| বঙ্গাব্দ
Space For Advertisement
ad728

রেকর্ড গড়ে অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে বাংলাদেশের ঐতিহাসিক জয়

reporter
  • আপডেট টাইম: অগাস্ট ১৬, ২০২৬ ইং | ১১:১২:৫৫:পূর্বাহ্ন  |  ৩৫৮ বার পঠিত
রেকর্ড গড়ে অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে বাংলাদেশের ঐতিহাসিক জয়

স্পোর্ট স ডেস্ক: অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে টেস্ট ক্রিকেটে নতুন ইতিহাস লিখল বাংলাদেশ। ডারউইনে স্বাগতিক অস্ট্রেলিয়াকে ৯ উইকেটে হারিয়ে প্রথমবারের মতো তাদের ঘরের মাঠে টেস্ট জয়ের স্বাদ পেল টাইগাররা। ব্যাট হাতে তানজিদ হাসানের ঐতিহাসিক সেঞ্চুরি আর বল হাতে হাসান মাহমুদ ও মেহেদী হাসান মিরাজের দুর্দান্ত বোলিংয়ে চার দিনের লড়াইয়ে অস্ট্রেলিয়াকে পুরোপুরি কোণঠাসা করে এই জয় তুলে নেয় বাংলাদেশ।

বাংলাদেশের জয়ের জন্য প্রয়োজন ছিল মাত্র ৫৭ রান। সহজ সেই লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে এক উইকেট হারিয়েই জয়ের বন্দরে পৌঁছে যায় সফরকারীরা। অস্ট্রেলিয়ার দ্বিতীয় ইনিংস শেষ হয় ২৮৪ রানে। ফলে প্রথম ইনিংসে পাওয়া ২২৮ রানের বিশাল লিডের পর বাংলাদেশের সামনে জয়ের জন্য লক্ষ্য দাঁড়ায় ৫৭ রান।

এই জয়ের মধ্য দিয়ে অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে বাংলাদেশের টেস্ট ইতিহাসে নতুন অধ্যায়ের সূচনা হলো। একই সঙ্গে ডারউইন টেস্টে শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত দাপট দেখিয়ে নিজেদের সামর্থ্যেরও প্রমাণ দিয়েছে টাইগাররা।

ম্যাচে বাংলাদেশের জয়ের অন্যতম নায়ক তরুণ পেসার হাসান মাহমুদ। অস্ট্রেলিয়ার প্রথম ইনিংসে ক্যারিয়ারসেরা বোলিং করে ৬ উইকেট নেওয়ার পর দ্বিতীয় ইনিংসেও গুরুত্বপূর্ণ উইকেট তুলে নেন তিনি। দুই ইনিংস মিলিয়ে তার শিকার ৯ উইকেট। প্রথম ইনিংসে হাসানের ৬ উইকেটেই মাত্র ১৯৮ রানে গুটিয়ে যায় অস্ট্রেলিয়া।

অস্ট্রেলিয়ার দ্বিতীয় ইনিংসে সবচেয়ে বড় প্রতিরোধ গড়ে তুলেছিলেন ক্যামেরন গ্রিন। একসময় মনে হচ্ছিল, তার ব্যাটেই হয়তো ম্যাচে ঘুরে দাঁড়ানোর সুযোগ পাবে স্বাগতিকরা। ২০১ বল মোকাবিলা করে ৪টি চার ও একটি ছক্কায় ১০৪ রানের দুর্দান্ত ইনিংস খেলেন তিনি। ঘরের মাঠে এটি ছিল গ্রিনের প্রথম টেস্ট সেঞ্চুরি।

তবে গ্রিনের প্রতিরোধও শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশকে থামাতে পারেনি। মেহেদী হাসান মিরাজ স্পিনের জাদুতে অস্ট্রেলিয়ার ব্যাটিং লাইনআপে একের পর এক আঘাত হানেন। দ্বিতীয় ইনিংসে পাঁচ উইকেট নিয়ে স্বাগতিকদের ইনিংস গুটিয়ে দিতে বড় ভূমিকা রাখেন এই অফস্পিনার। শেষ ব্যাটার হিসেবে নাথান লায়নকে এলবিডব্লিউ করে অস্ট্রেলিয়ার ইনিংসের সমাপ্তি টানেন মিরাজ।

এর আগে বাংলাদেশের প্রথম ইনিংসেও ইতিহাস গড়েছিলেন তানজিদ হাসান। মাত্র দ্বিতীয় টেস্ট খেলতে নেমেই অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে বাংলাদেশের প্রথম টেস্ট সেঞ্চুরিয়ান হন তিনি। ১৯৭ বল মোকাবিলা করে ১০১ রান করেন এই তরুণ ওপেনার। তার সেঞ্চুরি ও দলের অন্য ব্যাটারদের দৃঢ়তায় বাংলাদেশ প্রথম ইনিংসে ৪২৬ রানের বড় সংগ্রহ গড়ে।

অস্ট্রেলিয়া প্রথম ইনিংসে মাত্র ১৯৮ রানে অলআউট হওয়ায় বাংলাদেশ ২২৮ রানের বিশাল লিড পায়। এরপর দ্বিতীয় ইনিংসে স্বাগতিকরা কিছুটা প্রতিরোধ গড়ে তুললেও বাংলাদেশের বোলারদের নিয়ন্ত্রিত আক্রমণের সামনে শেষ পর্যন্ত ২৮৪ রানে থেমে যায় তাদের ইনিংস।

দ্বিতীয় ইনিংসে অস্ট্রেলিয়ার হয়ে ক্যামেরন গ্রিনের পাশাপাশি কিছুটা প্রতিরোধ গড়েছিলেন মিচেল স্টার্ক। গ্রিনের সঙ্গে তার ৪৩ রানের জুটি অস্ট্রেলিয়াকে কিছুটা স্বস্তি দিলেও মিরাজ ও হাসান মাহমুদের বোলিংয়ের সামনে সেই প্রতিরোধ বেশিক্ষণ স্থায়ী হয়নি।

চতুর্থ দিনের শুরুতে অস্ট্রেলিয়া চার উইকেটে ১৬১ রান নিয়ে ব্যাটিংয়ে নামে। বাংলাদেশের সামনে তখনও ম্যাচ জেতার সুযোগ স্পষ্ট। দিনের শুরুতেই মিরাজ অ্যালেক্স ক্যারি, বেউ ওয়েবস্টার ও প্যাট কামিন্সকে ফিরিয়ে অস্ট্রেলিয়ার ব্যাটিংয়ের মেরুদণ্ড ভেঙে দেন। এরপর হাসান মাহমুদের গুরুত্বপূর্ণ আঘাত এবং শেষ দিকে মিরাজের পঞ্চম উইকেট বাংলাদেশকে নিশ্চিত জয়ের পথে নিয়ে যায়।

অস্ট্রেলিয়া অলআউট হওয়ার পর বাংলাদেশের সামনে ছিল মাত্র ৫৭ রানের লক্ষ্য। তানজিদ হাসান দ্রুত ফিরে গেলেও বাকি কাজ অনায়াসে শেষ করেন বাংলাদেশের ব্যাটাররা। এক উইকেট হারিয়ে লক্ষ্যে পৌঁছে ৯ উইকেটের বিশাল জয় নিশ্চিত করে টাইগাররা।

ডারউইনের এই জয় শুধু একটি ম্যাচের জয় নয় অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে বাংলাদেশের টেস্ট ক্রিকেটের জন্য এটি এক ঐতিহাসিক মাইলফলক। বোলারদের আগ্রাসন, ব্যাটারদের দৃঢ়তা এবং পুরো দলের সমন্বিত পারফরম্যান্সে অস্ট্রেলিয়াকে তাদের ঘরের মাঠেই হারিয়ে নতুন ইতিহাস গড়ল বাংলাদেশ।


রিপোর্টার্স২৪/ঝুম

ad728

নিউজটি শেয়ার করুন

ad728
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ রিপোর্টার্স২৪ - সংবাদ রাতদিন সাতদিন | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় ক্রিয়েটিভ জোন ২৪