স্পোর্টস ডেস্ক: বিশ্বকাপের মঞ্চে আরও একটি হতাশাজনক ফলের দেখা মিলল বেলজিয়ামের। লস অ্যাঞ্জেলসে গ্রুপ ‘জি’-এর দ্বিতীয় রাউন্ডের ম্যাচে ইউরোপীয় পরাশক্তি বেলজিয়ামকে ০-০ গোলে রুখে দিয়েছে ইরান।
এই ড্র ইরানের জন্য বড় প্রাপ্তি হিসেবে দেখা হচ্ছে। গুরুত্বপূর্ণ এক পয়েন্ট নিয়ে তারা প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে ওঠার আশা টিকিয়ে রাখল। অন্যদিকে পরপর দুই ম্যাচে পয়েন্ট হারিয়ে বেলজিয়ামের পরবর্তী পর্বে যাওয়ার সমীকরণ জটিল হয়ে পড়েছে।
ম্যাচের শুরু থেকেই রক্ষণাত্মক কৌশল নেয় ইরান। পাঁচজনের রক্ষণভাগ এবং সংগঠিত ডিফেন্সিভ ব্লক ভাঙতে ব্যর্থ হয় বেলজিয়ামের আক্রমণভাগ। ইনজুরির কারণে লেফট-উইঙ্গার জেরেমি ডকুর অনুপস্থিতি বেলজিয়ামের আক্রমণে বড় ধাক্কা হয়ে আসে।
কোচ রুডি গার্সিয়ার অধীনে কেভিন ডি ব্রুইনে ও রোমেলু লুকাকুর ওপর ভরসা করেও কাঙ্ক্ষিত ফল পায়নি বেলজিয়াম। ডি ব্রুইনের সুনির্দিষ্ট পাসিং ও দূরপাল্লার শটও ইরানের সংগঠিত রক্ষণ ভাঙতে পারেনি। লুকাকুও পুরো ম্যাচে ছিলেন নিষ্প্রভ।
অন্যদিকে পাল্টা আক্রমণে একাধিকবার বেলজিয়ামকে চাপে ফেলে ইরান। ১৩তম মিনিটে বক্সের ভেতর থেকে কানানিজাদেগানের জোরালো শট অবিশ্বাস্য দক্ষতায় রুখে দেন বেলজিয়ান গোলরক্ষক থিবো কোর্তোয়া। ২৭তম মিনিটে ফ্রি-কিক থেকে ইরানের একটি সংগঠিত আক্রমণে গোল হলেও সামান্য অফসাইডের কারণে তা বাতিল হয়।
দ্বিতীয়ার্ধের ৫৩তম মিনিটে মেহদি তারেমির বুলেট গতির ভলিও কোর্তোয়ার নৈপুণ্যে ঠেকে যায়। তবে ৬৬তম মিনিটে ম্যাচে বড় মোড় নেয়—বেলজিয়ামের ডিফেন্ডার নাথান এনগয়কে চাপে ফেলে বল কেড়ে নেওয়ার সময় ফাউলের শিকার হন তারেমি। রেফারি সরাসরি লাল কার্ড দেখালে ১০ জনের দলে পরিণত হয় বেলজিয়াম।
এরপরও কেভিন ডি ব্রুইনের নেতৃত্বে বেলজিয়াম আক্রমণ চালালেও ইরানের গোলরক্ষক আলিরেজা বেইরাভান্দ একের পর এক সেভ করে দলকে রক্ষা করেন। ৬৭তম ও ৮৫তম মিনিটে ডি কুইপারের দুটি নিশ্চিত গোলের সুযোগ নষ্ট করেন তিনি।
ম্যাচের যোগ করা সময়েও (৯৪ মিনিট) বেলজিয়ামের লুকেবাকিওর শট অল্পের জন্য লক্ষ্যভ্রষ্ট হলে গোলশূন্য ড্র নিয়েই মাঠ ছাড়ে দুই দল।
এই ফলাফল ইরানের জন্য স্বপ্ন জাগানিয়া হলেও বেলজিয়ামের জন্য বড় ধাক্কা হিসেবে দেখা হচ্ছে, কারণ গ্রুপ পর্ব থেকে বের হতে এখন কঠিন সমীকরণের মুখে পড়েছে ইউরোপীয় দলটি।