রিপোর্টার্স ডেস্ক: এক লাখ ১৭ হাজার টাকার ঋণের দলিল (স্ট্যাম্প) চুরি করতে গিয়ে চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলায় মা-মেয়েকে ছুরিকাঘাতে নির্মমভাবে খুন করা হয়েছে। এ হত্যাকাণ্ডের অন্যতম আসামি রিমন বড়ুয়া ওরফে তেজু বড়ুয়াকে (৩২) গ্রেপ্তারের পর এ তথ্য জেনেছে জেলা পুলিশ। উদ্ধার করা হয়েছে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত ছুরি এবং ঘটনার সময় চুরি হওয়া নিহত এনি বড়ুয়ার মোবাইল ফোন।
সোমবার (১৫ জুন) দুপুরে জেলা পুলিশের কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলন করে এ তথ্য জানিয়েছে চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপার মাসুদ আলম।
রিমন ওরফে তেজু বড়ুয়া আনোয়ারা উপজেলার পরৈকোড়া ইউনিয়নের চেনামতি এলাকার বেশান্ত বড়ুয়ার ছেলে। মা-মেয়েকে খুনের ঘটনায় হওয়া মামলার প্রধান আসামি তিনি। এ ছাড়া তেজু বড়ুয়া ওই ইউনিয়নের নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ছিলেন।
গত ১৩ জুন রাত সাড়ে ১০টা থেকে ১১টার মধ্যে আনোয়ারার পরৈকোড়া ইউনিয়নের চেনামতি গ্রামে এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।
নিহতরা হলেন, ওই এলাকার সুজন বড়ুয়ার স্ত্রী এনি বড়ুয়া (৪০) ও তার মেয়ে প্রিয়ন্তী বড়ুয়া (১৬)। ঘটনার সময় ঘরে থাকা পাঁচ বছরের শিশু আহত হলেও প্রাণে বেঁচে যায়।
পুলিশ সুপার মাসুদ আলম বলেন, ৯৯৯ থেকে খবর পেয়ে আনোয়ারা থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে ঘরের বারান্দা ও কক্ষ থেকে মা-মেয়ের রক্তাক্ত লাশ উদ্ধার করে। ঘটনার পর জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) ও থানা পুলিশের সমন্বয়ে একাধিক দল তদন্ত শুরু করে।
তদন্তে প্রাপ্ত তথ্য, প্রযুক্তিগত বিশ্লেষণ ও স্থানীয়দের দেওয়া সূত্রের ভিত্তিতে রবিবার (১৪ জুন) রাতে পটিয়া এলাকা থেকে রিমন বড়ুয়া প্রকাশ তেজু বড়ুয়াকে গ্রেপ্তার করা হয়। তিনি নিহত এনি বড়ুয়া চাচাতো দেবর।
জেলা পুলিশ সুপার মাসুদ আলম জানান, তেজু বড়ুয়ার সঙ্গে নিহত এনি বড়ুয়ার স্বামী সুজন বড়ুয়ার টাকার লেনদেন ছিল। তেজু অটোরিকশা কেনার জন্য সুজনের কাছ থেকে এক লাখ ১৭ হাজার টাকা ঋণ নেয়। ঋণের বিষয়টি চুক্তি হিসেবে স্ট্যাম্প হয়। কথা ছিল প্রতিমাসে সুদসহ কিস্তি আকারে পরিশোধ করবে। ঋণের টাকা নিয়মিত পরিশোধ না করায় তাদের মধ্যে কলহ সৃষ্টি হয়।
তিনি আরও জানান, ঋণের টাকা যাতে পরিশোধ করতে না হয় এ জন্য পরিকল্পনা করে তেজু বড়ুয়া। সে চিন্তা করে স্ট্যাম্প চুরি করতে পারলে এ টাকা আর দেওয়া লাগবে না কিংবা টাকা নেওয়ার বিষয়ে আর কোনও প্রমাণ থাকলো না।
এ পরিকল্পনায় শনিবার রাতে ভুক্তভোগীর বাড়িতে সংরক্ষিত ঋণ সংক্রান্ত স্ট্যাম্প চুরির উদ্দেশে যায়। সঙ্গে নিয়ে যায় একটি ছুরি। সে ছুরি নিয়ে বাড়ির পেছনের দরজার বাইরে ওত পেতে ছিল। রাত পৌঁনে ১১টার দিকে এনি বড়ুয়া ঘর থেকে বের হলে তাকে দেখতে পেয়ে চিৎকার দেয়। তখন তেজু তাকে ধরে ছুরিকাঘাত করতে থাকে। পরে তার মেয়ে প্রিয়ন্তী ঘরে পড়ছিল। মায়ের চিৎকার শুনে এগিয়ে এলে তাকেও এলোপাতাড়ি ছুরিকাঘাত করে হত্যা করে। পরে এনির ব্যবহৃত মোবাইল ফোন নিয়ে পালিয়ে যায় তেজু।
পুলিশ জানায়, তেজুর দেখানো মতে ভুক্তভোগীর বাড়ির পেছনের খাল থেকে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত চাকু উদ্ধার করা হয়। এ ছাড়া পটিয়া রেললাইনের পাশের একটি ডোবায় ফেলে দেওয়া এনির ব্যবহৃত মোবাইল ফোনও উদ্ধার করা হয়েছে।
এ ঘটনায় রাতে আনোয়ারা থানায় মামলা করেন সুজন বড়ুয়া। মামলায় রিমন ওরফে তেজু বড়ুয়াকে প্রধান আসামি করা হয়। এ ছাড়া অজ্ঞাত ২/৩ জনকে আসামি করা হয়।
রিপোর্টার্স২৪/ মিতু