে কাজ করছে তিন দেশ।

এক যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়, নতুন প্রকল্পের আওতায় ইউইউভির জন্য ‘অত্যাধুনিক পেলোড এবং সহায়ক ব্যবস্থা’ তৈরি করা হবে। এসব প্রযুক্তি সমুদ্রতলের অবকাঠামো সুরক্ষা, হামলা পরিচালনা, নজরদারি, রেকোনিস্যান্স এবং লজিস্টিকস কার্যক্রমে ব্যবহৃত হবে।

জন হিলি বলেন, আমাদের সমুদ্রগর্ভের ক্যাবল এবং পাইপলাইনের মতো হুমকিগুলো মোকাবিলা করতে এই প্রকল্প সহায়তা করবে, যার ওপর আমাদের দৈনন্দিন জীবন এতটা নির্ভরশীল।

তার মতে, এই উদ্যোগ প্রশান্ত মহাসাগর, আটলান্টিক ও উত্তরাঞ্চলীয় জলসীমায় প্রতিরোধ সক্ষমতা আরও শক্তিশালী করবে।

সম্প্রতি যুক্তরাজ্য অভিযোগ করেছে, দেশটির উত্তরাঞ্চলীয় জলসীমার ক্যাবল ও পাইপলাইনকে লক্ষ্য করে রাশিয়া গোপন তৎপরতা চালাচ্ছে। যদিও মস্কো এ অভিযোগ অস্বীকার করেছে। গত ডিসেম্বরে সমুদ্রগর্ভের কেবল সুরক্ষায় রুশ সাবমেরিন শনাক্ত করতে যুক্তরাজ্য ও নরওয়ে একটি সহযোগিতা চুক্তিও সই করে।

ব্রিটিশ কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাজ্য প্রায় ৬০টি সমুদ্রগর্ভের ক্যাবলের সঙ্গে যুক্ত এবং এসব অবকাঠামো ক্রমবর্ধমান নিরাপত্তা ঝুঁকির মুখে রয়েছে। গত কয়েক বছরে দেশটির জলসীমায় রুশ জাহাজের উপস্থিতি প্রায় ৩০ শতাংশ বেড়েছে।

এদিকে তাইওয়ানের আশপাশের জলসীমা ও সুইডিশ ভূখণ্ডে সমুদ্রগর্ভের ক্যাবল ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ঘটনায় চীনা জাহাজের সম্পৃক্ততার অভিযোগ উঠেছে। বাল্টিক সাগরেও একাধিকবার ক্যাবল ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ঘটনা সামনে এসেছে।

তবে তিন দেশের প্রতিরক্ষামন্ত্রীরা স্পষ্ট করেননি যে, নতুন ইউইউভি প্রকল্পটি রাশিয়া ও চীনের সমুদ্রগর্ভের কার্যক্রম মোকাবিলার উদ্দেশ্যে নেওয়া হয়েছে কি না। আকুস প্রকল্পগুলোর অগ্রগতি ধীরগতির অভিযোগ নিয়েও তারা কোনো মন্তব্য করেননি। সূত্র: বিবিসির

রিপোর্টার্স২৪/ধ্রুব

ad728

নিউজটি শেয়ার করুন

ad728
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ রিপোর্টার্স২৪ - সংবাদ রাতদিন সাতদিন | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় ক্রিয়েটিভ জোন ২৪